জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুরস্থ বটতলায় অবস্থান কর্মসূচি এবং বিক্ষোভ সমাবেশ © সংগৃহীত
এক যুগের বেশি সময় আগে গত বছরের মে মাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিচ্যুত ৯৮৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালের রায় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। চাকরিতে পুনর্বহালকৃত এসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতিসহ বকেয়া বেতন-ভাতা আদায়ের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুরস্থ বটতলায় অবস্থান কর্মসূচি এবং বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বকেয়া বেতন-ভাতা ও পদোন্নতি প্রদানে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আগামী ২৪ ঘণ্টা পর আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হবে বলে এতে জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চাকরি সুরক্ষা কমিটির মহাসচিব পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) তথ্য পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ মিয়া হোসেন রানার সভাপতিত্বে এবং মো. মিয়াজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশ অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দীন আহমেদ, তরিকুল ইসলাম, মাসুদ আলম, ওয়াহিদুজ্জামান নান্নু, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল আজিজ, ফিরোজ আলম, মনির হোসেন চৌধুরী, আলমগীর হোসেন, রবিউল ইসলাম, নাছির আহম্মদ, সাইফুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, আব্দুল জলিল, ইয়াকুব হোসেন, আব্দুল মতিন, আফজাল প্রমুখ।
তাদের দাবির প্রতি সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম, প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, পরিচালক বিল্লাল হোসেন, পরিচালক আমিনুল আক্তার, রাজিউর রহমান রেজা প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা অনতিবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহালকৃত ৯৮৮ কর্মকর্তা, কর্মচারীর যাবতীয় বকেয়া বেতন-ভাতাদি পরিশোধের ব্যবস্থা করা, আদালতের রায়ে সিনিয়রিটি বজায় রেখে ন্যূনতম ২টি পদোন্নতির ব্যবস্থা করা এবং শাস্তিমূলক বদলিকৃত ৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বদলির আদেশ প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা নতুন ও পুরাতনের ভেদাভেদ ভুলে একত্র হয়ে কাজ করার পক্ষে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জানা গেছে, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ওই ৯৮৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছিলেন। এমএলএসএস থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার সমমর্যাদার বিভিন্ন পদে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। উচ্চ আদালতের রায়ের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
ওই ৯৮৮ জনের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে ২০১৬ সালের ১৯ মে আপিল বিভাগ রায় দেন। এই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে গত বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আপিল বিভাগে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১ ডিসেম্বর আপিল করার অনুমতি পায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই আপিল মঞ্জুর করে গত বছরের মে মাসে রায় দেওয়া হয়।