বিএনপির লোগো © সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে, মামলা, কারাবরণ, নেতাকর্মীদের গুম-খুনের অভিযোগ আর সাংগঠনিক বিপর্যয়ের চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি। প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে এসে দলটির সামনে এখন অতীতের ক্ষত সারিয়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার দ্বৈত চ্যালেঞ্জ।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজ মঙ্গলবার নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তাই নেতাকর্মীদের কাছে ভিন্ন তাৎপর্যের, ভিন্ন উচ্ছ্বাসের।
‘জিয়া থেকে খালেদা, খালেদা থেকে তারেক’ বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলা তিনটি পর্বে বিভক্ত।
প্রথম পর্বে প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ পরবর্তী বিধ্বস্ত বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণা নিয়ে তিনি দলটি গড়ে তোলেন। ১৯৮১ সালে তাঁর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর দলটি কার্যত অস্তিত্বের সংকটে পড়ে।
দ্বিতীয় পর্বে হাল ধরেন খালেদা জিয়া। গৃহবধূ থেকে রাজপথের নেত্রী হয়ে ওঠা, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন - বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার কারিগর তিনি।
আর তৃতীয় পর্ব, যা এখন চলমান - তারেক রহমানের নেতৃত্ব। দীর্ঘদিন লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলকে সংগঠিত করে, তৃণমূলে সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দলকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছেন বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের এই নেতার হাত ধরেই এখন রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জে বিএনপি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এবার কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের শুরু। এরপর সকাল ৯টায় শেরেবাংলা নগরে প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
বিকেলে নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র্যালি এবং সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
এছাড়া সারাদেশে জেলা ও মহানগরে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং রক্তদান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
দলীয় সূত্র বলছে, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু উৎসবের নয়, আত্মপর্যালোচনারও। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় প্রশাসন ও দলের মধ্যে সমন্বয়, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দলের ভেতরে ত্যাগী ও সুবিধাবাদীদের দ্বন্দ্ব মেটানো - তারেক রহমানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের দল। ৪৮ বছরে বহু ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দলটি টিকে আছে জনগণের ভালোবাসায়। এখন সময় রাষ্ট্র মেরামতের। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই কাজ শুরু করেছি।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠার চার যুগ পর বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা - বিরোধী দলের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার মডেল দেখানো। জিয়াউর রহমানের আদর্শ আর খালেদা জিয়ার আপসহীনতা ধরে রেখে তারেক রহমান সেই পরীক্ষায় কতটা উত্তীর্ণ হন, তার ওপরই নির্ভর করবে বিএনপির পরবর্তী পথচলা।