জামায়াতসহ শরিক দলগুলোর লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসন সমঝোতা নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক এগারো রাজনৈতিক দলের মধ্যে টানা কয়েক দিন ধরে আলোচনা ও দরকষাকষি চলছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াত মোট ১১০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত মোট ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রেখে বাকি আসনগুলো নিয়ে অন্যান্য শরিক দলের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে চায়। এর মধ্যে নিজস্ব জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দলটি ১৭০টি আসন নির্দিষ্ট করেছে, যেগুলোতে কোনোভাবেই অন্য দলকে ছাড় দিতে চায় না। এ ছাড়া আরও ২০টি আসন নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। এসব আসনে অন্য দলকে প্রার্থী দিলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে না—এমন বিবেচনায় ওই ২০টি আসনেও জামায়াত প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
যদিও এখনো আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি, তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১১ দলের মধ্যে মোটামুটি একটি সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। এতে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি আসন, ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টিকে (এনসিপি) ৩০টি আসন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি আসন, খেলাফত মজলিসকে ৭টি আসন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ৪টি আসন, এবি পার্টিকে ৩টি আসন এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে জামায়াত সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন ৪০টির বাইরে আরও কয়েকটি আসন দাবি করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের একাধিক বৈঠক হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন যে অতিরিক্ত আসনগুলো চাচ্ছে, সেগুলোর কয়েকটিতে জামায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও প্রার্থী রয়েছে। শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তা ও প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করে ইসলামী আন্দোলনকে আরও কয়েকটি আসনে ছাড় দিতে পারে জামায়াত।
আরও পড়ুন: এলপিজি মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা চায় জামায়াত
এবি পার্টিকে তিনটি আসনে ছাড় দিয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ফেনী-২ আসনে এবং দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ফুয়াদ) বরিশাল-৩ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। এই দুটি আসনে জামায়াত কোনো প্রার্থী দেয়নি। এ ছাড়া পটুয়াখালী-১ আসনে এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার প্রার্থী হয়েছেন। যদিও এ আসনে জামায়াতের প্রার্থীও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তবে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হলে জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) দুটি আসন ছাড় দেওয়া হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ময়মনসিংহ-৯ আসনে এবং মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম ভোলা-৩ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। এসব দল এক বা দুটি করে আসন পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক এগারো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে আরেকটু বোঝাপড়ার বাকি আছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত করে জানানো হবে।’