সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি ফটো
গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় মশাল মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন আন্দোলন’ নামে একটি প্লাটফর্ম। আগামীকাল সায়েন্সল্যাব থেকে এ মশাল মিছিলটি শুরু হয়ে শাহবাগে এসে শেষ হবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের।
এবি জুবায়ের বলেন, ‘গণভোটের রায় উপেক্ষা করার সুযোগ আমরা জুলাই জনতা দিব না। গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আগামীকাল সন্ধ্যা সাতটায় সায়েন্সল্যাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আমরা মশাল মিছিল করবো।’
তিনি বলেন, ‘গণভোটকে অস্বীকার করে দেশে যা ঘটতে যাচ্ছে তা কোন বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়। বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। গণভোটের রায় উপেক্ষা গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের চেষ্টা, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশকে অকার্যকর করার উদ্যোগ, মানবাধিকার কাঠামো দুর্বল করে দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ এ সমস্ত পদক্ষেপ একত্রে একটি সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যই আমাদেরকে নির্দেশ করে। আর সেটা হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তম্ভকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে আনা। গুম তন্ত্র দমনমূলক শাসন ব্যবস্থাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটের রায়কে অস্বীকার করার অর্থ হলো, জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাকে অস্বীকার করা। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায় কোন সাধারণ মতামত নয়। এটি জনগণের একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’
এসময় তিনি বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে; গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বহাল রাখতে হবে; মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত অবস্থায় পাশ করতে হবে; বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারকে হুঁশিয়ার দিয়ে এবি জুবায়ের বলেন, ‘জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে, মানবাধিকার ধ্বংস করে এবং বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে কোন সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। সুতরাং আপনারা অতীত থেকে শিক্ষা নিন। দয়া করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই সনদ, গণভোট ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে টালবাহানা থেকে সরে আসুন। জুলাই সনদ সম্পূর্ণ দাড়ি, কমা, সেমিকলনসহ বাস্তবায়ন করতে হবে। এখানে কোন ছাড় নয়।’