ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লোগো © সংগৃহীত
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির দাবি, এ ধরনের বক্তব্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। বুধবার (৩ জুন) এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত হত্যা একটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর বিষয়। ২০০০ সালের পর থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি সাধারণ নাগরিককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। গত এক দশকে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রায় ১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি।
দলটির অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় নিরস্ত্র ও অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের বহু ঘটনার প্রমাণ থাকলেও এখন পর্যন্ত দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি সীমান্তে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের হয়রানি, নির্যাতন, আটক, এমনকি ধর্ষণ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এতে আরও বলা হয়, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও সীমান্ত হত্যার ঘটনায় ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে ভিন্ন ধরনের ভূমিকা প্রত্যাশা করা হলেও সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দলটি জানায়, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়া, হাটবাজারে বেচাকেনা, কাজের সন্ধান, কৃষিকাজ কিংবা নদীতে মাছ ধরার মতো নানা কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষকে সীমান্ত অতিক্রম করতে হয়। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো অবস্থাতেই গুলি করে হত্যা করা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত হত্যার বিষয়ে সরকার যদি ভারতীয় বয়ানের ওপর নির্ভর করে, তাহলে জনগণের আস্থা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।