শহিদুল আলম © টিডিসি ফটো
নিজের অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প তুলে ধরে নিরাপদ ও আরামদায়ক জীবনের প্রচলিত সংজ্ঞার বাইরে গিয়ে জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। তিনি বলেছেন, আপাতদৃষ্টিতে স্বস্তিদায়ক হলেও এমন একটি নিরর্থক জীবনই কি মানুষ চায়, যেখানে কোনো প্রভাব নেই, কোনো গুরুত্ব নেই?
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) ২৬তম সমাবর্তনে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে শহিদুল আলম প্রশ্ন তোলেন, মানুষ কি কেবল বেঁচে থাকতে চায়, নাকি অর্থপূর্ণ হয়ে উঠতে চায়? তার ভাষায়, এর শুরু হয় ‘না’ বলার মধ্য দিয়ে যেভাবে সব সময় হয়ে এসেছে, সেই ধারাকে প্রত্যাখ্যান করার মধ্য দিয়ে।
তিনি বলেন, পূর্বনির্ধারিত শ্রেণিবিন্যাস ও কেবল অনুসরণের জন্য অনুসরণের সংস্কৃতির বিরুদ্ধেই ‘না’ বলতে হবে। তবে এর মূল্য আছে। জীবনকে কঠিন করে তুললে মানুষ বিরোধিতা করবে, কেউ আঘাত করবে, অধিকাংশ মানুষ উপেক্ষা করবে। এটিই সেই মূল্য। তবে সুখবর হলো স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে বাঁচা জীবনের প্রতিটি দিন তখন উত্তেজনাপূর্ণ, পরিপূর্ণ ও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
তিনি জানান, দেশের প্রতিটি সরকারের সঙ্গেই তার দ্বন্দ্ব ছিল। এরশাদ শাসনামলে তার মাথার দিকে লোডেড বন্দুক তাক করা হয়েছিল, বিএনপির প্রথম মেয়াদে তিনি আটটি গুলিবিদ্ধ হন এবং শেখ হাসিনার শাসনামলে কারাবন্দি অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদ, বুদ্ধ, হাদি এবং সব জাতি, বর্ণ ও ধর্মের সেই নারী-পুরুষদের গল্প, যারা একটি ভালো বাংলাদেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ঝুঁকি জেনেশুনেই তারা সেই পথ বেছে নিয়েছিলেন।
শহিদুল আলম বলেন, প্রকৃত নায়ক হলেন সাংবাদিক, চিকিৎসাকর্মী এবং ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষ, যারা সবকিছু হারিয়েও প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব সত্ত্বেও এবং হত্যা তালিকায় থাকা অবস্থায়ও তাঁরা নিজেদের সম্প্রদায়ের সেবা করে যাচ্ছেন। তাদের কাছ থেকেই শেখার আছে।