মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আন্দোলন ঠেকাতে ছাত্রদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দিয়েছিল প্রশাসন

১৬ জুলাই ২০২৫, ১০:৪১ AM , আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৫, ০৬:২৫ AM
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি সম্পাদিত

কোটাবিরোধী আন্দোলনে যখন উত্তাল সারাদেশ, তখন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ছিল নিস্তব্ধ। শিক্ষার্থীদের একাংশ তখন সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলছিলেন—আমাদের ক্যাম্পাসে কেন কোনো প্রতিবাদ হচ্ছে না? সিনিয়ররা কোথায়?, ডাক দিলেই তো সবাই যাবে।

এই নীরবতা ভেঙে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রাকিব। তার ভাষ্য, কেউ না এগোলে আমি একাই আন্দোলন করব। এই প্রত্যয়ে তিনি ৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপে ঘোষণা দেন, আমি একাই আগামীকাল সকাল ১০টায় ১২ তলার সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়াবো।

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টটি ভাইরাল হয়। সেদিন লাইব্রেরিতেও আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা হয়। রাতে ১২তলা বিশিষ্ট ভবনের সামনে প্রথম মিটিং হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৌকির নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী, যিনি দিকনির্দেশনা দেন। ব্যানার বানানো, লিফলেট বিতরণ, চাঁদা তোলা সব কিছুতেই অংশ নেন ইমরান কায়েস, আখিল ও মুষ্টিমেয় কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এই ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় নানা ধরনের হুমকি ও নজরদারি। পরদিন সকালে একটি অচেনা নম্বর থেকে রাকিবের ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন আসে। ফোন করে একজন এনএসআই কর্মকর্তা, যিনি নম্বর সেভ করে রাখতে বলেন এবং জানতে চান কতজন আন্দোলনে আসছে। সেইসঙ্গে দেওয়া হয় চাপ সৃষ্টিকারী নানা প্রশ্ন ও হুমকি। তবে হুমকি পেয়েও পিছিয়ে যাননি তিনি। নিজ হাতে লিফলেট লিখে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু এরপরই শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক চাপের চক্র। 

এরপর ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় অ্যাকাডেমিক ভবন-২ এর পুকুরপাড়ে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক, ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি ও আরও কিছু নেতাকর্মী। তারা রাকিবকে ঘিরে সাফ জানিয়ে দেন, তোমার ডিপার্টমেন্ট থেকে কেউ আন্দোলনে যাবে না, কেউ গেলে সে আর ফিরে আসবে না।

একই রাতে আবারও ডেকে নেওয়া হয় শেখ রাসেল হলের ৪০১ নম্বর কক্ষে। সেখানে এক বন্ধুকে আন্দোলনে বাধা না দেওয়ার অভিযোগে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অভিযোগ তোলা হয়, তুই তো বলছিলি, আবিরকে থামাবি! অথচ ফোনই করিসনি... মিথ্যা বলেছিস তুই।

রাকিবের দাবি, এই নির্যাতনের পেছনে ছিল তারই ডিপার্টমেন্টের এক ছাত্রনেতার পরোক্ষ নির্দেশ।

পরদিনও রাকিব আন্দোলনে সক্রিয় থাকেন, অংশ নেন মহাসড়ক অবরোধে। এরপর থেকেই শুরু হয় প্রশাসনিক হয়রানি। তাকে ‘নাশকতার নেতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার তথ্য পাঠানো হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। রাকিবের অভিযোগ, তার তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই সরবরাহ করেছে।

তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে পড়ে যান তিনি। ডিজিএফআই সদস্য তার গ্রামের চেয়ারম্যানকে ডেকে বলেন— তিনি নাশকতার নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে শুরু হয় তার গা ঢাকা দেওয়ার জীবন—কখনো পাটের গুদামে, কখনো আত্মীয়ের বাসায়, আবার কখনো পুকুরপাড়ে কাটাতে হয় দিনরাত। এক কাপড়ে থাকতে হয়েছে দিনের পর দিন, খাওয়া-দাওয়ার ঠিক ছিল না, ছিল না স্নানের ব্যবস্থাও।

স্থানীয় এক ব্যক্তি তার বাবার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন সমস্যা মেটানোর নামে। কিন্তু রাকিব স্পষ্ট জানিয়ে দেন— আমি মরে গেলেও এই টাকা দেব না, কারণ আমি কোনো অন্যায় করিনি।

রাকিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অথচ তারা আমাদের নিরাপত্তার পরিবর্তে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে দিয়ে বিপদে ফেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমার পুরাতন নম্বরে ফোন করা হয়েছিল, যেটা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় ব্যবহার করেছিলাম। সেখানে আমাকে ‘মেহেদী’ নামে ডাকা হয়, অথচ আমার পরিচিত কেউ এই নামে ডাকেন না। এতে পরিষ্কার, তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই গিয়েছে।

রাকিবের দাবি, যারা আমাদের তথ্য সরবরাহ করেছে, আমি তাদের শাস্তি দাবি করছি। শিক্ষার্থীর তথ্য অনুমতি ছাড়া সরবরাহ করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এর তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

রাকিব জানান, ৬ আগস্টে এক ডিজিএফআই সদস্য বলেন, আপনার তথ্য আপনার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেন্ট্রালে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সবার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের ডাক দেওয়া সেই তরুণ বলেন, পরিবার আর কাছের মানুষের ভালোবাসা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমার বোন চেয়ারম্যানের সঙ্গে তর্ক করেছেন, ভাইয়েরা পাশে থেকেছেন। এমনকি, আন্দোলনের সময় আমার বোন নিজে হাতে পানি আর বিস্কুট বিতরণ করেছেন আন্দোলনকারীদের মাঝে।

যে পাঁচ কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি হলো ট্রাম্পের
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
এইচএসসির ফলাফলে ধস, শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে মাইকিং
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
দুই যুগেও মেলেনি এমপিও, ঋণের চাপে সর্বস্বান্ত হয়ে প্রাণ গেল…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
হামের টিকা নিয়ে তদন্ত করছে সরকার
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জায়গা দখল করে ছাত্রদল নেতার অবৈধ দোকান, নিউজ করায় সাংবাদিকে…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950