যশোর শহরের ভৈরব চত্বরে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ © টিডিসি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তির নির্বাচন, রাষ্ট্রগঠনের নির্বাচন এবং ফ্যাসিবাদকে কবরস্থ করার নির্বাচন। আগামী ১২ তারিখ সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে এবং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পাহারা দিতে হবে। সেদিনই যশোরবাসী নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র ভৈরব চত্বরে অনুষ্ঠিত ১১-দলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনী পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘একটি পক্ষ মা-বোনদের হিজাব খুলে লাঞ্ছিত করছে, ভারতের দালালি করার চেষ্টা করছে। সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে লিপ্ত। তারা বাংলাদেশের মানুষের প্রয়োজন, চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে না। তাদের নেতারা একদিকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলছেন অন্যদিন তাদের কর্মীরা ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন—এটাই তাদের দ্বিমুখী রাজনীতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা আজ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই আপনাদের প্রত্যেককে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে—ভোট প্রার্থীর কাছে নয়, ভোট রয়েছে জনগণের হাতে। এমনকি যিনি চাঁদাবাজি করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তিনিও তার সন্তানের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ চান। তাদের দাওয়াত দিন।’
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘গতকাল প্রশাসনের আচরণ সবাই দেখেছেন, যা ছিল একধরনের টেস্ট ম্যাচ। আবারও পুরোনো আওয়ামী কায়দায় পুলিশকে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে। আপনাদের মনে রাখতে হবে, আপনারা যে পোশাক পরেন তা জনগণের আস্থার প্রতীক। আপনারা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে নয়। আপনারা জনগণের জন্য কাজ করেন এবং জনগণের টাকায় বেতন পান ‘
তিনি বলেন, ‘একসময় ডিবি হারুন, বেনজীর আহমেদের মতো লোকেরাও চাপ প্রয়োগ করেছিল, কিন্তু আজ তারা কোথাও নেই। আপনারা জুলাইয়ের আন্দোলনের কথা ভুলে যাবেন না। গুলি-গোলাবারুদ দিয়েও জনগণকে থামানো যায়নি। তাই গোলামি মানসিকতা পরিত্যাগ করুন। আগের তিনটি নির্বাচনের মতো আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন আমরা চাই না।’
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আপনারা অবৈধ টাকার স্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। আজ একদিন গোলামি করলে আগামী পাঁচ বছর রাজনৈতিক নেতাদের কাছে পোস্টিং ও বদলির জন্য দাসত্ব করতে হবে। আপনাদের বিএনপির পুলিশ, জামায়াতের পুলিশ কিংবা এনসিপির পুলিশ হওয়ার দরকার নেই—আপনারা বাংলাদেশের পুলিশ হন। আমরা আপনাদের পাশে থাকব, পাহারা দেব। পুরো বাংলাদেশ আপনাদের সহযোগিতা করবে। আপনারা কলঙ্কমুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করুন। আগামী ১২ তারিখের পর দেশ কেমন হবে—তা আপনাদের ভূমিকার ওপরই নির্ধারিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি জানি ধানের শীষের অনেক নেতাকর্মী আছেন, যাদের ওপর নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তারা কষ্টে রয়েছেন এবং গোপনে আমাদের এসব কথা জানান। তারা এসব করতে চান না। বর্তমানে হাইব্রিড বিএনপি এসে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করছে। আপনারা তাদের কাছে যাবেন। তারা ধানের শীষের মিছিল নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন ঠিকই, কিন্তু ভোট দেবেন ১১-দলীয় ঐক্যজোটে। আপনারা তাদের কাছে আমার এই দাওয়াত পৌঁছে দেবেন।’
স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘যারা জমি দখল করে, টেন্ডারবাজি করে তারাই আজ আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। দাড়িপাল্লা ও শাপলা কলির বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সবাইকে নিয়ে একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর যশোর-৩ মনোনীত প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সাকিব শাহরিয়ার।
এর আগে হাসনাত আব্দুল্লাহর আগমন ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষও ভৈরব চত্বরে জড়ো হন তার বক্তব্য শোনার জন্য। জোটের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন।
এদিকে পথসভাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।