দুর্ঘটনায় জাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে প্রতিবাদের ঝড়

২৯ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:১৫ PM

রাজধানীর ধানমন্ডিতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে ছিটকে আসা লোহার রডের আঘাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী মাহমুদ বিন আশরাফ প্রান্ত’র মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় শুরু হয়েছে। এই মৃত্যুকে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে প্রতিবাদ করেছে জাবি দর্শন বিভাগ। দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট, জাবি সাংস্কৃতিক জোট ও মেহেরপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ কমিটি।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাবি দর্শন বিভাগের আয়োজনে নতুন কলা ভবনের সামনে থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধনে একত্রিত হয়।

মানববন্ধনে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘মানববন্ধন ও র‌্যালি করেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হবে না। আমাদেরকে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে দুর্ঘটনায় আর কাউকে প্রাণ হারাতে না হয়। আমরা মনে করি শান্তা প্রোপার্টিজের অসাবধানতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও পরবর্তীতে হাসপাতালগুলোর দায় এড়িয়ে যাওয়াও এ মৃত্যু অন্যতম একটি কারণ।’ তাই হাসপাতালগুলোর বাণিজ্যিকিকরণ বন্ধ করার দাবিও জানান তিনি।

দর্শন বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফয়সাল মাহমুদ শান্ত’র সঞ্চালনায় বিভাগের শিক্ষক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষকরা পিতার মতো। পিতার কাছে সন্তানের মৃত্যুর ভার বহন করা অনেক কঠিন।’ এই মৃত্যুর জন্য দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করে তিনি আরো বলেন, মাহমুদের মৃত্যুর শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। সেই শক্তি দিয়ে দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

এ সময় মাহমুদের সহপাঠী মীর হাসিবুল হাসান রিশাদ বলেন, ‘এভাবে আর কেউ যেন তার বন্ধুকে না হারায় সে জন্য এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’ তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও ব্যক্ত করেন তিনি।

পরে শিক্ষার্থীরা চারদফা দাবিতে উপাচার্য বরাবার একটি স্মারকলিপি দেয়। তাদের দাবিগুলো হলো- তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমতিপত্র বাতিল; জরুরী চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানানোয় হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভবন নির্মাণ নীতিমলার বাস্তবায়ন।

এদিকে মাহমুদের মৃত্যুকে একটি অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড আখ্যা দিয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সভাপতির কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে দর্শন বিভাগ। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুর বলেন, মাহমুদের মৃত্যুর জন্য ডেভেলপার কোম্পানীর অবহেলা যেমন দায়ী ঠিক তেমনি হাসপাতালগুলো দায়িত্বহীনতাও দায়ী। মুমূর্ষু অবস্থায় মাহমুদকে যখন পর পর দুইটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়া হয় তখন তারা নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পাওয়ায় তার মৃত্যু। এজন্য মাহমুদের পরিবারের সাথে কথা বলে বিভাগের পক্ষ থেকে শানটা প্রপার্টিজ ও দুইটি প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও জানান বিভাগটির সভাপতি।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে একই দাবিতে মানববন্ধন করে মেহেরপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি।

জনবল সংকট, রুয়েটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঝুঁকিতে
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সিনিয়র এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে অলিম্পিক, আবেদন শেষ ২৬ এপ্রিল
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
আনন্দ-সম্প্রীতির নববর্ষ
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রকৌশলীকে লাঠি হাতে…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
এক মুরগি তিনবার জবাই করা চলবে না, শিক্ষামন্ত্রী
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নৌবাহিনীতে বেসামরিক পদে নিয়োগে বড় বিজ্ঞপ্তি, পদ ১১০, আবেদন …
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬