জাপা মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী © সংগৃহীত
গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী-সহ মোট ২৮ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৫ আসনে ৪০ জন প্রার্থীর মধ্যে এই ২৮ জন প্রার্থী নির্ধারিত ভোটের এক-অষ্টমাংশেরও কম ভোট পেয়েছেন।
জাপা মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এ নির্বাচনে দুইটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) ও গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে উভয় আসনের মধ্যে গাইবান্ধা-৫ আসনে তিনি লাঙ্গল প্রতীকে মাত্র ৩ হাজার ৪২৭ ভোট পেয়ে শুধু জামানতই হারাননি, বরং চতুর্থ স্থানে নেমে যান। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল মোট বৈধ ভোটের চেয়ে নগণ্য। জাপা মহাসচিবের এই পরাজয় দলটির জন্য বড় একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুধু ব্যারিস্টার শামীম হায়দারই নন, গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে জাপা মনোনীত সব প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। দলটির মনোনীত প্রার্থীরা কেউই নিজ নিজ আসনে তৃতীয় বা চতুর্থ অবস্থানের বাইরে যেতে পারেননি। এছাড়া জেলার দুই নারী প্রার্থীও জামানত হারানো প্রার্থীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তারা হলেন গাইবান্ধা-১ আসনের ছালমা আক্তার (কলস প্রতীক) ও গাইবান্ধা-৫ আসনের রাহেলা খাতুন (কাঁচি প্রতীক)।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কোন প্রার্থী মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই নিয়ম অনুসারেই জেলার পাঁচটি আসনে এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হলো।
আসনভিত্তিক জামানত হারানো প্রার্থীর সংখ্যা ও তাদের প্রাপ্ত ভোটের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন—হাতপাখা: রমজান আলী (২০৬৪), কাঁচি: পরমানন্দ দাস (৩৯৯), প্রজাপতি: কওছর আজম হান্নু (১৭৪), কলস: ছালমা আক্তার(৩৭৮), ঢেঁকি: মোস্তফা মহসিন (২৭১৪০)।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন—লাঙল: আব্দুর রশীদ সরকার (২১৩১০), হাতপাখা: মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ (২৩৬৭), কলম: শাহেদুর জাহান (১৯৭), কাস্তে: মিহির কুমার ঘোষ (২৩৮২), কাঁচি: আহসানুল হাবীব সাঈদ (৬২৯)।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— লাঙল: মইনুর রাব্বী চৌধুরী (১৬৩৮), ট্রাক: সুরুজ মিয়া (১৭৯২), হাতপাখা: এটিএম আওলাদ হোসাইন (২৮৩৫), কাস্তে: আব্দুল্লাহ আদিল (৫২১), আপেল: মোছাদ্দিকুল ইসলাম (১৪৭), কলম: মনজুরুল হক (১৫৮), ঘোড়া: এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি (২০৪৫), ঢেঁকি: আজিজার রহমান (১১৪২)।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন—লাঙল: কাজী মো. মশিউর রহমান (২৩৬০), হাতপাখা: সৈয়দ তৌহিদুর রহমান তুহিন (১৩৭৩), কোদাল: আতোয়ারুল ইসলাম (৩৬৮), মোটরসাইকেল: আব্দুর রউফ আকন্দ (১৫৫২)
গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— লাঙল: শামীম হায়দার পাটোয়ারী (৩৪২৭), হাতপাখা: আজিজুল ইসলাম কাঁচি (২২০৭), কাঁচি: রাহেলা খাতুন (২৪৯), কাস্তে: শ্রী নিরমল (৪৬৮), ঘোড়া: মেহেদী হাসান বিদ্যুৎ (৪৯৯), মোটরসাইকেল: এইচ এম গোলাম শহীদ রনজু (৮৭০৬)।
ভোটাররা অনেক প্রার্থীকেই প্রত্যাখ্যান করেছেন। সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী আসনে সবচেয়ে বেশি ৮ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।
জেলা নির্বাচন অফিসার শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের হিসাব অনুযায়ী জামানত বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, গাইবান্ধা জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন। এরমধ্যে বিপুল সংখ্যক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেও অনেক প্রার্থী ভোটারদের আস্থা অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।