এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপির প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল চিকিৎসাধীন © সৌজন্যে প্রাপ্ত
বিএনপির সিনিয়র নেতা দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতালটির সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জিয়াউল হকের অধীনে বিএনপির এই সিনিয়র নেতার চিকিৎসা চলছে।
সম্প্রতি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক লেখা-লেখি চলছে। দীর্ঘ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলেও দলের এক সময়ের অন্যতম এই নেতার খোঁজ-খবর কেউ রাখেন না বলে ওইসব লেখায় উঠে আসছে। বিএনপিতে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া একজন সজ্জন ব্যক্তি ও সৎ নেতা হিসেবে পরিচিত। তার স্ত্রী প্রফেসর ড. শাহিদা রফিক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক এবং বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ছিলেন।
এছাড়া শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি তিনিও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের ২ মার্চ তিনি ইন্তেকাল করেন। আগে থেকেই গুরুতর অসুস্থ ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আরও অসহায় অবস্থায় রয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানা যায়।
অবশেষে, দলের সাবেক সিনিয়র এই নেতার অসুস্থতার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য তার সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদিরকে (বিটু) হাসপাতালে গিয়ে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে নির্দেশ দেন।
হাসপাতালে গিয়ে ডা. বিটু দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করে শুভকামনার বার্তা পৌঁছে দেন।
এ সময় ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) বলেন, দেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী এবং জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিত্বের অসুস্থতার সংবাদে প্রধানমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার নির্দেশনায় সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়েছে। আমরা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতিও আন্তরিক সহমর্মিতা জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, ১/১১-এর জরুরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার হলে, তার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে সাহসিকতার সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। বিএনপির রাজনীতি বিশেষ করে জিয়া পরিবারের জন্য সবচেয়ে কঠিন সেই সময়ে বড় বড় আইনজীবীতে ঠাসা দলটির কোনো ডাঁকসাইটের আইনজীবী খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে পাশে দাড়াননি। তখন আপাত নিরীহ ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া জিয়া পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং আইনি লড়াই চালান।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগ অসুস্থ প্রবীণ রাজনীতিকের প্রতি রাষ্ট্রীয় সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।