বিএনপির ইশতেহার
বিএনপির ইশতেহার © টিডিসি ফটো
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানী একটি হোটেলে এই ইশেতেহার প্রকাশ করে দলটি।
৪৪ পৃষ্ঠার ইশতেহারে শিক্ষা ও মানব সম্পদ উন্নয়ন নিয়ে মোটি ৪১টি আশ্বাস দিয়েছে দলটি। এতে বলা হয়, বিএনপি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী, উৎপাদনমুখী এবং সময় উপযোগী করে গড়ে তুলবে। বিএনপি'র শিক্ষানীতি হবে জীবনমুখী। শিক্ষার সকল স্তরে জোর প্রদান করা হবে, তবে প্রাথমিক শিক্ষায় জোর দেওয়া হবে বেশি। মৌলিক মূল্যবোধ শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হবে। বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদা ভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া হবে।
শিক্ষাখাতে জিডিপি'র পাঁচ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ প্রদান
শিক্ষাখাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপি'র পাঁচ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হবে। এই অর্থ কেবল ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে, বিশেষকরে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষকের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতার ওপর জোর দেয়া হবে। তাঁদের যথাযথ ট্রেনিং দেওয়া হবে। প্রযুক্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাসামগ্রীর উন্নয়নে জোর দেয়া হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ভবিষ্যতে ক্রমান্বয়ে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে।
ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের শিক্ষকদের আধুনিক ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা অর্জনসহ সার্বিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্যাবলেট কম্পিউটার প্রদান করা হবে।
মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন
শিক্ষামূলক ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্টারি ও অনলাইন কনটেন্টের মাধ্যমে কারিকুলাম ও নৈতিক শিক্ষার জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে।
লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস (আনন্দময় শিক্ষা)
ক্লাস সিক্স থেকে দলগত কাজ, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন (পার্সোনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট), পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলা হবে।
বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা
দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জাপানিজ, কোরিয়ান, ইতালিয়ান, ম্যান্ডারিন ইত্যাদি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে চালু করা হবে।
সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা
আত্মকর্মসংস্থান এবং দেশ ও বহির্বিশ্বে চাকরির সুযোগ তৈরিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ এবং যোগ্য করে গড়ে তুলতে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। সিলেবাস এমনভাবে সাজানো হবে যেন একটা পরিবার যদি তার সন্তানকে এস.এস.সি কিংবা ইন্টারমিডিয়েটের বেশি না পড়াতে পারে, তাহলে সেই শিক্ষা দ্বারাই যেন সে নিজের জন্য কর্মসংস্থান করে নিতে পারে।
ক্রীড়া ও দেশীয় সংস্কৃতি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি
মননশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার ইত্যাদি খেলা এবং সংগীত, নাটক ইত্যাদি সাংস্কৃতিক বিষয় পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হবে।
স্বাস্থ্য ও খাদ্যে অগ্রাধিকার
শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী সবার জন্য পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ এবং সারাদেশে পর্যায়ক্রমে প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য 'দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল)' চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক
গণিত, বিজ্ঞান, তৃতীয় ভাষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, আইটি ও কারিগরিসহ সকল বিষয়ে মেধাবী তরুণদের শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী করে গড়ে তুলে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিদ্যমান সকল ক্যাডার ও নন-ক্যাডার শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব
শিক্ষার সকল স্তরে জোর প্রদান করা হবে, তবে প্রাথমিক শিক্ষায় জোর দেওয়া হবে বেশি। পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি মৌলিক মূল্যবোধ শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হবে। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের আকর্ষণীয় বেতন, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
শিক্ষাখাতে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য নিরসণ
শিক্ষা ধনিক শ্রেণির একচেটিয়া অধিকার নয়। ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের জন্য গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার সুযোগকে অনগ্রসর এলাকার জনসাধারণের দ্বার-প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রতিভা অন্বেষণ ও উপযুক্ত সুযোগ করে দেয়ার মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ উন্মোচন করবে বিএনপি।
ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু
শিক্ষাখাতে ডিজিটাল সুবিধা বাড়াতে স্কুল, কলেজ, ক্যাফে ও লাইব্রেরিতে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে সহায়তা করবে এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখবে।
'বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস' প্রদান
শিক্ষার্থীদের সরকারিভাবে 'বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস' প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপি'র। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো: সামাজিক মর্যাদার স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় দিবসগুলোতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল এবং মাদ্রাসা শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
'শিক্ষা সংস্কার কমিশন' গঠন
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে 'শিক্ষা সংস্কার কমিশন' গঠন করা হবে। প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামে ব্যবহারিক এবং কারিগরি শিক্ষাকে প্রধান্য দিয়ে ঢেলে সাজানো হবে। পর্যায়ক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিকে ইংরেজি পাঠ্যপুস্তকের ওপর স্পিকিং টেস্ট চালু করা হবে। দেশের ও প্রবাসী শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে 'বিশেষজ্ঞ কমিটি' গঠন করা হবে। মূল লক্ষ্য হবে প্রাথমিক পর্যায় থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, বহু ভাষা, ক্রীড়া, কৃষ্টি এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নসহ বাস্তাবানুগ বিষয়সমূহ শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা।
গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের আহতদের সহায়তা প্রদান
বিগত বছরগুলোতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন এবং জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের ছেলে-মেয়েদের এবং গুরুতর আহত হয়ে অঙ্গহানি ও পঙ্গুত্ব বরণকারী জুলাই শিক্ষার্থী যোদ্ধাদের এবং তাদের শিক্ষার্থী সন্তানদের বিশেষ শিক্ষা প্রণোদনা প্রদান করা হবে।
সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ
মানসম্মত সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ আর্লি চাইল্ডহুড ডেভলপমেন্ট (ইসিডি) নিশ্চিত করা হবে, যাতে শিশুর জ্ঞানভিত্তিক ও সামাজিক বিকাশ শক্ত ভিত্তির উপর গড়ে উঠে। ভালো বই ও ভালো সিলেবাসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামাজিক, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। মাতৃভাষায় শিক্ষাকে গুরুত্বারোপ করা হবে। পাশাপাশি, একটি সমন্বিত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষানীতি গ্রহণ করে এই শিক্ষা ব্যবস্থায় সুশাসন ও গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের শিক্ষা উন্নয়ন
দৈহিক, মানসিক এবং আবেগগতভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের যথোপযুক্ত শিক্ষা অর্জনের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, বিশেষ শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষা উপকরণসহ পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা এডু-আইডি প্রবর্তন
প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের থাকবে একটি অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা এডু-আইডি এই আইডির মাধ্যমে জানা যাবে কে কতদূর শিখল, কোথায় পিছিয়ে আছে, কোথায় এগিয়ে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে।
ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি কর্মসূচি বাস্তবায়ন
শিক্ষার্থীদের একটি সুন্দর এবং ভালো ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথিকৃৎ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএনপি শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করবে। 'ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি (একটি শিশু একটি গাছ)' কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুকে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা হবে।
শিক্ষার্থীদের পোষ্য প্রাণী পালন উৎসাহিতকরণ
প্রতিটি স্কুলে পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ছোট ছোট টিম করে পোষ্য প্রাণী পালনকে উৎসাহিত করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হবে তাদের মধ্যে দায়িত্বজ্ঞান উন্নত করা। শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
গ্রীষ্মের ছুটির কর্মমুখী ব্যবহার
স্কুল-কলেজে গ্রীষ্মের ছুটিকে ভাগাভাগি করে 'কর্মমুখী শিক্ষা' চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পৃথক শিক্ষা চ্যানেল
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য জাতীয় টিভিতে একটি পৃথক শিক্ষা চ্যানেল চালু করা হবে।
সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ উন্মুক্ত করা
আমাদের আগামী দিনের লক্ষ্যটাই হবে যাদের মাঝে সুপ্ত প্রতিভা লুকিয়ে আছে (যেমন: কেউ কেরাত পাঠে ভালো, কেউ সংস্কৃতির কোনো বিষয়ে ভালো, কেউ অঙ্ক ও ইংরেজিতে ভালো কিংবা কেউ খেলাধুলায় ভালো), এই প্রতিভাবানদেরকে ধীরে ধীরে বের করে নিয়ে আসা এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের পথকে উন্মুক্ত করে দেয়া।
সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা সৃষ্টিতে গুরুত্বারোপ
শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের হয়ে গঠনমূলক সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করা হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগীকরণ
ধর্মীয় শিক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা এবং ফ্রিল্যান্সিং সংক্রান্ত কোর্সসমূহ শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি, দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটসমূহে কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিতে নানাবিধ প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। মাদ্রাসার কারিকুলামে পেশাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই সংস্কারের আওতায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, আইটি এবং ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে, যাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা উৎপাদনশীল কাজ, দেশে-বিদেশে চাকরি, অন্যান্য পেশা ও উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ে। উল্লেখ্য যে বিএনপি সর্বশেষ রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকাকালীন কওমী মাদ্রাসার 'দাওরায়ে হাদিস' সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রীর সমমান ঘোষণা করে।
কওমী সনদ স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বাধা দূরীকরণ
কওমী সনদ স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে। কওমী সনদধারীদের বিদেশে (যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ) ধর্মীয় উচ্চশিক্ষালাভে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হবে।
সরকারি চাকরির নিয়োগে অগ্রাধিকার
যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ, বিশেষত সরকারি মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সেনা বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনীর ধর্মীয় শিক্ষক কাম ইমাম, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সার্টিফিকেটধারীদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
হাফেজে কুরআনদের সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদান
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে সকল হাফেজে কুরআন, ক্বারী এবং আলেম কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবেন, তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতির কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নতুনকুঁড়ি কোরআন তেলাওয়াত প্রবর্তন: নতুনকুঁড়ি কোরআন তেলাওয়াত প্রবর্তন করা হবে।
গবেষণায় গুরুত্বারোপ
শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হবে। জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষা ও গবেষণার প্রাণকেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হবে। তথ্য প্রযুক্তিখাতে দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বড় কোম্পানির জন্য কর্পোরেট শিক্ষানবীশ আইন চালু করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাত যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়ন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আটটি আঞ্চলিক শাখায় বিভক্ত করা হবে। প্রতিটিতে একজন উপ-উপাচার্য নিয়োজিত থাকবেন, যাতে প্রশাসনির ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পাঠক্রম যুগোপযোগী ও শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ক্ষমতায়ন
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে অধিকতর ক্ষমতায়ন ও শক্তিশালী করা হবে, যেন এটি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সার্বিক কৌশলগত নেতৃত্ব প্রদান করতে সক্ষম হয়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়কে কর মুক্ত রাখা
বেগম খালেদা জিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৯১ সনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুরু হওয়ার পর দেশের উচ্চশিক্ষার সম্প্রসারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অসামান্য অবদান রেখে আসছে। বিদেশে ব্রেন ড্রেন রোধ করে একদিকে বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে, অপরদিকে দেশি প্রতিভা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষা সম্প্রসারণের স্বার্থে এ সকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষা প্রদান কর মুক্ত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থীদের সমস্যা দূরীকরণ ও মানোন্নয়ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন ও লাইব্রেরি সমস্যা দূরীকরণে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিনামূল্যে শিক্ষা সম্প্রসারণ
মেয়েদের স্নাতকোত্তর এবং ছেলেদের জন্য স্নাতক ও সমপর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
দুর্গম অঞ্চলে ঝরে পড়া রোধে উদ্যোগ গ্রহণ
পার্বত্য অঞ্চল, হাওরাঞ্চল ও চরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতের বরাদ্দে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে একটি শিশুও শিক্ষায় আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।
নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত কমনরুম ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী সংবলিত বিশেষ 'ভেন্ডিং মেশিন' স্থাপনের প্রয়াস নেয়া হবে।
শিক্ষদের অবসর ভাতা প্রাপ্তি সহজীকরণ
পেনশনের আওতাভুক্ত শিক্ষকরা যেন অবসর প্রাপ্তির পরপরই অবসর ভাতা সহজে স্ব-স্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যান সেরকম সহজ ও ডিজিটাল পেমেন্ট মডেল তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ড্রাষ্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধি
শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করতে এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ড্রাষ্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে। ফলে শিক্ষার্থীগণ হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করবে, যা কর্মজীবনে ব্যাপক হারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদান
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদান করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করা। তাঁরা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে 'উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনষ্টিটিউট', 'সায়েন্স পার্ক' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ার ইত্যাদি আয়োজনকে উৎসাহিত করা হবে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ড লোন প্রদান ও ব্যাংক ঋণের জটিলতা দূরীকরণ
বিদেশের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জনের সুবিধার্থে মেধাবীদের স্টুডেন্ট লোন প্রদান এবং ব্যাংক থেকে ঋণ প্রাপ্তির জটিলতা দূরীকরণ করা হবে। কোনো ছাত্র বা ছাত্রী যদি কোনো সম্ভাবনাময় বৈদেশিক চাকরির বাজারে (জাপান, চায়না, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ইত্যাদি) ল্যাঙ্গুয়েজ বা কারিগরি শিক্ষার জন্য পড়তে যেতে চায়, তাহলে ব্যাংক ঋণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি প্রোগ্রাম এবং এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ
বিদেশি বিশেষজ্ঞদের জন্য ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি প্রোগ্রাম চালু করে যৌথ গবেষণা তত্ত্বাবধান এবং ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কর্মশালা আয়োজনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বহির্বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।