জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে মানববন্ধন

১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৭ PM , আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:২০ PM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন © টিডিসি ফটো

জাতীয় বেতন কমিশন কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতি বৈষম্য ও অবজ্ঞা প্রদর্শনের প্রতিবাদে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে মানববন্ধন করা হয়। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে এ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন বলেন, ৫ আগস্ট বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সারাদেশব্যাপী যে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল, তার মূল প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই বৈষম্য দূর হওয়ার পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজের অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষার তাগিদেই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে আমাদের এ কর্মসূচিতে দাঁড়াতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ৫৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষক সমিতি সক্রিয়ভাবে আন্দোলন পরিচালনা করছে। গতরাতে শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় জাতীয় বেতন কমিশনের কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয় এবং শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

তিনি জানান, জাতীয় বেতন কমিশনের একটি সাব-কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মস অব রেফারেন্স (TOR) নির্ধারণ করেছিল। এগুলো হলো— বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, মেধাবীরা যাতে এ পেশায় টিকে থাকতে পারে ও বিদেশে পাড়ি না জমান সে পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এসব প্রস্তাবের কোনোটিই গৃহীত হয়নি।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকার কি চায় না বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবীরা আসুক? তারা কি চায় না গবেষণা ও উদ্ভাবনী শক্তি বৃদ্ধি পাক? সাব-কমিটি মোট ৩৩টি প্রস্তাব প্রদান করেছিল, যার মধ্যে ১০টি প্রস্তাবে কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না, ১৫টি প্রস্তাবে সীমিত আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ছিল এবং বাকি ৮টি প্রস্তাব পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সুপারিশ ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটি প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়নি।

অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন আরও বলেন, এই অসম্মানজনক আচরণের প্রতিবাদে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার্থে বেতন কমিশনের একজন সহকর্মী পদত্যাগ করেছেন। তিনি জাতীয় বেতন কমিশনের এ ধরনের কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কখনো অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বেগমপাড়ায় শিক্ষকদের কারো বাড়ি নেই, সেকেন্ড হোম নেই, যাদের আছে তারাই সব সুবিধা নিচ্ছে এবং শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের সম্মানহানি করে গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না।

তিনি ঘোষণা দেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ আন্দোলনের সূত্রপাত করে দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। মানববন্ধন থেকে জাতীয় বেতন কমিশন কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি প্রদর্শিত বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং অবিলম্বে সাব-কমিটির ৩৩টি প্রস্তাবের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ন্যায্য সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্মিলিতভাবে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

মানববন্ধন কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, জবি সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতা, বিভাগীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নেতা ও অন্যান্যরা বক্তব্য প্রদান করেন।

মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যা করে পুলিশের কাছে বাবার আত্মসমর্পণ
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রাণ গ্রুপে, পদ ১০০, নেবে অ্যাসিস্ট্যান…
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম-১ আসনে ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকার বাতাস আজ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩০ বছর পর যে আসন পুনরুদ্ধার করল বিএনপি
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারে জামানত হারিয়েছেন ৫৫ শতাংশ প্রার্থী
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!