সাতক্ষীরার চারটি আসনে জয়ী জামায়াত প্রার্থীরা © সংগৃহীত
১৭ বছরের রাজনৈতিক নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সাতক্ষীরার সংসদীয় রাজনীতিতে বড় প্রত্যাবর্তন ঘটলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই অভাবনীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পরাজিত করে জেলার সবকটি আসনেই ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীদের এ জয় বা ‘ক্লিন সুইপ’ উপকূলীয় এ জেলার রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রক্রিয়া চললেও স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত সবকটি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের এই বিজয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে জয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ। ১৬৮টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ৩৩০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৯৮৫ ভোট। ইজ্জত উল্লাহ ২৯ হাজার ৩৪৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬০ হাজার ৪২৩ ভোট। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৩২ ভোট। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস থাকলেও শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছেন জামায়াতের মুহা. রবিউল বাসার। ১৬৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৩ ভোট। এখানে বিএনপির ধানের শীষকে পেছনে ফেলে মূল লড়াইয়ে উঠে আসা স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৮৩৪ ভোট। রবিউল বাসার ৩৮ হাজার ৯৩৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ঢাকা-৮ আসনে ফলাফল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ আসিফ মাহমুদের
সাতক্ষীরা-৪, শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন বর্ষীয়ান জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। ৯৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৪৬২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ড. মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪২৪ ভোট। ২১ হাজার ৩৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সমগ্র জেলায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত রায় সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জামায়াতের এই বড় জয়ে জেলাজুড়ে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উল্লাস লক্ষ্য করা গেছে।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ্ আফরোজা আক্তার জানান, শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।