দ্য উইককে নাহিদ ইসলাম

অতীতে ভালো শাসন করেনি বিএনপি, বাংলাদেশের মানুষ নতুন নেতৃত্ব চায়

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৩ PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম © টিডিসি ফটো

দ্য উইককে নাহিদ ইসলাম
জোট ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে না
নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রশ্নে মূল অবস্থান ক্ষুণ্ন হলে জোট থাকবে না 

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্য উইককে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সাক্ষাৎকারে জামায়াত–এনসিপি জোট, সংখ্যালঘু ইস্যু, ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কসহ কয়েকটি ইস্যুতে নাহিদ ইসলামের কাছে জানতে চেয়েছে দ্য উইক। দ্য উইকের পর্বেক্ষণ বলছে, প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর লক্ষ্য নিয়ে সংস্কারপন্থী শক্তি হিসেবে এনসিপি যাত্রা শুরু করলেও, নির্বাচনী বাস্তবতায় এনসিপি জামায়াতে ইসলামি ও অন্যান্য ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে জোটে যেতে বাধ্য হয়েছে। যা দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। নাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতিতে টিকে থাকা এবং সংসদে অবস্থান নিশ্চিত করতে নির্বাচনী সমঝোতা অপরিহার্য। তাঁর মতে, সংসদে সীমিত প্রতিনিধিত্বও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের লক্ষ্য রাষ্ট্রের সংস্কার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। 

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো:

আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত–এনসিপি জোটের সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?
আমরা জোটের অংশ হিসেবে ৩০টি আসনে নির্বাচন করছি। এনসিপি কতটি আসন পাবে, তা বলা কঠিন—কারণ আমরা নতুন দল এবং আগে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নেই। তবে আমরা আশাবাদী যে, এনসিপি ও পুরো জোট ভালো ফল করবে এবং নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে।

এই জোট কি কেবল নির্বাচনী জোট, নাকি আদর্শগত ভিত্তিও আছে?
এটি মূলত নির্বাচনী সমঝোতা, জোটের দলগুলোর মাঝে আসনভিত্তিক সমন্বয় হয়েছে। তবে কিছু অভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যমত আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিপ্লব-পরবর্তী সংস্কার। এ লক্ষ্যে একটি ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাব। সরকার গঠন হলে সংস্কার প্রস্তাবগুলো যৌথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়াও দুর্নীতি বন্ধ করা ও সুশাসন আমাদের আরেকটি প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আধিপত্যবাদ, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রভাব—বিরোধিতাও আমাদের অভিন্ন কর্মসূচির অংশ। আমরা মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি চাই।

এই জোট ক্ষমতায় এলে কি বাংলাদেশ ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে?
না। জামায়াত জানিয়েছে যে তারা উদার নীতির মধ্যেই থাকবে। যদি জোট সরকার গঠিত হয়, ধর্মতান্ত্রিক সরকার হবে না। এটি হবে  গণতান্ত্রিক সরকার এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়গুলো অবশ্যই গুরুত্ব পাবে। এটি এনসিপির অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের মূল অঙ্গীকার।

সরকার পরিচালনার ঘাটতি আছে—এমন উদ্বেগ বা সমালোচনাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
বাংলাদেশের মানুষ নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব চায়। তথাকথিত অভিজ্ঞ দলগুলো, যেমন বিএনপি—অতীতে খুব ভালো শাসন দিতে পারেনি। মানুষ ভিন্ন কিছু দেখতে চায়।

জামায়াত চরম ডানপন্থী আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন সমালোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে যে উদ্বেগ আছে, তা আপনি কীভাবে দেখছেন?
জোট নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজন হলে এসব বিষয় ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। বর্তমানে আমাদের আলাদা আলাদা ইশতেহার রয়েছে। জামায়াত তাদের আগের অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছে এবং জানিয়েছে যে তারা পুরোনো মূল আদর্শের ভিত্তিতে সরকার গঠন করবে না। তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও এমনকি জাতীয় সরকারের কথাও বলছে। তবে নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রশ্নে আমাদের মূল অবস্থান ক্ষুণ্ন হলে এই জোট থাকবে না।

ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড কি বৃহত্তর জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে?
হ্যাঁ। ওসমান হাদির হত্যার পর আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো সক্রিয় হয়েছে এবং জুলাই আন্দোলনের নেতাদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে। শুরুতে আমরা এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার কথা ভেবেছিলাম, কিন্তু এখন এসব শক্তির মোকাবিলা করা বেশি জরুরি।

যারা এনসিপির কাছ থেকে স্বাধীন রাজনীতি আশা করেছিলেন, তাদের কাছে জোটের ব্যাখ্যা কী?
এটি বাস্তব প্রয়োজন থেকে নেওয়া একটি নির্বাচনী সিদ্ধান্ত। আমরা যদি মিত্রদের সঙ্গে মিলে আমাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে তা দেশের জন্যই উপকারী হবে। তবে আমাদের আদর্শ যদি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আমরা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব। এই মুহূর্তে জুলাই আন্দোলনের শক্তিগুলোর সংসদে প্রবেশ অত্যন্ত জরুরি।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কি দলের ভেতরে মতবিরোধ ছিল?
এই সিদ্ধান্তে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য সমর্থন দিয়েছেন। কিছু মানুষ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। প্রায় ১০–১২ জন দল ছেড়ে গেছেন। আমরা তাঁদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি এবং এখনও স্বাগত জানাই। এটি ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।

সাবেক কিছু এনসিপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন।
আমরা তাঁদের শুভকামনা জানাই। জুলাই আন্দোলনের নেতাদের সবাইকে এক দলেই থাকতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
সবচেয়ে বড় অর্জন হলো সংস্কারের জন্য গণভোটের উদ্যোগ। সরকার অর্থনীতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে, তবে আইনশৃঙ্খলা ও জনপ্রত্যাশা ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়েছে। তবুও সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জাতি অধ্যাপক ইউনূসের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল, যা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। পুরোনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অভিজাত শক্তিগুলো দ্রুত সংগঠিত হয়ে সংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপি যদি পরবর্তী সরকার গঠন করে, এনসিপির অবস্থান কী হবে?
জনগণের ম্যান্ডেটে গঠিত যেকোনো সরকার আমরা মেনে নেব। সংস্কার, গণভোট পাস হলে এবং সরকার তা বাস্তবায়ন করলে আমরা স্থিতিশীলতার স্বার্থে সহযোগিতা করব। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে—পুনর্গঠন জরুরি। কে ক্ষমতায় আছে, তার চেয়ে জাতীয় ঐক্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে কীভাবে দেখছেন?
আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক চাই। তবে ভারতকে তার বাংলাদেশ নীতি পরিবর্তন করতে হবে। সীমান্তে হত্যা, পানিবণ্টন সমস্যা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হবে। ভারত যদি শেখ হাসিনা ও রায়প্রাপ্ত অন্যদের ফেরত দেয়, তাহলে ভালো সম্পর্ক সম্ভব; অন্যথায় সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠতে পারে।

রাষ্ট্রীয়-জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নের প্রতি…
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নারীকর্মীদের হেনস্তার প্রতিবাদে যশোরে জামায়াতের নারীকর্মীদে…
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা জামায়াত…
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা সুইডেন ও কোরিয়া বিএ…
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অনার্স পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়বেন নারী শিক্ষার্থীরা
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানও যুক্ত হচ্ছে শিক্ষা …
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬