শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ও আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আমির © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
কাস্টমসের অনাপত্তিতেই ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আমির বেলাল উদ্দিনকে টাকা বহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন রাগীব সামাদ।
তিনি বলেন, কাস্টমসের অনাপত্তিতেই ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে টাকা বহনের অনুমতি দেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।
এদিকে জেলা জামায়াত আমিরের অর্ধ কোটি টাকাসহ আটক হওয়ার ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাজানো নাটক বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও জামায়াত আমির একজন ব্যবসায়ী। ঢাকা বিমানবন্দর ছাড়পত্র দিলেও সৈয়দপুরে এয়ারপোর্টের মত একটা সিকিউর জায়গায় এ ধরনের নাটক সাজানো হয়েছে। দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ অনাপত্তিপত্র দেন বলে জানিয়েছিলেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
ওই সময় তিনি বলেন, চলাফেরার সুবিধা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি বিমানে নগদ অর্থ বহন করেছেন। এটি কোনো অপরাধ নয়। তিনি নিজের টাকা বহন করেছেন। যারা এ কাজটি করেছেন, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে নাটক সাজানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আটক ব্যক্তি একজন বয়স্ক মানুষ এবং মানসিক নির্যাতনের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরপরও ঘটনাটিকে সাজানোভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। যারা মনে করছে তারা নির্বাচনে হেরে যাবে, তারাই এসব করছে। কারা এসব করছে, তা গণমাধ্যম ও জনগণ বুঝতে পারছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জুবায়ের বলেন, একজন ব্যক্তি তার নিজের টাকা দেশের যেকোনো স্থানে বহন করতে পারেন। এটি কোনো অপরাধ নয়।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, যারা আগের নির্বাচনে যুক্ত ছিল, জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখিয়েছে। এখন প্রশাসনের একটি অংশ একপেশে ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এর আগে সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে জেলা জামায়াত আমিরকে আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম। ওই সময়ে তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আটককৃত ব্যক্তি ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির। আমরা ওনাকে আটক করেছি। এখনও সঠিক টাকার সংখ্যাটি বলতে পারব না। টাকা এখনও গণনা করা হয়নি। তবে ওনাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কিসের টাকা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বলা যাবে।