ভাসমান কোমল পানীয়ের দোকান © টিডিসি ফটো
সরকারি তিতুমীর কলেজের মূল ফটকের পাশে ভাসমান কোমল পানীয়ের দোকান বসানোর অভিযোগ উঠেছে তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের তিন নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রভাবশালী যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ, শহীদ মামুন হল ছাত্রদলের সভাপতি আবু ত্বহা ও ছাত্রদল নেতা সাগর।
এর আগে একই স্থানে ‘ফুড ফিউশন’ নামে একটি স্টল বসিয়েছিলেন কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তখন কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্টের অভিযোগে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শিপ্রা রানী মণ্ডলের নির্দেশে কলেজের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কমিটি ও ক্যান্টিন কমিটি স্টলটি সরিয়ে দেয়।
তবে সম্প্রতি ওই স্থানে আবারও ছাত্রদল নেতাদের নির্দেশে কোমল পানীয়ের নতুন স্টল বসানো হয়েছে। স্টলদাতা আব্দুর রহমান জুনায়েদ বলেন, ‘তিতুমীর কলেজের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ, সাগর কাকা ও শহীদ মামুন হল ছাত্রদলের সভাপতি আবু ত্বহা আমাকে এখানে বসিয়েছে। আমি শুধু বিক্রি করতেছি, যেহেতু এই জায়গাটা খালি আছে। প্রিন্সিপাল যদি উঠে যেতে বলে তাহলে উঠে যাব। বলার আগ পর্যন্ত যে কয়েকদিন দোকান করতে পারি।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের গেটের সামনে আগেই একবার দোকান বসানো হয়েছিল। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যের কথা চিন্তা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের উঠিয়ে দিয়েছিল। এখন পুনরায় একটি দোকান বসানো হয়েছে। এর ফলে আবারও ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে।
কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্টের অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া ফুড ফিউশনের উদ্যোক্তা ইসরাত জাহান শ্রাবন্তী বলেন, ‘আমাদের ফুড ফিউশন স্টল ছিল কলেজ গেটের সামনে। সেই সময় গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক রেজায়ে রাব্বি জায়েদ প্রতিদিন হুমকিস্বরূপ স্টলটি সরিয়ে নিতে বলতেন এবং প্রথমে তিনিই কলেজ প্রশাসনে অভিযোগ করেন। তারপর তৎকালীন অধ্যক্ষ শিপ্রা রানী মন্ডল ও নিরাপত্তা কমিটির প্রধান এম.এম. আতিকুজ্জামান স্যার একদিনের নোটিশে দুপুর ২টার মধ্যে স্টল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তখন আমাদের স্টলে প্রায় ২০০টি সিঙ্গারা ও অন্যান্য খাবার ছিল, কিন্তু বিক্রির সুযোগ না দিয়েই স্টলটি সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এখন বহিরাগতরা একই জায়গায় ২ মাস ধরে আরেকটি স্টল বসিয়েছে। অথচ কলেজ প্রশাসনের কেউ এই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ এখনো পর্যন্ত নেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে যে জুস বারটি রয়েছে, তা ছাত্রদল নেতা হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। তারা বলেছে, কেউ এই স্টল সরাতে পারবে না।’
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক রেজায়ে রাব্বি জায়েদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অভিযোগ করিনি। অভিযোগটি ক্যান্টিন কমিটির পক্ষ থেকে করা হয়। আমি বরং বলব, আমি যদি অভিযোগ করে থাকি, তা প্রশংসনীয়, কারণ কলেজ গেটের সামনে স্টল বসানো উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে যে জুস বার রয়েছে, সেটি ছাত্রদলের এক নেতার বলে শুনেছি এবং আজকে আমি স্টলটি দেখে প্রতিবাদ করেছি।’
কলেজের নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক এম.এম. আতিকুজ্জামান বলেন, ‘মূল ফটকের সামনে কোনো স্টলের অনুমতি আমরা দিইনি। এই স্টলের ব্যাপারে আমরা আগে জানতাম না। এখন জেনেছি, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ক্যান্টিন কমিটির আহ্বায়ক ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ সরোয়ার মোর্শেদ খান বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। তবে আমি শৃঙ্খলা কমিটিকে অবগত করব এবং কলেজে গিয়ে বিষয়টি দেখব।’
অভিযুক্ত তিতুমীর কলেজের ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমাদের বড় ভাই সাগর জুনায়েদকে দোকানটি বসিয়ে দিয়েছিল। যেহেতু অসুবিধা হচ্ছে আগামীকাল থেকে ওরে বসতে নিষেধ করব।’