শেরপুর-২
দুই প্রধান প্রার্থী ফাহিম চৌধুরী ও গোলাম কিবরিয়া © টিডিসি সম্পাদিত
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসনে ভোটের উত্তাপ এখন চরমে। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় গ্রাম-গ্রাম, হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে স্কুল-মাদ্রাসা পর্যন্ত সর্বত্র চলছে প্রার্থী ও সমর্থকদের সরব প্রচারণা। মাইকে ভোট চাওয়া, লিফলেট বিতরণ, পথসভা ও ঘরে ঘরে জনসংযোগে পুরো আসনজুড়েই নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মাঠে মূল লড়াইটি গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরীর বিপরীতে মাঠে রয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল কায়েস এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী আবদুল্লাহ বাদশাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিন পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মাঠে জামায়াত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি বর্তমানে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। নালিতাবাড়ী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ, ধারাবাহিক গণসংযোগ এবং তরুণ ভোটারদের সমর্থন তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। অন্যদিকে নকলা উপজেলায় বিএনপি প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে দৃঢ়। ফলে শেষ মুহূর্তে পুরো আসনজুড়েই ভোটের সমীকরণ হয়ে উঠেছে টানটান।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ফাহিম চৌধুরী এবারও ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন। সে সময় নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি ভোট বর্জন করেছিলেন। তার বাবা জাহেদ আলী চৌধুরী ২০০১ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন এবং নকলা–নালিতাবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও পারিবারিক গ্রহণযোগ্যতাকে সামনে রেখে এবার ভোটের মাঠে সক্রিয় ফাহিম চৌধুরী।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে নকলা–নালিতাবাড়ীতে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে কাজ করবো। বেকারত্ব দূরীকরণ, মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন আমার অগ্রাধিকার। আমার বাবা যেভাবে এই এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন, আমিও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মানুষের সেবা করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।”
অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি বলেন, “এই আসনের কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পর্যটন খাতকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আমি মাঠে নেমেছি। দীর্ঘদিন ধরে নকলা–নালিতাবাড়ীর প্রতিটি গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনেছি। ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকেই মানুষ বিজয়ী করবে।”
এদিকে টানা কয়েকটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর এবার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে। আওয়ামী লীগের মতো বড় দল মাঠে না থাকায় ছোট দলগুলোর তৎপরতাও চোখে পড়ছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে শেরপুর-২ আসনে শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন বিএনপি অথবা জামায়াতের মধ্য থেকেই—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নকলা ও নালিতাবাড়ী এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৭ জন। ভোটগ্রহণের জন্য এ আসনে ১৫৪টি ভোটকেন্দ্রের বিপরীতে ৮২০টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত শেরপুর-২ আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে ভোটারদের উপস্থিতি ও সিদ্ধান্ত—আর সেই সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো নকলা ও নালিতাবাড়ী।