মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া © সংগৃহীত
সম্প্রতি অনুষ্ঠিতব্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা। একইসঙ্গে পরীক্ষা বাতিলের দাবিও তুলেছেন তাদের একটি অংশ। এ অবস্থায় প্রাথমিকের প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ৫টি করণীয় জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
সম্প্রতি অনুষ্ঠিতব্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের স্পষ্ট আলামত শিক্ষার্থীদের কাছে রয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। প্রাথমিকে এমনিতেই মেধাবীরা আসতে চায় না, কিংবা চাকরি হলেও নানা অনিয়ম আর স্বল্প সুবিধার করণে পরবর্তীতে অন্য ভালো চাকরিতে শিফট করে ফেলে। সেখানে প্রশ্নফাঁস চক্র ও ডিভাইস চক্রের মাধ্যমে শিক্ষক হয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি প্রাথমিক এডুকেশনকেই ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দলেরই কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত। রাষ্ট্রের প্রতিটি নিয়োগ মেধাভিত্তিক হওয়ার দাবিটিই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান মূল আকাঙ্ক্ষা।
এই মুহূর্তে ৫টি কাজ খুবই জরুরি হয়ে উঠেছে:
এক. প্রশ্নফাঁসের পুরো চক্র যতই শক্তিশালী হোক না কেন সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। যেন ভবিষ্যতে কেউ প্রশ্ন ফাঁসের সাহস না করে!
দুই. জেলাভিত্তিক পরীক্ষা না নিয়ে শুধু ঢাকা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষাগুলো নেওয়া।
তিন. প্রাইমারি যেহেতু অনেক বড় সেক্টর সেক্ষেত্রে প্রশ্নফাঁস রোধে শুধু প্রিলি আর সংক্ষিপ্ত ভাইভার পরিবর্তে লিখিত পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশনের মতো করা যেতে পারে; একই সাথে প্রিলি লিখিত পরীক্ষা। যারা প্রিলি উত্তীর্ণ হবে তাদেরই লিখিত খাতাটা দেখা হবে। সময়ও কম লাগবে।
চার. আসন্ন নির্বাচনের পরেই তিনটা কর্ম কমিশন হচ্ছে (জেনারেল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য)। পরবর্তী প্রাইমারি পরীক্ষাগুলো পিএসসি (শিক্ষা) কর্তৃক নেওয়া। সম্পূর্ণ আর্থিক অটোনমি দিয়ে তিনটা পিএসসিকে যদি সুষ্ঠুভাবে ফাংশন করানো যায় এবং নিয়োগ পরীক্ষাগুলো যদি ধীরে ধীরে পিএসসির অধীনে নিয়ে আসা যায় তাহলে অন্তত মেধাভিত্তিক নিয়োগটা নিশ্চিত হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উপর তরুণদের ট্রাস্ট বৃদ্ধি পাবে।
পাঁচ. মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং উপরিউক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব, যদি এই বিষয়ে পলিসি মেইকার আর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম সিরিয়াসনেস থাকে। রাজনৈতিক নেতারা আর দলগুলোই বোঝেই না যে, এটা এদেশের লক্ষ তরুণদের কত বিশাল স্বপ্ন, যে তাদের পরীক্ষাগুলো ফেয়ার ও মেধাভিত্তিক হবে।