© টিডিসি ফটো
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে এবং ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের সামনে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ইংরেজি বিভাগের ১৬-১৭ সেশনের বেলাল হোসেন, ইতিহাস সেশনের ১৬-১৭ সেশনের অমিত রায়, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের ইয়াসিন আরাফাত কাইসার, সিফাত উল্লাহ সরকার, খালেদ মাসুদ ও সাকিব হাসান। এদিকে এখনো আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
বিবাদমান দুটি গ্রুপ সিএফসি ও বিজয় উপ শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গত ৩১ মার্চ উভয় পক্ষের মধ্যে ফেইসবুকে হা হা রিয়্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ আব্দুর রব হলের মাঠে খেলতে গেলে বিজয় গ্রুপের কর্মী ও দর্শন বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আবু বক্করকে মারধর করে সিএফসির কর্মীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজয় গ্রুপ সোহরাওয়ার্দী হল এবং সিএফসি গ্রুপ শাহ আমানত হলের সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উভয় পক্ষ ইট পাটকেল ছোড়াছুড়ি করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরও পড়ুন: চবির হল থেকে ১২৮রাউন্ড গুলিসহ ২টি পাইপগান উদ্ধার
বিজয় গ্রুপের নেতা ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর জীবন বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে একটা পক্ষ আমাদের নেতা নওফেল ভাইয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে।
সিএফসি গ্রুপের নেতা রেজাউল হক রুবেল বলেন, একটা পক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমাদের মাঝে সংঘাত সৃষ্টি করে চলছে। আমরা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে কথা বলব।
হাটহাজারি মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যকার সংঘর্ষ হলে আমরা ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিক ৬ জনকে গ্রেপ্তার করি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে সোমবার মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালিয়ে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১২৬ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় রাতে একযোগে পাঁচটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে দুটি এক নলা বন্দুক, থ্রি নট থ্রি বন্ধুকের ১২৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও হলের বেশ কয়েকটি আবাসিক কক্ষ থেকে ১২টি রামদা, রড ও লাঠিসোঁটা উদ্ধার করা হয়। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।