বাংলাদেশের ইতিহাসে জেলহত্যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী 

০৩ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৫২ PM , আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০১:২৬ PM
জেল হত্যা দিবসে আলোচনা সভা

জেল হত্যা দিবসে আলোচনা সভা © সংগৃহীত

বাংলাদেশের ইতিহাসে জেলহত্যা অত্যন্ত নির্মম ও ঘৃণ্য বর্বরোচিত ঘটনা৷ এরফলে দেশের রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট প্রবল হয়েছিলো। বাংলাদেশের ইতিহাসে জেলহত্যার প্রভাব ছিলো সুদূরপ্রসারী। 

বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা কলেজের শিক্ষক লাউঞ্জে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। 

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ.টি.এম মইনুল হোসেন৷ তিনি বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে এবং জেলহত্যা ঘটিয়েছে তারা স্পষ্টত স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ধ্বংস করে দেওয়া ও স্বৈরশাসনের অভ্যুত্থান ঘটানো। একইসাথে নতুন প্রজন্মের মন-মগজ মস্তিষ্ক থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ  মুছে ফেলার মাধ্যমে পরাজিত শক্তির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করাও তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিলো। কিন্তু তাদের সেই উদ্দেশ্য   কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। 

আলোচনা সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক  ড. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস সিকদার। তিনি বলেন, জেল হত্যাকান্ডের প্রভাব ছিলো সুদূরপ্রসারী। এরফলে তৎকালীন সময়ে দেশে বিরাট একটি সংকট তৈরি হয়। এরমধ্যে প্রধান সংকটগুলো হলো—জেল হত্যাকান্ডের ফলে বন্দীর জন্য নিরাপদ আশ্রয় কারাগার অনিরাপদ হয়ে ওঠে,  রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে আদর্শিক পরিবর্তন ঘটে, আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা পায়, সেনাবাহিনীতে দলাদলি ও গ্রুপিং সৃষ্টি হয় এবং রাজনীতিতে শুরু হয় নেতা বেচাকেনার খেলা এবং রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশ ঘটে।

আরও পড়ুন: নেতা হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে অছাত্র, খুন-ধর্ষণ মামলার আসামিরা

এসব সংকটের প্রভাবে দীর্ঘদিন পর্যন্ত নানানভাবে দেশে আরও নতুন-নতুন সংকট তৈরি হয়েছে বলেও প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ অধ্যাপক  ইউসুফ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর স্বাধীনতার বিপক্ষের কিছু সেনা সদস্য জেল হত্যার মতো নির্মম ঘটনা ঘটিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারী সেনা সদস্যরাই দেশ থেকে চলে যাওয়ার আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা নেয়। তাদের এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের ফলেই নির্মমভাবে হত্যার শিকার হতে হয়েছে সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আ হ ম কামরুজ্জামানকে।জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করে মহান স্বাধীনতার চেতনা ও দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একইছরের ৩ নভেম্বর এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. কামরুলকে হয়রানি করা ব্যক্তি যে দলেরই হোক, ছাড় দেওয়া হবে…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
বাকৃবিতে বিড়ালপ্রেমীদের মিলনমেলা ও ‘ক্যাট শো’
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
‘পীর’ হত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে বাম জোটের বিক্ষোভ
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
নারী গার্মেন্টস কর্মীদের নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা সেমিনার ও স…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
এনসিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন, ফেসবুক পোস্টে যা বললেন রুমিন ফা…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
‘জনতার নির্বাচিত সরকার— মব সামলান’ স্ট্যাটাসের পর সমালোচনা,…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
close