ড. ফয়জুল হক © সংগৃহীত
সম্প্রতি ‘জীবনে কোনো ইবাদত না করেও কেউ যদি বিড়ি (সিগারেট) টেনে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেয় আর তা আল্লাহ কবুল করেন, তাহলে তার পেছনের সব গুনাহ মাফ’— এমন মন্তব্য করেন ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক। তার এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন। তার এই বক্তব্য Dr. Fayzul Huq The Youth Leader of Bangladesh নামের ফেসবুক পেজে লাইভ করা হয়। তিনি তার ফেসবুক পেজ থেকেও ভিডিওটি প্রচার করেন। পরে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চার মিনিট ২২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা দৈনিক বিড়ি খান না? ১০টা বিড়ি যে দোকান থেকে খাবেন, ওই দোকানে গিয়ে বিড়ি অর্ডার দেবেন আর লগলগে বিড়ি ধরিয়ে একটা সুখটান মাইরা বলবেন—কী, খবরডা কী, ক দেহি। কারবারডা কি দেশের অবস্থা দেখছ, দাঁড়িপাল্লা ছাড়া এ দেশে তো আর কোনো মানুই দেহি না। শোনেন, আমি তো গল্পের ছলে বলি, তাই বলার কারণে আপনাদের আনন্দ লাগতেছে। কিন্তু এমনও হইতে পারে, আমার ভাই হয়তো কখনো ইবাদত করার সুযোগ পায় নাই; ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে ওই দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়া আল্লাহর দ্বারে কবুল হইয়া যায়, এমনও হইতে পারে, পেছনের সব মাফ কইরা দিয়া আল্লাহ তারে তো ভালোও কইরা দিতে পারে। অতএব, যেকোনো অবস্থাতেই বসে থাকবেন না।’
বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ড. ফয়জুল হক বলেন, ‘আমার বক্তব্যটি মিসলিড করা হয়েছে। একজন এমপি প্রার্থী হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে হয়। সমাজে দাঁড়িওয়ালা, দাঁড়ি ছাড়া মানুষ, বিড়ি বা সিগারেট খায় এমন মানুষও আছেন। আমি বিশেষ করে দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশে বলেছি—আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় একটি ভোট চাইবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে থাকতে মানুষ ভালো হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ চাইলে তাকে মাফ করতেও পারেন। আমাদের আলেমরা ওয়াজ মাহফিলে ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’—এ ধরনের উদাহরণ দেন। আমি বলেছি, আল্লাহ তাকে মাফ করলেও করতে পারেন। আমার সম্পূর্ণ ভিডিও আমার ফেসবুক পেজে আছে। পুরোটা দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’