আইআইইউসিতে এখনো বহাল তবিয়তে নদভীর সহযোগী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৩৩ PM , আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৫, ০৩:১২ PM
আটক আবু রেজা নদভী এবং মাহফুজুর রহমান

আটক আবু রেজা নদভী এবং মাহফুজুর রহমান © টিডিসি সম্পাদিত

চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আইআইইউসি) কর্তৃপক্ষ বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবু রেজা নদভীর অবৈধ কার্যকলাপের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করার অভিযোগ উঠার পরপরই এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু রেজা নদভীর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ডিভিশনের ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই ডিভিশনের দায়িত্ব পালনকালে আবু রেজা নদভীর সন্তানকে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ায় পড়ার সম্পূর্ণ খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েভার ফান্ড থেকে জোগাড় করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অননুমোদিত অর্থ আত্মসাতের তদন্ত রিপোর্টে ২০২১ সালের মার্চ থেকে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত সম্মানী, উৎসব ভাতা এবং অন্যান্য ভাতার নামে অননুমোদিত অর্থ আত্মসাতে মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

তদন্তে রিপোর্টে থেকে জানা যায়, মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এই সময়ে ১০ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৩৪ টাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ড থেকে অবৈধভাবে গ্রহণ করেছেন। এই অর্থ ফেরত প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানকে একটি লিগ্যাল নোটিশও প্রেরণ করেন।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে নদভীর লুটপাটের সহযোগী হিসেবে তিনি আইআইইউসি টাওয়ার হতে মাসিক ৪০ হাজার টাকা করে ভাতা তুলতেন মর্মে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

জানা যায়, আইআইইউসি টাওয়ার হতে মাসিক প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা আয় হয় যার পুরোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি প্রকল্পে ব্যয় হওয়ার কথা থাকলেও এর সিংহভাগ অর্থ চলে যেত আবু রেজা নদভী ও তার সহযোগীদের হিসেবে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মেধাবৃত্তিটি তৎকালীন কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেন। এসব অভিযোগ ছাড়াও দখলদার নদভীর আরেক সহযোগী কাজী দীন মোহাম্মদকে আবারও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য করা ও ক্যাম্পাসে পুনর্বাসন করার অভিযোগ রয়েছে বর্তমান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের এক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীবান্ধব কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বরং তারা স্বৈরাচারের সহযোগীদের পুনর্বাসনের ব্যস্ত। জুলাই বিপ্লবের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম সংকট, টিউশন ফি কমানো, ছাত্র নির্যাতনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, জুলাই বিপ্লবে আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফসহ শিক্ষার্থীবান্ধব কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেননি। 

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি বিজয় মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কারের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষকে ১৩ দফা দাবি পেশ করা হয় যার অন্যতম দাবি ছিল স্বৈরাচারের দোসরদের এই ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, শিক্ষার্থীরা এইসব দাবির কোনো বাস্তব প্রতিফলন আজও দেখতে পায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইআইইউসির এক শিক্ষক বলেন, বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ড স্বৈরাচারের সহযোগীদের বিতাড়িত না করে বরং এক প্রকার পুনর্বাসনই করছে। এতে করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের দানা বাধছে।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার কর্নেল মোহাম্মদ কাশেম, পিএসসি (অব.) দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ওনার নিয়োগ বাতিল হয়নি। ওনি চাকরিতেই ছিলেন। বোর্ড অব ট্রাস্টি ওনার নিয়োগ বাতিল না করলে আমার তো কিছু করার নেই। কারণ বিষয়টি তো বোর্ড অব ট্রাস্টি দেখেন। তাকে কিছুদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যায়, আবার কিছুদিন দেখা যায় না বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে না এসেও কীভাবে নিয়মিত বেতন-ভাতা পান—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ওনার বেতন-ভাতা অ্যাকাউন্টস বিভাগ দেয়, সেই বিষয়ে আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে জানতে আইআইইউসির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলী আজাদী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি এই মুহূর্তে ব্যস্ত আছি। পরে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

এ বিষয়ে আইআইইউসির বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আনম শামসুল ইসলাম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তাই এই মুহূর্তে কোন মন্তব্য করতে রাজি নয়।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে চলা ছাত্রদের আন্দোলনের তোপের মুখে পড়ে গত ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই পলাতক ছিলেন আবু রেজা মুহাম্মদ নদভী। গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে রাজধানীর উত্তরা থেকে আটক করেছে ডিবি। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।

নারী কণ্ঠে প্রতারণা করে ৭৬ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন, বাজেয়াপ্ত…
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
মাদ্রাসা প্রধানের পদ শূন্য প্রায় তিন হাজার
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
ইসির তালিকায় কোন অঞ্চলে কত জন প্রার্থী, দেখুন এখানে
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মূখ্য সমন্বয়কারী তারিকুল ই…
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের দিন কি দুটি ব্যালটেই সিল দিতে হবে?
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
মনোনয়ন বৈধ করতে নতুন উদ্যোগ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬