গণ বিশ্ববিদ্যালয়

নারী সহপাঠীকে যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য ছাত্র ইউনিয়ন আহ্বায়কের

৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ PM
অভিযুক্ত ঢাকা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রুদ্র

অভিযুক্ত ঢাকা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রুদ্র © টিডিসি সম্পাদিত

সাভারের আশুলিয়ায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) দুই নারী সহপাঠীকে যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) ঢাকা জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রুদ্রর বিরুদ্ধে। রুদ্র ও ভুক্তভোগী দুই নারীই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি প্রশাসন বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। এ নিয়ে অপর সহপাঠীরা প্রতিবাদ জানালে ওই ঘটনাকে ‘মারধর’ দাবি করেছেন রুদ্র।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরের দিকে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশে একটি দোকানে শিক্ষার্থীরা তার দেখা পেলে এই প্রতিবাদ জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থী ওই সময়ে মারধরের দাবিকে অস্বীকার করেছেন।

ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, ফেসবুক গ্রুপের ম্যাসেজ যাচাই ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন রুদ্র দীর্ঘদিন ধরেই সহপাঠীদের সঙ্গে অসদাচরণ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে সহপাঠীদের উদ্দেশ্য করে একটি পোস্টে তাদের ‘টোকাই’ বলে অভিহিত করেন ও অপ্রকাশযোগ্য গালি দেন। পরবর্তীতে সেই পোস্ট তিনি সরিয়ে নেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ৩৯তম ব্যাচের অভ্যন্তরীণ ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে প্রশ্ন করা হলে সেখানে তিনি দুই নারী সহপাঠীকে অপ্রকাশযোগ্য যৌন হয়রানিমূলক গালি দেন। এসব নিয়ে অপর শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী একটি স্থানে এ নিয়ে সাখাওয়াতকে প্রশ্ন করেন ৩-৪ জন সহপাঠী। সাখাওয়াত এ সময়ও তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান ও গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে সেখানে রেখেই অপর শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাসে যোগ দেন। পরে বিকেলের দিকে তারা ফেসবুকে দেখতে পান, সাখাওয়াত মারধরের অভিযোগ তুলেছেন। তবে সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে মারধরের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে থাকলেও তিনি ক্যাম্পাসেও কাউকে বিষয়টি অবহিত করেননি বলে জানা গেছে। যদিও এ ঘটনার পরপরই ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) একাধিক নেতা ফেসবুকে প্রতিবাদী পোস্ট দিয়েছেন।

যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি ছাত্র ইউনিয়ন নেতা সাখাওয়াত হোসেন রুদ্র। তবে মারধরের অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমি দোকানে সিগারেট খেতে গিয়েছিলাম। তখন আমাকে ডেকে নিয়ে বলে, ‘ভাই, একটু দাঁড়াও।’ এরপর আমার ফেসবুকে দেওয়া একটা পোস্ট নিয়ে কথা বলে। তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি কাদের উদ্দেশে পোস্ট দিয়েছি। আমি বলেছি, তাদের উদ্দেশে পোস্ট দিইনি, অন্য কাউকে বলেছি। এরপর তারা আমাকে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে মারধর শুরু করে।

রুদ্র বলেন, প্রায় সাত-আট মিনিট ধরে আমাকে মারধর করে। চড়-থাপ্পড়ের পাশাপাশি কিল-ঘুষিও মারে। পিঠে ও মাথায় আঘাত করে। কানের মধ্যে আঘাত লাগায় আমার কানে ব্যথা হচ্ছিল। মারধরের পর আমি সেখানে কিছুক্ষণ বসে ছিলাম। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মতো সেখানে ছিলাম। পরে একটু সুস্থ বোধ করলে সেখান থেকে চলে আসি। এরপর মাথাব্যথা করায় হাসপাতালে যাই। তবে এখনো আমি লিখিত কোনো অভিযোগ দিইনি। মাথাব্যথা থাকায় আগে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেব। চিকিৎসার প্রতিবেদন নেওয়ার পর লিখিত অভিযোগ দেব।

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, রুদ্রকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জিদনি ইসলাম সামি বলেন, সে সহপাঠীদের সঙ্গে প্রায় সময়ই বাজে ভাষায় খারাপভাবে কথা বলে। কয়েকজন মেয়েকেও গালাগালি করেছে বিভিন্ন সময়। এর মধ্যে কয়েক দিন আগে দুইজন মেয়েকে বাজে ভাষায় গালি দেয়। এসব নিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে বলে, ‘এসব শিখাইতে আসিস না। আমি কোন সংগঠন করি জানস? আমি কোন লেভেলে আছি জানস? আমি এসআইরেও মারছি।’ এসব বলে। এসবই তর্ক হয়েছে। তারপর তো চলে আসছি। সেখানে আরও অনেকে ছিল। কোনো মারধর হয়নি।

একই ব্যাচের শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন তানভীর বলেন, আমাদের ডিপার্টমেন্টের অনেকের সঙ্গে তার সমস্যা। সে সবার সঙ্গেই অপমান করে কথা বলে। কিসের ছাত্র সংগঠনের নেতা, সেই পরিচয় জাহির করে। আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। সে ক্লাসমেটদের গালাগালি করে। কয়েক দিন আগে পোস্ট দিয়েছে, ভার্সিটির সবাই টোকাই। আরও গালি লিখেছে। সে সবসময়ই বাজে ভাষায় গালি দেয়। আমাদের দুই মেয়ে সহপাঠীকেও গালি দিয়েছে। আর মারধরের অভিযোগ হলো একটা নাটক। সেখানে বহু লোকজন উপস্থিত ছিল। আপনি সবাইকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। সবাই দেখছে। ও তো আমাদের সহপাঠী। তর্ক হইছে। কিন্তু কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

তানভীর আরও বলেন, সে সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে বারবার বলে, ‘আমাকে মুখে বলবি না, পারলে মার’। আমাদের ছিল পরীক্ষা। মারধর করব কেনো? ঢাকা থেকে লোকজন তার মারধর নিয়ে পোস্ট করছে, ওর কি ক্যাম্পাসে একজনও নাই যারা ওর মারধর নিয়ে লেখবে? একজনও কি নাই? আর ঢাকার লোকজন জেনে গেল, ক্যাম্পাসে তো তারপরও ও ছিল, ক্যাম্পাসে, ডিপার্টমেন্টে কি ও একটা কথা জানাতে পারলে না? এখানে কিছুই করে নাই, কারণ এখানে সবাই ওর সম্পর্কে জানে। ও যে নোংরা ভাষায় গালাগালি করে, সবার সঙ্গে বিরোধ তাই ওর সঙ্গে কেউ নাই। ওকে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। দেখেন ওর গায়ে কোনো ইনজুরি আছে কিনা। ৪-৫ জন লোক মারলে কি কিছুই হবে না? আমরা চলে আসার সময়ও ও সিগারেট ফুঁকছিল।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এ কে এম সাইফুল্লাহ বলেন, আমি তো অফিস টাইম পুরোটা ক্যাম্পাসে ছিলাম। আমি এই ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। যদি অভিযোগ পাই, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এ ঘটনার পর সন্ধ্যার দিকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘চিকিৎসা’ নিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন রুদ্র। এ বিষয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, ওই ব্যক্তি মারধরের কথা জানিয়েছিলেন। তবে তার শরীরে তেমন কোনো জখমের চিহ্ন ছিল না। তাকে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসারের নম্বরে ফোন করলে সেখানেও সাখাওয়াত হোসেন রুদ্র নামে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানান।

৫ হলুদ কার্ড দেখেও নিষিদ্ধ হচ্ছেন না মেসি, নেপথ্যে কী
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
আলোকস্বল্পতায় টানা তৃতীয় দিন আগেভাগে খেলা শেষ
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণ কীভাবে, নিয়ম জানাল শিক্ষাবোর্ড
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
বরাদ্দ থাকলেও ফাইলবন্দি ইবির ডে-কেয়ার সেন্টার
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
পকেটে স্মার্টফোন রাখলে কমতে পারে শুক্রাণু, যা বলছেন গবেষকরা 
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
নারী সহপাঠীকে যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য ছাত্র ইউনিয়ন আহ্বায়কের
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬