বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান © টিডিসি ফটো
সমস্যা সমাধানে জনগনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার রাতে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দোতলার ভেনকনিতে দাঁড়িয়ে উপস্থিত কয়েক হাজারনেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে দলের (বিএনপির) দিকে তাকিয়ে আছে। কাজেই এখানে যে সকল নেতাকর্মী আছে, সারা দেশে আমাদের যে সকল নেতাকর্মী আছে আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে, আমাদেরকে আইন শৃঙ্খলার ভিতরে থাকতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক সমস্যা আছে দেশে। মানুষকে বোঝাতে হবে। আমাদেরকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষকে ধৈর্য ধারণ করানো শিখাতে হবে, ধৈর্য ধারণে তাদের সহযোগিতা করতে হবে।
নয়াপল্টনের কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতির কারণে নয়া পল্টনের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বিকাল থেকেই।
বিষয়টির প্রতি ইংগিত করে তারেক রহমান বলেন, মানুষের সমস্যা হয়, কষ্ট হয়, অসুবিধা হয় সেই জিনিসগুলো করা যাবে না।এখন এক নাম্বর কাজ হচ্ছে, এই রাস্তাটা ক্লিয়ার করতে হবে।
বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে এরকম বিশৃঙ্খল পরিবেশ থাকলে তার পক্ষে দলীয় অফিসে আসা কষ্টকর উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, অফিসে যাতে আমি আসতে পারি এই রাস্তা স্বাভাবিক রাখতে হবে। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি অফিসে আসতে পারবো। আপনাদের সহযোগিতা না থাকলে আমি অফিসে আসতে পারবো না। আপনারা কি চান আমি অফিসে আসি?
দলীয় প্রধানের এই বক্তব্যে নেতা-কর্মীরা ‘হ্যাঁ’ সূচক শ্লোগান দিলে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, তাহলে আপনাদের সহযোগিতা করতে হবে, পরিবেশটা নরমাল রাখতে হবে। রাখা যাবে সেটাআমি আরো দুই-একদিন অফিস আসবো। আমি দেখব… যদি স্বাভাবিক দেখি তাহলে আমি আসবো। আর যদি স্বাভাবিক থাকেন তাহলে কিন্তু অফিসে আমি আরো আসব। কিন্তু এরকম রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। আজ যদি এরকম রাস্তা বন্ধ হয় তাহলে আমার পক্ষে অফিসে আসা সম্ভব না। অফিসে আসলে নেতাকর্মী সকলের সাথে দেখা সাক্ষাত করা সম্ভব হবে, সাংগঠনিক কাজ করা সম্ভব হবে। আমি কথা বুঝাতে পেরেছি ?
তারেক রহমান বলেন, যদি আমাকে পল্টন অফিসে দেখতে চান সবাই আপনাদের তাহলে রাস্তার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে হবে। রাস্তা এরকম বন্ধ করা যাবে না। মানুষের চলাচলে বাধা বিঘ্ন দেওয়া যাবে না। বোঝা গেছে? তাহলে এখন আধা ঘন্টার মধ্যে ক্লিয়ার করেন সবাই রাস্তাটা ক্লিয়ার করেন। মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে দলের দিকে তাকিয়ে আছে।
তিনি বলেন, আপনারা যদি এরকম করেন এলাকার মানুষের সমস্যা হবে, হাজার হাজার মানুষের সমস্যা হবে। আমরা দেশের মানুষের সমস্যার কারণ হতে চাই না। তাইতো নাকি?
পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী দোতলা থেকে নেমে নিজের গাড়িতে উঠেন।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাংসদ রফিকুল আলম মজনু, ঢাকা দক্ষিন সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।