মনিরা শারমিন © টিডিসি
সংরক্ষিত নারী আসনে নিজের মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় বৈষম্যমূলক, পক্ষপাতমূলক ও আইনবহির্ভূত আচরণের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর দেওয়া এক আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এর অনুচ্ছেদ ১২(১)(f) অনুযায়ী তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে একই বা অনুরূপ আইনি অযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতাসীন বিএনপি মনোনীত কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, সমতা ও আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
আবেদনে তিনি বিএনপি মনোনিত কয়েকজন প্রার্থীর বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের মধ্যে মাধবী মারমার ক্ষেত্রে বলা হয়, তিনি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে ৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে নিয়োগপ্রাপ্ত হন, যা একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। সংশ্লিষ্ট আইনে সদস্যদের ‘জনসেবক’ হিসেবে গণ্য করা হলেও তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি। সে ক্ষেত্রে আরপিওর অনুচ্ছেদ ১২(১)(c) ও ৩২(২)(t) অনুযায়ী তিনি অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আন্না মিনজের ক্ষেত্রে অভিযোগ করা হয়, তিনি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর অফ প্রোগ্রামস পদে কর্মরত ছিলেন বা আছেন। সংস্থাটি বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী হওয়ায় আরপিওর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তার পদত্যাগ বা অব্যাহতির পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে নির্বাচন করার যোগ্যতা থাকে না। তবুও তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
জীবা আমিন খানের বিষয়ে বলা হয়, তিনি দ্বৈত নাগরিক হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন এবং ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছেন। তবে নাগরিকত্ব ত্যাগ কার্যকর হওয়ার আগেই তার যোগ্যতা যাচাই না করেই মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলে তা আইনগত প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া ফাহমিদা হকের বিষয়ে অভিযোগ করা হয়, তিনি সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের পরিচালক ছিলেন এবং ১৯ এপ্রিল পদত্যাগ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী হলে তার ক্ষেত্রেও আরপিওর অনুচ্ছেদ ১২(১)(i) প্রযোজ্য হতে পারে। যথাযথ যাচাই ছাড়া তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা আইনসঙ্গত নয় বলে উল্লেখ করা হয়।
মনিরা শারমিন তার আবেদনে বলেন, তার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন সংবিধানের সমতার নীতি, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মানদণ্ড এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের পরিপন্থী।
এ অবস্থায় তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—উল্লিখিত প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করা। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের যোগ্যতা বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত করা। তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণার সিদ্ধান্তও একই মানদণ্ডে পুনঃপর্যালোচনা করা। সকল প্রার্থীর ক্ষেত্রে আইনের সমান ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। প্রয়োজনবোধে প্রকাশ্য শুনানির ব্যবস্থা করা, যাতে জনমনে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে মনিরা শারমিন লিখেছেন, নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে খোদ নির্বাচন কমিশনের বৈষম্যমূলক, পক্ষপাতমূলক ও আইনবহির্ভূত আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে রাখলাম। এই প্রতিবাদ আরও বড় পরিসরে হওয়া উচিত ছিল। কেন হলো না তার উত্তর আমার জানা নাই।
তিনি আরও লেখেন, বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন দ্বৈত নাগরিক, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের। বাকি ২ জন আন্তর্জাতিক সংস্থায় নির্বাহী প্রধান ছিলেন, আরেকজন বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য যা একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পদ যা সরাসরি আইন বহির্ভূত। এই ৪ জন নির্বাচনের অযোগ্য হলেও তারা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বলে কেউ টু শব্দটি করলো না। হায় সেলুকাস!