বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন © সংগৃহীত
৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে ৩ হাজার ১৪০ পদের বিপরীতে এক হাজার ৪৫৭ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে ১ হাজার ৬৮৩টি পদ ফাঁকা রয়ে যাচ্ছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কয়েকটি কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয়সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ১৬৮৩টি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি।
৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সহকারী সার্জন পদে ১ হাজার ৬৮২ জন, সহকারী ডেন্টাল সার্জন ১৬ জন, শিক্ষায় ৯২০ জন, প্রশাসনে ২৭৪ জন, পররাষ্ট্রে ১০, পুলিশে ৮০, আনসারে ১৪, বিসিএস পরিবার পরিকল্পনায় ৪৯, মৎস্যে ২৬ ও গণপূর্তে ৬৫ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল।
ফলাফল সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে পিএসসি জানিয়েছে, ‘প্রার্থীর আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত সনদ, তথ্য, ডকুমেন্টস ইত্যাদি ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২৩ এর বিজ্ঞপ্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং আবেদনপত্রে প্রার্থীর অঙ্গীরকারনামার ভিত্তিতে কমিশন কর্তৃক প্রার্থীকে এই শর্তে সাময়িকভাবে মনোনয়ন প্রদান করা হল যে, নিয়োগের পূর্বে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রার্থীর সংযুক্ত সনদ, ডকুমেন্টস ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইপূর্বক নিশ্চিত হয়ে চূড়ান্ত নিয়োগ প্রদান করবে।
সাময়িকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে কোনো প্রার্থী আবেদনপত্রে জ্ঞাতসারে কোনো ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান বা প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন বা টেম্পারিং বা কোন জাল সার্টিফিকেট জমা বা বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত সার্টিফিকেটের কোনো অংশ বা প্রবেশপত্র টেম্পারিং বা প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করলে বা কোনো গুরুতর অসম্পূর্ণতা (substantive incompletion) ধরা পড়লে বিজ্ঞাপনের শর্তানুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হবে। তাছাড়া, বর্ণিত অপরাধে জড়িত প্রার্থীকে ক্ষেত্র বিশেষে ফৌজদারি আইনে সোপর্দ করা যাবে। এমনকি প্রার্থীকে চাকরিতে নিয়োগের পরও এরূপ কোনো তথ্য প্রকাশ ও তা প্রমাণ হলে তাকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে;
বিসিএস ক্যাডার পদে মনোনীত প্রার্থীদের- “বিসিএস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা- ২০১৪* অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে গঠিত মেডিকেল বোর্ডে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য ঘোষণা ও যথাযথ এজেন্সির মাধ্যমে প্রাক- নিয়োগ জীবন-বৃত্তান্ত যাচাইয়ের পর সরকার কর্তৃক নিয়োগ দেয়া হবে।
প্রার্থীর আবেদনপত্রের সাথে প্রদত্ত তথ্য, ডকুমেন্টসমূহ, সনদ ইত্যাদি এবং আবেদনপত্রে প্রার্থীর প্রদত্ত অংগীকারনামার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক এই শর্তে প্রার্থীদের অনুকূলে মনোনীত করা হলো যে, নিয়োগের পূর্বে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অন্যান্য ডকুমেন্টসমূহ সত্যতা যাচাই, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রার্থীর উচ্চতা, বুকের মাপ এবং ওজন সম্পর্কিত তথ্য এবং প্রাক-নিয়োগ জীবন-বৃত্তান্ত যথাযথ এজেন্সি কর্তৃক যাচাইয়ের পর নিশ্চিত হয়ে মনোনয়ন প্রাপ্তদের নিয়োগ প্রদান করতে হবে।
প্রকাশিত মনোনয়নে কোনো ভুল-ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা সংশোধনের ক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সংরক্ষণ করে। এই মনোনয়ন প্রার্থীর ক্যাডার পদে চাকরি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করবে না বা অধিকার জন্মাবে না; কমিশনের নিকট হতে মনোনয়ন প্রাপ্তির পর সব সকল বিধি-বিধান ও আনুষ্ঠানিকতা প্রতিপালনপূর্বক নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত মনোয়নের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করতে পারবে।