৫৭ বছরে পা রাখল সরকারি তিতুমীর কলেজ

০৭ মে ২০২৪, ০৯:৪১ AM , আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৫, ০৫:২৪ PM
৫৭ বছরে পা রাখল সরকারি তিতুমীর কলেজ

৫৭ বছরে পা রাখল সরকারি তিতুমীর কলেজ © সংগৃহীত

৫৬ পেরিয়ে ৫৭ বছরে পা রেখেছে ছাত্র সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি তিতুমীর কলেজ। ১৯৬৮ সালের ৭ মে গোড়াপত্তন হয়েছিল এই বিদ্যাপিঠের। সে সময়ে কলেজটি জিন্নাহ কলেজ নামে পরিচিত ছিল। পরে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম শহীদ মীর নেছার আলী তিতুমীরের নামে নামকরণ করা হয়।

১১ একর জুড়ে বিস্তৃত সবুজ ঘেরা এই ক্যাম্পাসের রয়েছে সুদীর্ঘ গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস। হাজারো বিদ্যার্থীদের পদচারণায় মুখরিত এই প্রতিষ্ঠান ঢাকার মহাখালী এলাকায় অবস্থিত। ‘জ্ঞানই শক্তি’ নীতিবাক্য ধারণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষাকার্যক্রম চালু রয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠার সময় কলেজটিতে শুধু উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ক্লাস নেওয়া হতো। অবশ্য পরে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান জগন্নাথ কলেজের ছাত্র আন্দোলনকে নির্মূল করার জন্য মহাখালীতে অবস্থিত ডিআইটি খাদ্যগুদাম হিসেবে পরিচিত ভবনে জগন্নাথ কলেজের ডিগ্রি শাখা স্থানান্তর করেন। এর নামকরণ করা হয় জিন্নাহ কলেজ।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান রেডিও-টেলিভিশনে এক ভাষণে জাতীয় পরিষদ স্থগিত ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে জিন্নাহ কলেজ শাখার ছাত্র সংসদের প্রথম সহ সভাপতি (ভিপি) সিরাজউদ্দৌলার নেতৃত্বে টিপু মুনশি ও শাহাবুদ্দিনসহ তৎকালীন কয়েকজন ছাত্রনেতা প্রতিক্রিয়া হিসেবে জিন্নাহ কলেজের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন।

তখন আনিসুজ্জামান খোকন (জিন্নাহ কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক) জিন্নাহ কলেজের নাম ‘তিতুমীর কলেজ’ প্রস্তাব করেন। পরে ২ মার্চ ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় জড়ো হলে সেখানে তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রবের মধ্যস্থতায় জিন্নাহ কলেজের নাম ‘তিতুমীর কলেজ’ হিসেবে চূড়ান্ত হয়। ওই রাতেই ‘তিতুমীর কলেজ’ নামকরণের সাইনবোর্ড লেখা হয় এবং দেয়ালে টানিয়ে দেওয়া হয়। এলাকার কিছু যুবকও কলেজের নাম ‘তিতুমীর’ করার ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকাকালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব বিভাগ চালু ছিল। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পরও আগের সব কার্যক্রম চালু রয়েছে। এখন বিজ্ঞান অনুষদ, বাণিজ্য অনুষদ এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভিন্ন বিভাগ চালু রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আবাসিক ছাত্রাবাসের সুবিধাও। নতুন-পুরনো মিলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য পৃথক পাঁচটি হল রয়েছে– আক্কাছুর রহমান আঁখি ছাত্রাবাস, সুফিয়া কামাল ছাত্রী নিবাস, সিরাজ ছাত্রী নিবাস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল এবং ফজিলাতুন নেছা মুজিব হল।

শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য সরকারি তিতুমীর কলেজের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাও বেশ সমৃদ্ধ। ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য বিআরটিসি লাল বাস, সম্পর্ক, অগ্নিবীণা, সোনার তরী, সাদা বাস, চলন্তিকা, সৌহার্দ্য, মতিউর রহমান, অনিন্দ্যরা বাস রয়েছে। বর্তমানে সরকারি কলেজটির অধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক ফেরদৌস আরা বেগম এবং অধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন দায়িত্ব পালন করছেন।

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, গীতিকার ও সাংবাদিক রবিউল ইসলাম জীবন, অভিনেতা শতাব্দী ওয়াদুদ, হাসান মাসুদ, জিয়াউল হক পলাশ, শবনম বুবলীসহ অসংখ্য কৃতি শিক্ষার্থীদের চারণভূমি ছিল ৫৬ বছর বয়সী সরকারি তিতুমীর কলেজ।

বিদায়ী অর্থবছরে রেকর্ড মুনাফা করল চট্টগ্রাম বন্দর
  • ০১ জুলাই ২০২৬
৫০০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সশস্ত্র আনসার মোতায়েন
  • ০১ জুলাই ২০২৬
কেপ ভার্দে লড়াইয়ের আগে শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদল আর্জেন্টি…
  • ০১ জুলাই ২০২৬
অফিসার নিয়োগ দেবে ব্র্যাক, পদায়ন ৪ জেলায়
  • ০১ জুলাই ২০২৬
গেজেটের আগেই ইনক্রিমেন্ট, নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাচ্ছেন না…
  • ০১ জুলাই ২০২৬
ফ্রান্সের কাছে র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান হারাল আর্জেন্টিনা
  • ০১ জুলাই ২০২৬