সাবিরা সুলতানা মুন্নী © সংগৃহীত
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নীকে পৃথক দুটি কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। আগামী ২৯ জানুয়ারি সশরীরে অথবা মনোনীত উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কমিটির প্রধান গোলাম রসুল এসব নোটিশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জকে নোটিশ জারিপূর্বক জারির প্রতিবেদন কমিটির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনি অভিযোগ নং–০১/২০২৬ অনুযায়ী, যশোর–২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মো. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের প্রেস সেক্রেটারি তারিকুল ইসলাম তারেক কর্তৃক দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ জানুয়ারি ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তিপুর গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে নারী ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনার সময় ধানের শীষের প্রার্থীর কর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে হামলা চালান। অভিযোগে নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করা, মোবাইল ফোন ভাঙচুর ও ছিনিয়ে নেওয়া, ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাই এবং প্রাণনাশের হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়। এতে অন্তত ১০ জন নারী কর্মী আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
অভিযোগে যুবদল নেতা আরাফাত রহমান কল্লোলসহ ১০–১৫ জনের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫ এর ১৫(গ) ও ১৫(ঘ) বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অপরদিকে, নির্বাচনি অভিযোগ নং–০২/২০২৬ এ বলা হয়, চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনকালে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত রঙিন ফেস্টুন, ব্যানার ও পোস্টার দেয়ালে সাঁটানো অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা আচরণ বিধিমালা–২০২৫ এর ৭(গ) ও ৭(ঙ) বিধির লঙ্ঘন।
অভিযোগের বিষয়ে সাবিরা সুলতানা বলেন, ‘রঙিন পোস্টার ও ব্যানারগুলো অনেক আগের। বিএনপি বৃহৎ দল, অনেক কর্মী–সমর্থক। পূর্বে দল ও আমার প্রতি ভালোবাসার জায়গা থেকে নিজ নিজ উদ্যোগে এগুলো টাঙিয়ে ছিল। সেটা আমার জানার বাইরে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যখন এসব পোস্টার ব্যানার সরানোর নির্দেশনা দিয়েছিল; তখন থেকে আমি প্রতিনিয়ত নেতা কর্মীদের সরানোর নির্দেশ দিচ্ছি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যেহেতু শোকজ করেছে, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই জবাব দেব।’