যশোরের শার্শা
নার্গিস পারভিন মুক্তি © সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলীয় কৌশল, তৃণমূলের মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক সক্রিয়তার ভিত্তিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়ন করছে বিভিন্ন দল। যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলায় এ প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘অগ্নিকন্যা’-খ্যাত নার্গিস পারভিন মুক্তির নাম।
রাজপথের আন্দোলন থেকে আদালতের কাঠগড়ায়—দুই অঙ্গনের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে তার রাজনৈতিক পরিচিতি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং প্রতিকূল সময়ে দৃঢ় অবস্থান তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এনেছে।
১৯৭৮ সালের ১৮ অক্টোবর শার্শা উপজেলার শিয়ালঘোনা গাতীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন নার্গিস পারভিন মুক্তি। উচ্চশিক্ষা শেষে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত নং-০৯-এ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আদালতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে বিচারপ্রক্রিয়ার বাস্তবতা, ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ এবং আইনের প্রয়োগগত সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা দিয়েছে বলে ঘনিষ্ঠরা জানান।
ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরবর্তী সময়ে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। দলীয় কাঠামোয় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ক্রীড়া সম্পাদকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে মামলা ও হয়রানির মুখোমুখি হলেও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন বলে সহকর্মীরা উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের প্রতি আনুগত্যের কথা বলেন। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আন্দোলন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হলে তার অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে নার্গিস পারভিন মুক্তি বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা, গ্রাম ও সীমান্ত অঞ্চলে নারীদের আইনি সহায়তা সহজলভ্য করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব বিকাশে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া এগুলোই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। শার্শার মতো সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতেও আমি কাজ করতে চাই। রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার বিষয় নয়, এটি মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।’
তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ হবে দলীয় সিদ্ধান্তে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজপথের অভিজ্ঞতা ও আইন অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকার সমন্বয়ে নার্গিস পারভিন মুক্তি সংরক্ষিত নারী আসনের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।