বগুড়ায় জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠতে নিষেধ করায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৪ ছাত্রদল কর্মীকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল।
বুধবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে সদরের শহীদ খোকন পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশরাফুল ইসলাম এবং পুলিশ লাইনসে কর্মরত কনস্টেবল পারভেজ, সিফাত ও মামুন। আহত কনস্টেবল পারভেজকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শহরে নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী শহীদ খোকন পার্কে সমবেত হন। সদর আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এলে তারা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
এ সময় বেশকিছু নেতাকর্মী জুতা-স্যান্ডেল পায়ে শহীদ মিনারে উঠে শ্লোগান দিতে থাকেন। ওই এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী ভিতরে ঢুকে জুতা পায়ে থাকা নেতাকর্মীদের শহীদ মিনার থেকে নামতে অনুরোধ করেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অতর্কিতভাবে পুলিশের উপর হামলা চালায়। তারা প্ল্যাকার্ড বহনের লাঠি দিয়ে পুলিশের উপর হামলা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান। তিনি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শহীদ মিনারে জুতা পায়ে নেতা-কর্মীদের ওঠার অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উপর হঠাৎ করেই হামলা চালায়। আমরা অনুমতি নিয়েই সমাবেশের আয়োজন করি। এরপরও পুলিশ সমাবেশ শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম বদিউজ্জামান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠতে নিষেধ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিন।