মানারাত স্টেম ফেস্টে খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী চমক

১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৮ PM , আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৮ PM
স্টলে নিজেদের উদ্ভাবন করা প্রযুক্তি পণ্য দেখা শিক্ষার্থীরা

স্টলে নিজেদের উদ্ভাবন করা প্রযুক্তি পণ্য দেখা শিক্ষার্থীরা © সংগৃহীত

কেউ তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্মার্ট চশমা, যা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলে সহায়তা করতে পারে। কেউ বানিয়েছে রোবটিক হাত, যার সাহায্যে হাত হারানো ব্যক্তিরা বিভিন্ন বস্তু ধরতে পারবেন। আবার কেউ তৈরি করেছে নদী ও জলাশয় থেকে বর্জ্য সংগ্রহের প্রযুক্তি। পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপত্তা, চিকিৎসা প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা নিয়েও নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরেছে শিক্ষার্থীরা।

পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানোর এমন সব উদ্যোগে মুখর হয়ে উঠেছিল রাজধানীর মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (এমডিআইসি) ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘এমডিআইসি স্টেম ফেস্ট ২০২৬-২৭’ শেষ হয়েছে শনিবার। উৎসবে রাজধানী ও আশপাশের প্রায় ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেয়।

শুক্রবার সকালে মানারাত ক্লাবস ফর কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের (এমসিসিএ) অধীনে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্স অলিম্পিয়াডের পাশাপাশি রোবোটিকস, মাইনক্রাফট, ট্রেজার হান্ট এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনীর আয়োজন ছিল উৎসবে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রকল্পগুলোতে বিশেষভাবে উঠে আসে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার।

উৎসবের প্রকল্প প্রদর্শনীতে মানুষের জীবন সহজ করার লক্ষ্যে তৈরি প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে নজর কেড়েছে ‘রোবটিক হ্যান্ড’ ও ‘ব্লাইন্ড ম্যান হেল্পার’। শিক্ষার্থী মাহিমা আহমেদ ও তাঁর দলের সদস্যরা প্রকল্প দুটি তৈরি করেছেন।

মাহিমা জানায়, যাঁদের হাত নেই, তাঁদের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে ‘রোবটিক হ্যান্ড’। এতে মোটর, সার্কিট বোর্ড ও থ্রিডি প্রিন্টেড পাঁচটি আঙুল ব্যবহার করা হয়েছে। নব ঘুরিয়ে কৃত্রিম হাতটির আঙুল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর সাহায্যে বিভিন্ন বস্তু ধরে রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।

অন্যদিকে, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সময় সামনের বাধা সম্পর্কে সতর্ক করতে তৈরি করা হয়েছে ‘ব্লাইন্ড ম্যান হেল্পার’। এতে প্রক্সিমিটি সেন্সর ও আরডুইনো ন্যানো ব্যবহার করা হয়েছে। সামনে দেয়াল বা অন্য কোনো বাধা শনাক্ত হলে সেন্সর সংকেত পাঠায় এবং বাজারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করা হয়।

মাহিমা জানায়, বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞান ও প্রকৌশলকে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই প্রকল্প দুটি তৈরি করা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেন দৈনন্দিন কাজ আরও সহজে করতে পারেন, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য। 

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচল সহজ করার আরেকটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে এসেছে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম পিক্সেলসেন্স’। অমর্ত্য সেনের নেতৃত্বে দলটির অন্য সদস্যরা হলেন মো. সামিন ইয়াসির খান, মো. জুল ইকরামন শামস ও মো. আরহাম রশিদ চৌধুরী।

‘পিক্সেলসেন্স’ নামের প্রকল্পটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর একটি স্মার্ট চশমা। এতে দুটি ক্যামেরা ও স্টেরিও ইয়ারবাড ব্যবহার করা হয়েছে। ক্যামেরার মাধ্যমে আশপাশের পরিবেশের গভীরতা ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে তা স্থানিক শব্দে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে ব্যবহারকারী শব্দের দিক ও অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। এর ফলে চলাচলের সময় আশপাশের পরিবেশ বুঝতে সুবিধা হতে পারে। প্রকল্পটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেখিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি শুধু নতুন কিছু তৈরির মাধ্যম নয়, বরং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের চলাচল সহজ করা এবং তাঁদের স্বনির্ভরতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিবেশদূষণ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ‘সার্কুলার ব্লু’। নদী ও জলাশয় থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এ ভাসমান প্ল্যাটফর্ম। এতে দুটি ডিসি মোটর, একটি ১৮০ ডিগ্রি সার্ভো মোটর ও আরডুইনো ন্যানো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির চলাচল ও বর্জ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা জানায়, নদ-নদী ও জলাশয়ে জমে থাকা বর্জ্য পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। প্রযুক্তির সহায়তায় এসব বর্জ্য সংগ্রহ করা গেলে জলাশয় পরিষ্কার রাখার কাজে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গার মতো দূষিত নদীসহ বিভিন্ন জলাশয় পরিষ্কারে এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা তাদের। 

স্টেম ফেস্টের প্রজেক্ট ডিসপ্লে প্রতিযোগিতা তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাটাগরি ‘এ’, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য ক্যাটাগরি ‘বি’ এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ক্যাটাগরি ‘সি’ নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি বিভাগে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বয়স ও দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প উপস্থাপন করে। ক্যাটাগরি ‘এ’-তে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রকল্পে দেখা যায় সৌরশক্তির ব্যবহার, নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও রিমোট কন্ট্রোল প্রযুক্তির মতো বিষয়। আফজালুর রশিদের দল ‘নেক্সটজেন সেফটি’ এবং মুহাম্মদ আজওয়াদ তাহমিদের দল ‘সোলার সেফটি’ নিয়ে কাজ করে। পরিবেশ সুরক্ষার ভাবনা তুলে ধরে আহমেদ আবদুল্লাহ রাজিক খানের দল ‘দ্য গ্রিনারি লিজেন্ডস’ এবং খালিসা ফাতেমা ফাইজাহর দল ‘সার্কুলার ব্লু’। এ ছাড়া মো. জারিয়াত রহমান আরশে ‘এফ-২২ র‍্যাপটার আরসি প্লেন’ প্রকল্প প্রদর্শন করে। ক্যাটাগরি ‘বি’-তে শিক্ষার্থীরা দৈনন্দিন জীবন সহজ করা, পরিবেশ রক্ষা ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের নানা ধারণা তুলে ধরে। সজরীবা ফাহরিন এরিতা ও তাঁর দল ‘ক্লিনিং রোবট হ্যান্ড’ প্রদর্শন করে। পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে মেহরিশ হোসেন নুহার দল ‘নিনজা সেভার্স অব দ্য নেচার’ এবং আহনাফ তাহমিদের দল ‘আইরিজ’ (AERIS)। এ ছাড়া সারাহ রহমান ফিওনার দল ‘সাইন্টিফিক ডমিনেটরস’, সানজিদা রহমানের দল ‘টেক টাইটানস’, মনিরা মেহজাবিনের দল ‘রিকোড’, ফারহান জাহিন আলভির দল ‘টিম তারা বাড়ি’ এবং সাদীদ ইবনে হাসানের দল ‘প্রোডিজিস’ নিজেদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রদর্শন করে। ক্যাটাগরি ‘সি’-তে তুলনামূলক উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক চিন্তার প্রতিফলন দেখা যায়। আয়েশা তাবাসসুম প্রভার দল চিকিৎসাপ্রযুক্তিনির্ভর ‘ককলিয়া ক্যাপ’ প্রকল্প উপস্থাপন করে। আবু মো. মহিউদ্দিনের দল ‘সায়ার-ডিজিটাল রিসাইক্লার’ এবং জামির উদ্দিনের দল ‘টিম কার্বন ফাইটার’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশদূষণ কমানোর বিষয় নিয়ে কাজ করে।

এ ছাড়া অমর্ত্য সেনের দল ‘পিক্সেলসেন্স’, আশফাক সাদাতের দল ‘অমনিঅ্যাক্সিস’, সৈয়দ তাহমিদ আবদুল্লাহ বিন রেজার দল ‘গ্লেন ব্লেজ রেসার্স’ এবং ‘চুনচুনমারু’, ‘নার্ভ’ ও ‘কোয়াডকোর’ নামের দলগুলো আধুনিক সফটওয়্যার, অটোমেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ধারণা তুলে ধরে। প্রকল্প প্রদর্শনীতে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, অ্যাডামজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, স্কলাস্টিকা, প্লেপেন, সানিডেল, গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, একাডেমিয়া, মিরপুর ইংলিশ ভার্সন কলেজ ও মাইলস্টোন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ-লেভেলের শিক্ষার্থী ফাইরুজ মাছনুন আশরাফ বলেন, “এ ধরনের প্রতিযোগিতা আমাদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে শেখায়। পাশাপাশি বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করে।’

তার মতে, শ্রেণিকক্ষে শেখা বিষয়গুলো হাতে-কলমে প্রয়োগের সুযোগ পেলে শেখার আগ্রহ বাড়ে। নিজের ধারণাকে প্রকল্পে রূপ দেওয়া এবং অন্যদের কাজ দেখার মধ্য দিয়েও নতুন কিছু শেখা যায়।

স্টেম ফেস্টের আহ্বায়ক ও মানারাত সায়েন্স ক্লাবের ইনচার্জ ড. মো. মাকসুদুল আলম বলেন, “শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। স্টেম ফেস্টের প্রতিটি আয়োজন শিক্ষার্থীদের শেখার আনন্দ, সৃজনশীলতা, সহযোগিতা ও বাস্তবমুখী চিন্তার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত।’

স্টেম ফেস্টের মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক ও শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম সাদেক বলেন, ‘আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা শুধু প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনই নয়, বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করা এবং নিজেদের জ্ঞানকে মানবকল্যাণে প্রয়োগ করার মানসিকতা অর্জন করুক।’

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব উল আলম বলেন, এবারের স্টেম ফেস্টে প্রায় ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহের প্রতিফলন। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের গবেষণা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি যে একদিন মানারাত থেকে একজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পাবেন। আসুন, আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি এবং তার জন্য স্বপ্ন দেখি। আর এর জন্য আমাদের এখন থেকেই শুরু করতে হবে। বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত সংযুক্ত ও পারস্পরিক নির্ভরশীল।’ 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফজলে ইলাহী বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ওপর মানবসভ্যতার সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, আবিষ্কার ও গবেষণার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আজ যারা নিজেদের প্রকল্প ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে, তারাই আগামী দিনে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞান কেবল নতুন কিছু আবিষ্কারের মাধ্যম নয়, বরং এটি নিয়মতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা ও অনুসন্ধানের একটি প্রক্রিয়া। মহাকাশ গবেষণা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের অগ্রগতি মানুষের সামনে মহাবিশ্বের অজানা রহস্য জানার সুযোগ তৈরি করেছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশবিজ্ঞান, জলবায়ুবিদ্যা ও আবহাওয়াবিদ্যাসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গবেষণা সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরার অধ্যক্ষ ড. মো. মোশাররফ হোসেন, মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, গুলশানের ভাইস প্রিন্সিপাল মো. আনোয়ারুল করীম, অধ্যাপক তাহমীনা ইয়াসমীন, বালক শাখার কো-অর্ডিনেটর মহসিন কোরায়শী, স্টেম ফেস্টের বালিকা শাখার আহ্বায়ক রোকসানা খানমসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।

শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবট, স্মার্ট চশমা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নানা উদ্ভাবনী প্রকল্পের মধ্য দিয়ে উৎসবটি বিজ্ঞানচর্চার একটি বাস্তবমুখী চিত্র তুলে ধরে। এখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পুরস্কারের জন্য প্রতিযোগিতা করেনি, বরং নিজেদের ধারণা পরীক্ষা করা, দলগতভাবে কাজ করা এবং মানুষের কল্যাণে প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে। নতুন প্রজন্মের এই কৌতূহল ও উদ্ভাবনী মানসিকতাই ভবিষ্যতে বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।

মিয়ানমারে পাচারকালে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ, আটক ১
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সারারাত এপাশ-ওপাশ? গভীর রাতে আরামদায়ক ঘুমের জন্য মেনে চলুন …
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
চবিতে ছাত্রদল নেতা মুছাকে স্মরণ, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
গভীর রাতে গুনাহ মাফ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ আমল 
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে জামায়াতকর্মী নিহত
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950