শহীদ আসিফ স্মরণে নর্দান ইউনিভার্সিটিতে আলোচনা, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের দাবি

২৮ জুলাই ২০২৫, ০৯:৫৮ PM , আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৫, ০২:৩০ PM
নর্দান ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ আসিফ ও রক্তাক্ত জুলাই : প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়

নর্দান ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ আসিফ ও রক্তাক্ত জুলাই : প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয় © টিডিসি

নর্দান ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত এক স্মরণসভায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ হাসানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়। ‘শহীদ আসিফ ও রক্তাক্ত জুলাই : প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক ওই আলোচনায় বক্তারা বলেন, শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সমাজে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা জরুরি। একই সঙ্গে তারা অবিলম্বে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ ও আন্দোলনের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানান।

সোমবার (২৮ জুলাই) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহীদ আসিফ হাসান স্মরণে নর্দান ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ আসিফ ও রক্তাক্ত জুলাই : প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আপনারা দেখেছেন, লাশ গুম করা হয়েছে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। কিন্তু তাদের বিচারের জন্য আমাদের এক বছর কেন অপেক্ষা করতে হবে? এই বিচার বিলম্বিত হওয়া এক দিনও উচিত নয়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার অনেক বেশি সময় নিচ্ছেন। তারা বিচারের উদ্যোগ নিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তা যথাযথ মনে করি না।’

নতুন স্বৈরাচার তৈরি হলে জুলাই পরাজিত হবে বলে মন্তব্য সলিমুল্লাহ বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই থেকে আমাদের শেখার অনেক কিছু আছে। আপনারা যেটাকে ‘জুলাই সনদ’ বলছেন, সেটি আমরা রক্ত দিয়ে লিখেছি। এখন সেটার স্বীকৃতি আদায় করে নিতে হবে। যদি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হয়, যদি স্বৈরাচার আবার ফিরে আসে অথবা নতুন কোনো স্বৈরাচার তৈরি হয়, তাহলে জুলাই পরাজিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ মানুষকে স্মরণ করে। যদি আমরা শহীদদের ভুলে যাই, তাহলে নিজেদের পরিচয় দেব অমানুষ হিসেবে। শহীদদের মনে রাখার অর্থ হচ্ছে— তাদের স্বপ্নের সঙ্গে বেঈমানি না করা। আমি মনে করি না, তাদের স্বপ্ন শুধু কোটা প্রথা বাতিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল, সুদূরপ্রসারী। এ দেশের সকল ধরনের বৈষম্য, অন্যায়, অবিচার, গুম, খুনের অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল তাদের। সেটি আমরা কতটা পূরণ করতে পেরেছি?’

সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘জাতিসংঘের হিসেবে শুধু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেই প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জন। এর আগের ১৫ বছরে কত প্রাণ গেছে, কত মানুষ গুম হয়েছে? স্বাধীনতার পর থেকে কত প্রাণ গেছে, তাও হিসাব নিতে হবে, বিচার করতে হবে। আমাদের এ দাবি জানাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আমাদের দেশের শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবীরা যে ভূমিকা রেখেছেন— আমি ভেতর থেকে সাক্ষী হয়ে বলছি, তা খুব গৌরবজনক ছিল না। ছাত্ররা যেভাবে এগিয়ে এসেছে, সেভাবে শিক্ষকরা এগিয়ে আসেননি। যারা এসেছেন, তারা ব্যতিক্রম; এই গুণী শিক্ষকরা অনেকটা বিরল ঘটনার অংশ।’

গুণী এই অধ্যাপক বলেন, ‘আমাদের দেশে একসময় আইয়ামে জাহেলিয়াত নেমে এসেছিল— এটাই তাদের প্রথম সাক্ষ্য। তারা রক্ত এবং প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করেছে, এই আইয়ামে জাহেলিয়াতকে বাংলাদেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত মেনে নেয়নি— এটাই দ্বিতীয় সাক্ষ্য। আমাদের যা ছিল, তা দিয়েই আমরা লড়াই করেছি। সম্পূর্ণ নিরস্ত্র থেকে দেশের ছাত্র-জনতা মনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও ঘৃণা নিয়ে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে লড়েছে।’

নর্দান ইউনিভার্সিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘আজকের ঘটনার সাক্ষী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য নর্দান ইউনিভার্সিটিকে ধন্যবাদ। যারা এই অভ্যুত্থানে প্রাণ দিয়েছে, অবদান রেখেছে—প্রত্যেকের স্বীকৃতি চাই। এটা ইতিহাস ও সত্যের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। যে লক্ষ্যে আমরা ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, সেই লক্ষ্য পূরণে ২০২৪ সালে আমরা সম্ভাবনা তৈরি করেছি। মানুষ যেন তার সম্পূর্ণ মানবিক মর্যাদা ফিরে পায়, সে জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শহীদ আসিফ হাসানের বাবা মাহমুদ আলমের পক্ষে বক্তব্য দেন আসিফের ভাই রাকিব হাসান। তিনি শহীদ আসিফকে স্মরণ করায় পরিবারের পক্ষ থেকে নর্দান ইউনিভার্সিটিকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদদের স্বীকৃতি এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের দাবি জানান।

নর্দান ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আসিফের পিতা মাহমুদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন নর্দান ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সদস্য লাবিবা আব্দুল্লাহ এবং শিক্ষাবিদ ড. মীর মনজুর মাহমুদ। 

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক উপদেষ্টা ড. মিজানুর রহমান ও রেজিস্ট্রার কমান্ডার মো. মোস্তফা শহীদ (অব.) বিএন। 

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় কোরআন তিলাওয়াত এবং জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় এই স্মরণসভা। এরপর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে জুলাই অভ্যুত্থানে নর্দানে ইউনিভার্সিটির অবদান ও শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণামূলক ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

বিয়ের এক বছরের মাথায় ভাঙনের মুখে তাহসানের দ্বিতীয় সংসারও
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ, ৮ শ্রমিক দগ্ধ
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
৩৯ বছর পর ম্যানসিটির ১০ গোলের তাণ্ডব, লন্ডভন্ড এক্সটার সিটি
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
বল বাসার চালে পড়ায় গরম পানি নিক্ষেপ; দগ্ধ হয়ে বার্ন ইউনিটে …
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত: বিতর্কিত …
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্নে ‘আরেকবার চেষ্টা করে দেখার…
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9