ফজলুর রহমান খোকন © টিডিসি ফটো
আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন ছাত্রদলের নব নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার চতুর্থ সহকারী জজ আদালত ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
ছাত্রদল সভাপতি-সম্পাদকের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পেশকার কল্যাণ কুমার সাহা
সভাপতি-সম্পাদকের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের কাছে এখনো কোন কাগজপত্র আসেনি। কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে আমরা নির্বাচিত। তাই আমাদের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কোন এখতিয়ার আদালতের নেই।
তিনি আরও বলেন, যদি আমাদের নির্বাচনে কোন অনিয়ম হত তাহলে বিষয়টি ভিন্ন ছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ স্বচ্ছ একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত সভাপতি-সম্পাদকের কার্যক্রমের ওপর আদালত কীভাবে নিষেধাজ্ঞা দেয় তা আমার বোধগম্য নয়। আদালত যদি এমন কোন নির্দেশনা দিয়ে থাকে তবুও আমরা আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাব।
নিষেধাজ্ঞার কারণ: মামলার অভিযোগে আমানউল্লাহ বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২ অনুযায়ী ছাত্র সংগঠন কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে থাকতে পারে না। সে অনুযায়ী ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে বলেছিল ছাত্রদল তাদের অঙ্গ সংগঠন নয়। বিএনপি পঞ্চম কাউন্সিলে তা পাস করেছিল। চলতি বছরের ৩ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদলের কমিটি ভেঙে দেন। ৯ জুন মির্জা ফখরুল নির্বাচন চালানোর জন্য তিনটি কমিটি গঠন করেন। ২২ জুন ছাত্রদলের ১২ জনকে বহিষ্কার করেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
গত ১৯ সেপ্টম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে ১৮৬ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফজলুর রহমান খোকন। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ইকবাল হোসেন শ্যামল। তিনি পেয়েছেন ১৩৯ ভোট। দীর্ঘ ২৮ বছর পর সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব।
এর আগে ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল ১৪ সেপ্টেম্বর। এর মাত্র দুদিন আগে সাবেক কমিটির এক নেতার করা মামলায় কাউন্সিলের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ আসে।
পরে দলের সিদ্ধান্তে ছাত্রদলের কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কাউন্সিলর, প্রার্থী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা স্কাইপের মাধ্যমে বৈঠক করেন। বৈঠক থেকে মির্জা আব্বাসের বাসায় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত হয়।