২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে গবেষণা

ফলাফল প্রকৃত গণনায় নয়, কেন্দ্রীয়ভাবে পূর্বনির্ধারিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৭ PM
আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র ও ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে ভোট কারচুপি করা হয়েছে—এমন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউট। ‘ভোট ছিনতাই: বাংলাদেশের তথ্যনির্ভর নির্বাচন কারসাজি’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি নির্বাচন পরিচালনা ও ফলাফল ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনের প্রধান গবেষক শাহজেব মাহমুদ ও কালিম আহমেদ জানান, ১ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে একটিও অবৈধ ভোট গণনা হয়নি—যা একটি ম্যানুয়াল ও কাগজভিত্তিক ভোট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রায় অসম্ভব। তাদের মতে, এই তথ্য নিজেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

প্রতিবেদনে ১৫০টি নির্বাচনী এলাকার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১ হাজার ৬টি কেন্দ্রে কোনো ধরনের ত্রুটি ছাড়াই ‘নিখুঁত’ ব্যালট রেকর্ড করা হয়েছে। অথচ বাস্তব নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানবিক ভুলের হার গড়ে ৩ থেকে ৫ শতাংশ থাকে। গবেষকদের দাবি, এসব ফলাফল প্রকৃত গণনার মাধ্যমে নয়, বরং কেন্দ্রীয়ভাবে পূর্বনির্ধারিতভাবে তৈরি করা হয়েছে।

তবে সব কেন্দ্রে একই চিত্র দেখা যায়নি। উলুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা গেছে যে প্রতি ৩টি ব্যালটের মধ্যে প্রায় ১টি (২৯.০৬%) বাতিল করা হয়েছে। অথচ অবিশ্বাস্যভাবে, বাকি বৈধ ভোটের ৯৮.২৩% পেয়েছেন একজন নির্দিষ্ট প্রার্থী।

এছাড়া শেরপুর-১ আসনের ৩২টি কেন্দ্রে ‘রাশিয়ান টেইল’ নামে পরিচিত অস্বাভাবিক প্যাটার্নের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে একযোগে অতিরিক্ত ব্যালট জমা পড়েছে এবং তার ৯৯ শতাংশের বেশি ভোট একজন নির্দিষ্ট  প্রার্থীর অনুকূলে গেছে। প্রতিবেদনে এটিকে ব্যালট স্টাফিংয়ের উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের ফলাফলগুলো গাণিতিকভাবে একদম 'নিখুঁত' (যোগফলগুলো কাগজে-কলমে ঠিক আছে)। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ভোটারদের আসল আচরণকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল খাতা-কলমে হিসাব মেলানোর জন্য পরিকল্পিত চেষ্টা করা হয়েছে। 

ভোটার উপস্থিতির ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক প্রবণতার কথা বলছে গবেষণা। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল ২৮ শতাংশ, কিন্তু শেষ দুই ঘণ্টায় তা হঠাৎ বেড়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছায়। এই আকস্মিক বৃদ্ধিকে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের ফল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কপট (KOPOT) ফলাফল ড্যাশবোর্ড এবং ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপটি মালিকানাভিত্তিক ও স্বচ্ছতাহীন হওয়ায় এর ভেতরের কার্যপ্রণালি জনসমক্ষে যাচাইয়ের সুযোগ নেই। কোনো প্রকাশিত ট্রান্সমিশন লগ না থাকা এবং স্বাক্ষরিত ভোটকেন্দ্র ফরমের সঙ্গে ডিজিটাল ফল মিলিয়ে দেখার বাধ্যবাধকতা না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি একটি ‘ব্ল্যাক বক্সে’ পরিণত হয়েছে, যা নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে।

আগামী ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনার জন্য প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পরিচয় ডাটাবেসের ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং সব ডিজিটাল ফলাফল স্ক্যানকৃত ও স্বাক্ষরিত ভোটকেন্দ্র ফরমের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে মিলিয়ে যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আদালত ভবন থেকে পড়ে কলেজ ক্যাশিয়ারের মৃত্যু, রহস্য ঘিরে তদন্ত
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
মেসির এক গোল, দুই অ্যাসিস্ট, জয় দিয়ে বিদায় আর্জেন্টাইন মহাত…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বিদায়ী ম্যাচে অবশেষে গোলের দেখা মেসির, ৩-০ ব্যবধানে আর্জেন্…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শি…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ভোরে বিদায়ী ম্যাচে মাঠে নামছেন মেসি, মোবাইলে খেলা দেখবেন যে…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
চসিক ভবনে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বগার অবস্থান, গ্রেফতা…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬