বশেমুরবিপ্রবিতে যৌন হয়রানিকারী শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ

০৭ এপ্রিল ২০১৯, ১২:২২ PM
বশেমুরবিপ্রবিতে যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ

বশেমুরবিপ্রবিতে যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ © টিডিসি ফটো

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক ইঞ্জি. মো. আক্কাছ আলীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী একপর্যায়ে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যানের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানিকারী শিক্ষককে বহিষ্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে বশেমুরপ্রবি। আজ রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলন করছেন। এতে শত শত শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।

সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে পুনরায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন তারা।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষক কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক ইঞ্জি. মো. আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। 

নম্বর বেশি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগে জানিয়েছেন ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ওই দুই ছাত্রী। পাশাপাশি অভিভাবকদেরকে সঙ্গে নিয়েও বিভাগীয় শিক্ষকদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।

আরো পড়ুন: রেজাল্টের প্রলোভনে বশেমুরবিপ্রবি’র দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি!

সকালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরুর পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ওই শিক্ষককে চেয়ারম্যানের পদ থেকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা বলা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা এ আশ্বাস না মেনে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। তারা পাঁচ দফা দাবি মেনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানিকারী শিক্ষক আক্কাস আলীকে চাকরিচ্যুত করাসহ পাচঁদফা দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা। দাবির মধ্যে রয়েছে, অনতিবিলম্বে আক্কাস আলীকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করাসহ ক্যাম্পাসে আজীবন অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে হবে; ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা যাতে কোনরকম হয়রানির শিকার না হয় সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো শিক্ষক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার হুমকি দিতে পারবেনা এবং এধরণের হুমকি দিলে শাস্তির ব্যবস্থা করা; কোন শিক্ষক কার্যদিবস ছাড়া ডাকতে পারবেনা এবং ডিপার্টমেন্টাল অফিস ছাড়া কোথাও ডাকতে পারবেনা; এবং অনতিবিলম্বে ডিপার্টমেন্টভিত্তিক ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সকল অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেও আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনোরূপ ব্যবস্থা নেয়নি। এজন্য তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। কোনো যৌন হয়রানিকারীকে তারা শিক্ষক হিসেবে মানবো না।’

তারা আরো জানান, একজন শিক্ষার্থী বাস সংকট আবাসন সংকট নিয়ে কথা বললেও বহিষ্কার হতে হয়। যেখানে শিক্ষার্থীরা সামান্য ফেসবুক পোস্টের জন্য বহিষ্কার হয়। সেখানে একজন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যৌন হয়রানির জন্য চাকরিচ্যুত করা হবেনা?

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন বিভাগের ডিন মোঃ আব্দুল কুদ্দুস মিয়া জানান, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে এবং অতি দ্রুত আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

প্রাথমিকে নতুন করে ‘মিড-ডে মিল’ চালু হচ্ছে ৩৪৯ উপজেলায়
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
মাদক সিন্ডিকেটের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর ও…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
মানবাধিকার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মশালা
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড পারিশ্রমিক ঘোষণা
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরি সিনোভিয়া ফার্মায়, নেবে সেলস এক্সিকিউটিভ
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবিধানের দোহাই দিয়ে নতুন ফ্যাসিবাদের পথে সরকার: এবি পার্টি
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬