ব্রাহ্মণবাড়িয়া চারটি আসনে স্বতন্ত্র ছয় প্রার্থী © সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী দিয়েও স্বস্তিতে নেই বিএনপি। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে মাঠে রয়েছে দলের ছয় হেভিওয়েট নেতা। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল) আসনে বহিষ্কৃত নেত্রী রুমিন ফারহানার অনড় অবস্থান– শরিক দলের প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত জেলায় বিএনপির দুজনসহ ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে এখনো ৪টি আসনে বিএনপির ছয় নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে আছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে ইতোমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে দলীয় প্রার্থী আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে লড়ছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামান এবং বহিষ্কৃত নেতা ইকবাল চৌধুরী। কামরুজ্জামান ও ইকবাল দুজনেই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ায় তৃণমূলের বড় একটি ভোটব্যাংক তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসন। এখানে বিএনপি তার শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জুনায়েদ আল হাবীবকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা এবং ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি তরুণ দে এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় এই দুজনকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, ‘মজলুম’ অবস্থায় দলের হয়ে কাজ করলেও এখন তাকে নিগৃহীত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ (নবীনগর) আসনে আব্দুল মান্নানের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন (তাপস)। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই নাজমুলই ধানের শীষ প্রতীকে লড়েছিলেন।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকিকে সমর্থন দিলেও সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছে বিএনপি নেতা সাইদুজ্জামান কামাল।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা নির্বাচন করছেন, তাদের জন্য দলের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। তবে মাঠের কর্মীরা বলছেন, বিদ্রোহীদের কারণে বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় শরিক দলের প্রার্থীরাও এখন চরম দুশ্চিন্তায়।