ডিগ্রীর ভর্তিচ্ছুরা কি কর্তৃপক্ষের জন্য শুধুই দায়বদ্ধতা?

২১ অক্টোবর ২০২২, ০২:০৮ PM , আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৫০ PM
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় লোগো

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় লোগো © সংগৃহীত

দেশে প্রতি বছর কয়েক লাখ শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ স্নাতক ডিগ্রী অনার্সে ও প্রায় ৩ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রী পাস কোর্সে ভর্তি হন। যেসব শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে টিকতে পারে না তারা বেছে নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে।

এদের মধ্যে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা ভর্তি হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আবার অনেকে পছন্দের বিষয়ে পড়ার জন্যও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। যাদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সক্ষমতা নেই কিন্তু পাবলিক কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে কোনো বিষয়ে চান্স পান না তারা উচ্চ শিক্ষার শেষ ভরসা হিসেবে ভর্তি হন ডিগ্রীতে। কিন্তু সবার নজর থাকে শুধু অনার্সেই। হোক সেটা পাবলিক কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এসবের মাধ্যে কোথায় যেন বঞ্চিত থেকে যান ডিগ্রীতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

প্রতি বছর এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের পরীক্ষা বাতিল করে অটোপাস দেয়া হয়। কয়েক দফা পিছিয়ে ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হয় ডিসেম্বরে। এতে অংশ নেয় ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ পরীক্ষার্থী। চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় প্রায় ৯৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। 

ফল প্রকাশের পর ২২ মে থেকে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে করলেও গুচ্ছসহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আগেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্সে ভর্তি সম্পন্ন করে। অথচ এর চার মাস পর ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয় ডিগ্রির ভর্তি আবেদন, যার শেষ সময় ছিল ১১ অক্টোবর। পরে আরও ৭ দিন সময় বাড়িয়ে ১৮ অক্টোবর করা হয়। সেই সময়ও শেষ হয়েছে। কিন্তু ডিগ্রীর ভর্তি কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছেই। ফল প্রকাশ কবে হবে তার কোনো নির্দেশনা বা নোটিশ নেই। ফল প্রকাশের পর বাকি আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়া আরও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

আরও পড়ুন: ঢাবির প্রথম মুসলিম ছাত্রী ফজিলাতুন্নেসার মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

অপরদিকে ফল প্রকাশের পর থেকে নয় মাস একটা লম্বা সময় শিক্ষার্থীরা অলসভাবে পার করছে, পড়াশোনা থেকে দূরে থাকা কি শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব ফেলছে না? এ বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যাথা আছে কিনা জানা নেই ডিগ্রীতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের।

ডিগ্রীতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কোনো শিক্ষার্থী যাতে উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় সেই জন্য সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ডিগ্রীতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না করলেও ভর্তি প্রতিযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সবকিছু সবার শেষে শুরু হয়। যেনো এক আশ্রয়কেন্দ্র!

ডিগ্রীতে আবেদনকারী শিক্ষার্থী রেহানা বলেন, নয় মাস ধরে বসেই আছি। অনার্সে আবেদন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পয়েন্টের শর্ত পূরণ না হওয়ায় ডিগ্রীতে আবেদন করতে হয়েছে। সেটার ভর্তিও কবে থেকে শুরু হবে তার কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছি না।

আরেক শিক্ষার্থী ইসরাত জানান, এমনিতেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সবকিছু নিয়ে হেয়ালি চলে। কোভিডের কারণে প্রথমে আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা এতো দেরিতে হল। তারপর আবার বন্যার কারণে সবকিছু স্থগিত করায় ভর্তি কার্যক্রমে দেরি হচ্ছে। অনার্সের ভর্তি কার্যক্রমে কিন্তু দেরি করেনি। ডিগ্রীর ক্ষেত্রে দেরি করতেছে।

ডিগ্রীতে ভর্তি আবেদন দেরিতে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপর কেমন প্রভাব ফেলবে এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের এক শিক্ষক বলেন, ডিগ্রীর ভর্তি এমনিতেও একটু দেরিতেই শুরু হয়। বন্যার কারণে কিছুটা দেরি হলেও শিক্ষার্থীদের উপর ততোটা প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি না। হ্যাঁ তবে এ বছর তাদের ক্লাস শুরু করা প্রায় অসম্ভব।

ইরানে আবারও হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় সংসদে নারী এমপি হতে দুই বোনের লড়াই
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নববর্ষে মেলা-শোভাযাত্রা, লাঠি খেলাসহ নানান আয়োজন নজরুল বিশ্…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
পদোন্নতি পেলেন চাকরি হারানো পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনুর মিয়া
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নতুন প্রজন্মেই বাঁচবে বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বাবা-মা কর্মস্থলে, আমগাছে কিশোরীর মরেদহ
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬