ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবসময় দেশের সব শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে। সেই ডাকসুর মর্যাদা ক্ষুণ্ন কোনোমতেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং সাবেক ডাকসু ভিপি রাশেদ খান মেনন।
তিনি বলেন, ডাকসুর ভিপির ওপর হামলার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এ হামলার ঘটনাকে কেউ যেন পাকিস্তান আমলে এনএসএফের চালানো সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ না পায়।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ওয়ার্কার্স পার্টি কার্যালয়ে ছাত্রমৈত্রীর নেতাদের সঙ্গে ‘ডাকসু’ ভিপি হিসেবে নিজের সে সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মেনন বলেন, বিভিন্ন দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও ডাকসু ভিপির নেতৃত্বেই সব ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন ইস্যুতে সভা করে সিদ্ধান্ত নিতেন। সাবেক ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ এভাবে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মুখপাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
‘তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বেই সভাগুলোতে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন উভয় গ্রুপ ও এনএসএফ-এর একাংশও যুক্ত ছিল। এর ব্যতিক্রম প্রথমে ঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কুখ্যাত গভর্নর মোনায়েম খানের আসা কেন্দ্র করে ছাত্র সমাজের বিরোধিতায় বাধা দেওয়াতে। সেদিন এনএসএফের গুন্ডাবাহিনী ডাকসু অফিসে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় ছাত্র সংগঠনের সভায় আক্রমণ করেছিল। কিন্তু ছাত্রদের প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়। এছাড়াও পরবর্তীকালে এ ধরনের ঘটনা আরও দু’একবার ঘটেছে।’
তিনি বলেন, ডাকসু কেবল শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান নয়। এটা একটা জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ডাকসু ভাষা আন্দোলন, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনাতে নেতৃত্ব দিয়েছে। ‘ডাকসু’ সব দল ও মতের প্রতিনিধিত্ব করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী আব্দুল মোতালেব জুয়েল, সহ-সভাপতি অতুলন দাস আলো, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসাম খান ফয়সাল প্রমুখ।