সমালোচনার মুখে ‘বৈশাখ-ই আকবর’ নাম পরিবর্তন করল রাবি ছাত্রশিবির

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৫ PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রশিবির

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রশিবির © টিডিসি সম্পাদিত

সমালোচনার জেরে শেষ পর্যন্ত নিজেদের ঘোষিত অনুষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবির। ভিন্ন আঙ্গিকে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে তারা ‘বৈশাখ-ই আকবর’ নামে একটি অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা উঠলে, আয়োজনের একদিন আগেই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি।

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথা ছিল। এ সংক্রান্ত একটি পোস্টও গত রবিবার (১২ এপ্রিল) ছাত্রশিবিরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। তবে নামকরণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তারা নতুন নামে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

ফেসবুকের এক পোস্টে লেখা হয়, বাংলা নববর্ষের ইতিহাস, গ্রামীণ চিরায়ত জীবনধারা ও মুসলিম ঐতিহ্যের প্রদর্শনী নিয়ে ‘বৈশাখ-ই আকবর’ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। পহেলা বৈশাখের উল্লেখ না করে পোস্টে জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ঈসায়ী তারিখে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই আয়োজন চলবে। 

তবে এরপরেই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওঠে সমালোচনার ঝড়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসভাপতি শেখ নূর উদ্দিন আবীর তার ফেসবুকে লেখেন, “মোঘল সম্রাট আকবর ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন মৌলিক নীতিকে পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে ‘দীন-ই-ইলাহী’ নামে একটি অদ্ভুত ধর্মের প্রচলন করেছিলেন। দীন-ই-ইলাহীর কার্যক্রমগুলো ছিল সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী ও কুফরি।

সেই সম্রাট আকবরকে ইসলামি সুফি বানিয়ে, তার কার্যক্রমকে মুসলিমদের ঐতিহ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির পহেলা বৈশাখের ইসলামি সংস্করণ ‘বৈশাখ-ই আকবর’ নামের প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। বেশ! ছাত্রশিবির আজকাল ইসলামবিরোধী দীন-ই-ইলাহীকে সমর্থন করছে।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের আয়োজন নিয়ে আরো অনেকে সমালোচনায় মুখর হন। এরপর সোমবার দুপুরে হঠাৎ করে বদলে যায় আয়োজনের নাম। একইসঙ্গে ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় আগের পোস্ট।

পহেলা বৈশাখের ঠিক আগের দিন বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের ফেসবুক পেজে নতুন এক পোস্টে জানানো হয়, তাদের আয়োজনের নাম হবে ‘নববর্ষ প্রদর্শনী উৎসব ১৪৩৩’।

নাম পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে পোস্টে লেখা হয়, “বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আবহমান গ্রাম-বাংলার সংস্কৃতির নানা উপাদান নিয়ে প্রদর্শনী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির থেকে। প্রদর্শনীর টাইটেল নিয়ে আমাদের সুধী-শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে বিতর্ক ও আপত্তি থাকার কারণে উক্ত টাইটেলটি পরিবর্তন করা হয়েছে। ইসলামের মৌলিক বিষয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সম্রাট আকবর এবং তার প্রবর্তিত ‘দ্বীন-ই-ইলাহি’ কে প্রমোট করার উদ্দেশ্যে আমাদের এ আয়োজন ছিল না। আমরা ইতিহাসের মূলে গিয়ে এর সুলুক সন্ধান করতে চেয়েছি। আপনাদের সবার সমালোচনা আমরা গ্রহণ করে নিয়েছি।”

তবে এই পোস্টেও ‘পহেলা বৈশাখ’ তারিখ এড়িয়ে গিয়ে লেখা হয়েছে ‘১৪ এপ্রিল ২০২৬ ঈসায়ী’। 

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব বলেন, সম্রাট আকবরের সময় থেকেই বৈশাখী সনটা চলে আসছে। উনার রাজদরবারের ফতেউল্লাহ সিরাজির মাধ্যমেই মূলত বাংলায় প্রথম ফসলি সন চালু হয়। এ কারণেই আমরা বৈশাখ-ই আকবর নামটা দিয়েছিলাম। তবে পরে দেখা যাচ্ছে, এই নামটা নিয়ে আমাদের সুধী শুভাকাঙ্ক্ষীসহ বিভিন্ন মহল থেকে অনেক বেশি বিতর্ক আসছে। সে কারণেই আমরা এই নামটা আপাতত রাখতে চাচ্ছি না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এক্সিকিউটিভ বডি মনে করছে, এই নামটা চেঞ্জ হওয়া দরকার। সেই জায়গা থেকে নামটা চেঞ্জ করছি। নাম বলতে শুধু টাইটেলটা চেঞ্জ করছি। টাইটেলটা এখন হবে নববর্ষ প্রদর্শনী উৎসব ১৪৩৩।

স্কলারশিপে স্নাতক-স্নাতকোত্তরের সুযোগ ইতালির পাদোয়া বিশ্ববি…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
জনবল সংকট, রুয়েটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঝুঁকিতে
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সিনিয়র এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে অলিম্পিক, আবেদন শেষ ২৬ এপ্রিল
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
আনন্দ-সম্প্রীতির নববর্ষ
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রকৌশলীকে লাঠি হাতে…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
এক মুরগি তিনবার জবাই করা চলবে না: শিক্ষামন্ত্রী
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬