একাডেমিক সেমিনার © সৌজন্যে প্রাপ্ত
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সাইন্সের উদ্যোগে একাডেমিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে ফ্যাকাল্টি সেমিনার সিরিজের অংশ হিসেবে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়।
সেমিনারটিতে অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল ‘ক্লাউড’-এর ‘সংবিধান’: একটি দার্শনিক সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক কাঠামো, দর্শন ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে এই আলোচনায় শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
সেমিনারটির মূল উপস্থাপক ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব রিসার্চের ডিরেক্টর এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. নরম্যান কেনেথ সোয়াজো। সেমিনারের মডারেটর ছিলেন ইংরেজি ও আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র লেকচারার মো. মেহেদী হাসান। প্রারম্ভিক বক্তব্যে মেহেদী হাসান সেমিনারের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন।
অ্যানথ্রপিক হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা। অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই মডেল ক্লাউড একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভাষা মডেল, যার নকশায় নৈতিক ও দার্শনিক নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি নাগরিক ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মূল উপস্থাপনায় অধ্যাপক নরম্যান অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার “সংবিধানভিত্তিক” দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিশ্লেষণত্মাক আলোচনা করেন। তিনি দেখান কীভাবে এআই মডেল ক্লাউড নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার নীতি মেনে পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের সংবিধানভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কৃত্রিম সিস্টেমকে প্রকৃত নৈতিক বিচার বা সচেতনতা প্রদানের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, অ্যানথ্রপিকের ক্লাউড এআই মডেল অনেক ডাটার উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা স্পষ্ট নিয়ম ও অ্যালগরিদম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এটি যুক্তি, বোঝাপড়া, নৈতিক বিচার এবং প্রাসঙ্গিক মূল্যবোধ অনুসারে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।
তিনি উল্লেখ করেন, ক্লাউড মানুষের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা থেকে শেখে এবং ব্যবহারকারীর জন্য সহায়ক আচরণ করতে পারে। তবে একই সাথে তিনি অন্যান্য এআই ভাষার মডেলের তুলনায় ক্লাউড কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স এর ডিন এবং আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. রিজওয়ান নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা সত্ত্বেও এআই মডেলের অ্যালগরিদমগুলো বাস্তবে কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পারে সে বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেন। সেমিনারের শেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দর্শকরা অংশ নিয়ে তাদের মতামত ও প্রশ্ন রাখেন।