সাদকাতুল ফিতর © সংগৃহীত
পবিত্র রমজান মাসের শেষে মুসলমানদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো সাদকাতুল ফিতর বা ফিতরা। ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে গরিব-দুঃখীদের মাঝে এই দান পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে সাম্য ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক অনন্য শিক্ষা দেয় ইসলাম। ইসলামী শরিয়তে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে মুসলমানদের ওপর সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।
সাদকাতুল ফিতর কার ওপর ওয়াজিব?
প্রত্যেক স্বাধীন মুসলমানের ওপর যার কাছে ঈদের দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য (ঘর, কাপড়, গাড়ি ইত্যাদি)-এর অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপর সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। (আল জাওহারাতুন নিয়ারাহ ১/১৭০)। পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব যার; সাদকাতুল ফিতর আদায় করার দায়িত্বও তার। তাই স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও অধীনস্থদের সাদকাতুল ফিতর আদায় করবে পরিবারের দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তি। যদি তাদের সবাই নিজ নিজ ফিতরা দিতে সামর্থ্য না রাখে। তবে নিজেরাই নিজেদের ফিতরা আদায় করা উত্তম। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি. বলেন, গোলাম, স্বাধীন, পুরুষ, নারী, ছোট, বড় সব মুসলিমের ওপর রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ‘সা’ খেজুর, অথবা এক ‘সা’ গম জাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন এবং নামাজের পূর্বে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। (মুসলিম ৯৮৪)।
কী দিয়ে আদায় করবেন?
সাদকাতুল ফিতর সম্পর্কিত হাদীসগুলো পর্যালোচনা করলে এ বিষয়ে মোট পাঁচ প্রকার খাদ্যের বর্ণনা পাওয়া যায়: যব, খেজুর, পনির, কিসমিস ও গম। হাদীসে এ ৫টি দ্রব্যের যেকোনোটি দ্বারা ফিতরা আদায়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে যেন মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ্য ও সুবিধা অনুযায়ী এর যেকোনো ১টি দ্বারা তা আদায় করতে পারে। এ পাঁচ প্রকারের মধ্যে যব, খেজুর, পনির ও কিসমিস দ্বারা সদকা ফিতর আদায় করতে চাইলে প্রত্যেকের জন্য এক সা’ দিতে হবে। আর গম দ্বারা আদায় করতে চাইলে আধা ‘সা’ দিতে হবে। (তিরমিযী ১/৮৫ আবু দাউদ ১/২২৯ মুয়াত্তা মালেক ১২৪ মুসনাদে আহমদ ৬/৩৪৬ শরহু মাআনিল আছার ১/৩৫০ মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫০১ আলইসতিযকার ৯/৩৫৫)। তবে যেহেতু উপরোক্ত খাদ্যবস্তুর পরিবর্তে সেগুলোর মূল্য আদায় করারও অবকাশ আছে। সেহেতু উল্লেখিত খাদ্যবস্তুগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটিকে মাপকাঠি ধরে তার সমমূল্যও সদাকাতুল ফিতর হিসাবে আদায় করা যাবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা-৩/১৭৪ )।
কখন আদায় করবেন?
এটি ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে আদায় করা উত্তম। হাদীস শরীফে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) সাদকাতুল ফিতরের বিধান দিয়েছেন- রোযাদারকে অনর্থক ও অশ্লীল কথা থেকে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের পূর্বে তা আদায় করবে তার জন্য তা মাকবুল সদকা হবে। আর নামাযের পর আদায় করলে তা অন্যান্য সদকার মতো হবে। (আবু দাউদ ১৬০৯) অবশ্য কোনো কোনো সাহাবী থেকে ঈদের কয়েকদিন পূর্বেও ফিতরা আদায়ের কথা প্রমাণিত আছে।
কাকে দেওয়া যাবে?
যারা যাকাত পাওয়ার অধিকার রাখে তারাই সাদকায়ে ফিতরের হকদার। যেসব খাত ও ব্যক্তি যাকাতের হকদার নয়, তাদের ফিতরা দেয়া যাবে না। (ফাতাওয়া শামী ৩/৩২৫) আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, সাদকা হলো কেবল ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদের হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য, এই হলো আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৬০)
উল্লেখ্য, একজনের ফিতরা একজন ফকিরকে দেওয়া উত্তম। একজনের ফিতরা কয়েকজন ফকিরকে বন্টন করে দেওয়া কমপক্ষে মাকরূহে তানযীহী। তবে কয়েকজনের ফিতরা একজনকে দেওয়া জায়েজ আছে, কোন অসুবিধা নেই । (ফাতাওয়া শামী ৩/৯২১) [সূত্র: মুসলিম বাংলা]