শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

ঈদ উদযাপনের চেয়ে বেঁচে থাকার লড়াইটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

ঈদ
মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ কাল  © টিডিসি ফটো

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ। এদিন যেনো সকল দুঃখ-কষ্ট ভুলে সকল শ্রেণির মানুষের এক কাতারে শামিল হওয়ার দিন। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে ঈদ মানে এমন চিত্র দেখা গেলেও গত বছর থেকে লক্ষ্যণীয় ভিন্ন চিত্র। করোনাভাইরাসের প্রকোপে কিছুটা ছন্দ পতন ঘটেছে ঈদ উৎযাপনের, ভাটা পড়েছে ঈদ আনন্দেরও।

অন্যান্য বছরের ন্যায় গত বছর থেকে এদিনে ঈদগাহে মুসলির উপচে পড়া ভীড় আর সালাত শেষে কোলাকুলির চিত্র এখন বেশ মলিন। সীমিত আকারে ঈদগাহে ঈদের সালাত পালন করা গেলেও উপায় নেই কোনো মুসল্লীদের আলিঙ্গনের। নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনেই করতে হচ্ছে কুশল বিনিময়। মহামারীর এই করুণ সময়ে ঈদ ব্যক্তিজীবনে কতোটা আনন্দময় তা নিয়ে কথা বলেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভর্সিটির (ডিআইইউ) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। জানান তাদের ঈদ পরিকল্পনার কথা। জানচ্ছেন ডিআইইউ প্রতিনিধি সাদিয়া তানজিলা-

এবারের ঈদ উদযাপনের কথা জানাতে গিয়ে কিছুটা ব্যাথিত হৃদয়ে ডিআইইউর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাঈদ শাকিল জানান, মুসলিম বিশ্বে খুশির আমেজ নিয়ে ঈদ এলেও বিগত এক বছর থেকে ঈদ বিশ্ববাসীর জন্যে সুখকর নয়। চারপাশে পাল্লা দিয়ে মৃত্যুমিছিল, প্রিয়জন হারানোর বেদনা, মহামারী আতংক ঈদকে বিষাদের চাদরে ঢেকে ফেলেছে। বাংলাদেশে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য হাসিমুখে ঈদ উদযাপন করা এখন দুরুহ ব্যাপার।

“এদিকে প্রায় দেড়বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবসাদ দেখা দিয়েছে যা জাতির জন্যে হুমকিস্বরূপ। নানাবিধ প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবন-জীবিকা সাধারণভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া এখন বড় ব্যাপার, যা করতে গিয়ে অনেক পরিবারকে হোচট খেতে হয়েছে। তারপরেও ঈদ মানুষের জীবনে বয়ে আনুক প্রশান্তির ছোয়া, এবং ঈদের আনুকূল্যে পৃথিবী থেকে মুছে যাক করোনা নামক অভিশাপ।”

তিনি আরও বলেন, গত বছরের ন্যায় এবারের ঈদেও আমাদের সাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করতে হবে। আহ্ খুব মিস করি সেই দিনগুলো। এই বাড়িতে ওই বাড়িতে কুরবানী দেখতে যেতাম, নামাজ শেষে কোলাকুলি করে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতাম। কিন্তু এই মহামারীর জন্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, বাড়িতে থাকতে হবে, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। বন্ধুদের সাথে এদিক ওদিক ঘুরতে যেতে পারবো নাহ, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি যাওয়া হবে না। আবারো একটা আনন্দহীন কাটাবে দেশবাসী।

ডিআইইউর কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জেনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী লুবানা আক্তার জানান, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত বছর থেকে চার দেয়ালের মধ্যেই কাটছে বেশিরভাগ মানুষের ঈদ। করোনাভাইরাস যেন ঈদে আনন্দের আবহকেই থমকে দিয়েছে। এবারে কোরবানির আয়োজন থাকবে সীমিত, যেমন সবাই মিলে নামাজ পড়া বা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার মতো প্রচলিত রীতিতে থাকবে বড় ধরণের পরিবর্তন। করোনাভাইরাস আতঙ্ক কারণে ঈদ এবার অনেক মানুষের জন্য আগের মতো খুশির বার্তা বয়ে আনতে পারবে না। ঈদ উদযাপনের চাইতে বেঁচে থাকার লড়াইটাই যেন এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিআইইউর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী কুশল জানান, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে একে অন্যের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়া। ঈদ বলতে আমরা এরূপ আনন্দময় দৃশ্যই বুঝতাম। কিন্তু গত বছর থেকে ঈদ আনন্দ যেন ফ্যাকাসে রংহীন হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ দেড় বছর থেকে এক রকম গৃহবন্দী হয়ে রয়েছি সবাই। লড়ছি এক অদৃশ্য শক্র করোনা ভাইরাসের সাথে। যার ফলে আমাদেরকে সকলকেই মানতে হচ্ছে কঠোর সচেতনতা, মানতে হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি।

“করোনার এই সময়ে এবারের ঈদ উদযাপন কিছুটা ভিন্নরকম। দীর্ঘদিন লোকডাউনের কারণে সর্বশ্রেণীর পেশাদার মানুষদের একরকম ধাক্কা পোহাতে হচ্ছে। অনেকে হারিয়েছে তাদের রুজি। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য এবারের ঈদ মোটেও সুখকর নয়। সকল খারাপের বিনাশ করেই ঈদ বয়ে আনুক বিশ্বে শান্তি ও আনন্দ। আমরা সবাই স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে ঈদ উদযাপন করব। ঈদ হোক নিরাপদময়, ঈদ হোক আনন্দময়। আমরা যে যার সাধ্য মতো চেষ্টা করবো মানুষের পাশে দাড়িয়ে ঈদ আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে।”

ডিআইইউর ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী বদরুন্নাহার বিন্তি জানান, করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ঈদ উদযাপন করতে হবে। তিনি বলেন, ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে অনুভূতি ভাগাভাগি। ঈদ সবার জীবনে খুশি বয়ে আনে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে সেই খুশি যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিলে শামিল হচ্ছে হাজারো মানুষ, হারাচ্ছে তাদের প্রিয়জন। পুরো পৃথিবীজুড়েই আতংক বিরাজ করছে। তাই আমাদের সকলের উচিত এরকম ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাড়িতে থেকেই পরিবার এর সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা। প্র‍য়োজন না থাকলে অযথা বাইরে বের হয়ে ঘোরাঘুরি না করা। সবাইকে সচেতন করতে হবে এবং সকলের জন্য দোয়া করতে হবে। এবারের ঈদে ত্যাগের মহিমায় বিশ্বে শান্তি বয়ে আনুক এই প্রার্থনা করি।

“আমরা যারা কোরবানি দিতে সক্ষম তারা অবশ্যই গরীব-মিসকিনদের হক আদায়ে সচেতন থাকবো। আমাদের আশেপাশের যেসব প্রতিবেশী এবার কোরবানি দিতে পারছেন না তাদের পাশে দাঁড়াবো ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবো। সবাইকে অগ্রিম ঈদ মোবারক।”


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ