ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট আয়োজনে অনীহা টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের

১৫ মে ২০২৪, ১২:২৫ PM , আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৫, ০৫:১৭ PM
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিটে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিটে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) ফ্যাক্টরি বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট আয়োজনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতি সেমিস্টারে বিভাগভিত্তিক একটি করে ভিজিট হওয়ার কথা থাকলেও সেটি নিয়মিত হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। 

তবে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানালেও ভিন্ন কথা বলছেন শিক্ষকরা। তাদের দাবি, বিভাগে শিক্ষক সংকট, একসাথে বেশি শিক্ষার্থী ইন্ডাস্ট্রি গ্রহণ না করা, বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ে জটিলতা, কেন্দ্রীয়ভাবে ভিজিটের প্রক্রিয়া না থাকা, বারবার চেষ্টার পরও ইন্ডাস্ট্রি গ্রহণ না করাসহ নানা কারণে ভিজিট নিয়মিত আয়োজন করা যাচ্ছে না।

টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১০টি বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এখানকার পাস করা শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। প্রযুক্তির উন্নয়নের এ যুগে সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে টেক্সটাইল সেক্টর। এতে অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদানের সাথে কর্মক্ষেত্রের অনেক কিছুই মিল পান না শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া সকল বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞানার্জনের সুযোগও হয়ে উঠে না শিক্ষার্থীদের। তাই তাদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে মিল রেখে ব্যবহারিক জ্ঞানার্জন, টেক্সটাইলের আধুনিক বিষয়াদির সাথে পরিচয়, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়ে ধারণা নেওয়া এবং টেক্সটাইলের বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে সম্যক ধারণা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রতি সেমিস্টারে টেক্সটাইল ফ্যাক্টরিতে শিক্ষার্থীদের বিভাগভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিটে নিয়ে যাওয়ার নিয়ম রয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিটের সমস্ত ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কিংবা ভাড়া করা যানবাহনে শিক্ষার্থীরা শ্রেণি কো-অর্নিনেটরের তত্ত্বাবধানে ভিজিটে যান। ফ্যাক্টরি নির্বাচন থেকে শুরু করে ট্যুরের যাবতীয় বিষয়াদি আয়োজন করে থাকেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর।

২০২৩ সালের ২৬ জুন বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, বুটেক্সের ৪৪তম থেকে ৪৭তম ব্যাচের প্রতি বিভাগে সম্পন্ন হওয়া সেমিস্টার বিবেচনায় মোট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট হওয়ার কথা ছিল ২০২টি। যা বাস্তবে হয়েছে মাত্র ১০৬টি। ভিজিট আয়োজনের বিষয়টি অন্যান্য ব্যাচের ক্ষেত্রেও নিয়মমাফিক না হওয়ার চিত্র দেখা যায়।

৪৬তম ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তাদের ব্যাচে প্রতি বিভাগে ৬টি করে ভিজিট হওয়ার কথা থাকলেও প্রতি বিভাগে সবচেয়ে কম ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট হয়েছে এমন বিভাগগুলো হলো ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন, ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। মাত্র ২টি করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট সম্পন্ন করেছে এসব বিভাগগুলো।

তাছাড়া ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের ৩টি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪টি, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫টি ভিজিট সম্পন্ন হয়েছে। 

এ বিষয়ে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, আমাদের ৬টা সেমিস্টার শেষ হতে চললো, কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ২টা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট হয়েছে। আরেকটি হওয়ার আলোচনা চলছে। ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট থেকে আমরা বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির কর্ম পরিবেশ, বিভিন্ন প্রক্রিয়া, প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ভালো ধারণা পাই। যা আমাদের জব সিলেকশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

একই ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান বলেন, উপাচার্য স্যারের ভাষ্যমতে আমাদের কমপক্ষে ৫টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট দরকার। নিটিং, উইভিং, স্পিনিং, ডাইয়িং এবং কম্পোজিট সম্পর্কে জানলে মোটামুটি প্রোডাকশন নিয়ে ভালো একটা আইডিয়া হবে আমাদের। ৩য় বর্ষ প্রায় শেষের দিকে, কিন্তু আমাদের এ পর্যন্ত মাত্র ২টা ভিজিট সম্পন্ন হয়েছে। সবাই ব্যাপারটি নিয়ে এত চিন্তিত থাকার পরও কেন হচ্ছে না ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট তা আমাদের জানা নেই।

একই ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম পিবর জানান, আমাদের প্রথম ভিজিট হয় একটা কম্পোজিট ফ্যাক্টরিতে। সেখানে কাটিং সেকশন, ডায়িং সেকশন থেকে শুরু করে মোটামুটি সবকিছুই ছিল। আর দ্বিতীয় ভিজিটে আমাদের ইয়ার্ন-ফেব্রিক ডায়িং এবং প্রিন্টিংয়ের একটি ফ্যাক্টরি ভিজিটে নিয়ে যাওয়া হয়। করোনার কারণে আমাদের প্রথম বর্ষে কোনো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট হয় নি, এটা একটি কারণ হতে পারে কম ভিজিট হওয়ার। তাছাড়া অন্যান্য প্রতিবন্ধকতাও থাকতে পারে। 

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট নিয়মিত কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের কো-অর্ডিনেটর শিক্ষক ইমরান হোসেন জানান, ইন্ডাস্ট্রিয়ার ট্যুরে যেসব সমস্যা হয় তার মধ্যে প্রথম সমস্যা হলো ট্যুর ম্যানেজ করা। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে যদি কোনো পদ্ধতি থাকতো যে একবার এক বিভাগ এক ইন্ডাস্ট্রিতে যাবে, তাহলে সুবিধা হতো। তাছাড়া ট্যুর থেকে এসে অনেক কাজ থাকে। আর্থিক ব্যাপারটাও আরও একটু সহজ করা যেতে পারে। আবার পরিবেশগত কারণে অনেকসময় হয়ে উঠে না। একসময় করোনার কারণে হয়নি। প্রচন্ড গরমেও হয়ে উঠে না। এছাড়া শিক্ষার্থীরা একটা বিষয় জানা ছাড়াই ইন্ডাস্ট্রিতে দেখে আসলে অনেকসময় ফলপ্রসূ হয় না, এতে তাদের বুঝতে সমস্যা হয়।

তিনি বলেন, বিভাগে শিক্ষক সংকট আছে।  এতে করে একজন শিক্ষককে বারবার যাওয়া লাগে, ইন্টার ডিপার্টমেন্ট টিচার নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে এ ব্যাপারটি সহজ হতো। শিক্ষকদের ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি আরও নানা ধরনের কাজ করা লাগে। ইন্ডাস্ট্রি ম্যানেজ করা কষ্ট হয়ে যায়, সময় সাপেক্ষ ব্যাপারও। আমার কাছে মনে হয় প্রতি ৬ মাসে টুরের দরকার হয় না। এক বছরে একবার গেলেই হয়। আমরা ওয়েট প্রসেস বিভাগ সবসময় যে আমাদের বিভাগ সংক্রান্ত ইন্ডাস্ট্রিতে যেতে হবে এমন তো নয়। যে সেমিস্টারে ফেব্রিক, ইয়ার্ন পড়ায় ওই সেমিষ্টারে ওই রিলেটেড ইন্ডাস্ট্রিতে যাওয়া যেতে পারে।

ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কো-অর্ডিনেটর শিক্ষক মো. মোহাদ্দেস হোসেনও বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতি সেমিস্টারে ১টা করেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর হওয়ার কথা, কিন্তু শিক্ষক সংকটের জন্য সেটা হয়ে উঠে না। কিছু শিক্ষক সংকট রয়েছে আমাদের, অনেকে বিদেশে অবস্থান করছেন। আমরা উইভিং, নিটিং ছাড়া করাই না। এতে করে ইন্ডাস্ট্রি পেতে সমস্যা হয়। প্রথম বর্ষে মূলত ফাইবার, পলিমার পড়ানো হয়। বাংলাদেশে এসব সংক্রান্ত ইন্ডাস্ট্রি খুব একটা নেই, যদি থাকতো তাহলে ভালো হতো।

তিনি বলেন, ৪৬তম ব্যাচের প্রথম এক থেকে দেড় বছর করোনার জন্য ভিজিট হয়নি। তবে পরবর্তী ব্যাচদের নিয়মিত হচ্ছে। এখন চেষ্টা করা হচ্ছে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে যোগাযোগ করার। আগে ইন্ডাস্ট্রিতে বড় ভাই যারা আছেন তাদের বললেই হতো, কিন্তু এখন ম্যানেজিং ডিরেক্টরের সাথে যোগাযোগ করা লাগে ট্যুরের জন্যে। রেসপন্সও অনেক কম আসে, তাও চেষ্টা চলছে। অনেক সময় শেষ মুহুর্তে এসে ফ্যাক্টরি না করে দেয় অডিট বা অন্য কোনো কারণ দেখিয়ে। অনেক সময় যখন আমরা যোগাযোগ করি তখন বিভাগের ৭০-৮০ জন শিক্ষার্থী সংখ্যা শুনলে তারা একটু ইতস্ত করে। দুই ধাপে আসার জন্য বলেন। একই ব্যাচকে দুই ধাপে নেওয়া নিয়ম নেই, এতে করে ইন্ডাস্ট্রি ম্যানেজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও প্রতি সেমিস্টারে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যায়, তাও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 
ভুটানের বিপক্ষে একাদশে ৩ পরিবর্তন, স্ট্রাইকারের ভূমিকায় ‘চম…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
এনএসইউতে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে …
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
রোনালদোর বিদায়ে বোনের আবেগঘন বার্তা, রহস্যময় মন্তব্যে বাড…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এ ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের ১৬…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শুভসূচনা ভারতের
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
জামায়াতের সঙ্গে জোট ও কাউন্সিল ছাড়া কমিটিসহ যে ৪ কারণে এনসি…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950