তারেক রহমান © সংগৃহীত
বাম দলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টে’র নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না। জোট নেতাদের সঙ্গে এই সাক্ষাতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি,আইনশঙ্খলা- অর্থনৈতিক অবস্থা, আসন্ন সংসদ, উগ্রবাদের উত্থান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রভতি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
সোমবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে সিপিবির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, সহকারি সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার ও বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাসদকে নিয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট গঠন করে ৯টি বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল।
বৈঠকের পরে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, প্রধানত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার সন্তান হিসাবে এবং পরিবার বর্গকে সমবেদনা জানাইতে আমরা এসেছি। উনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন আসার পরে মাতৃবিয়োগ…শোকাহত পরিবার ও দল সেটাকে আমরা সহমর্মিতা সমবেদনা এগুলো জানাতে এসেছি।
তিনি বলেন, এর বাইরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়ে। এখানে এই যে মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক শক্তি তাদের যে আস্ফালন… এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বজলুর রশীদ জানান, উনি (তারেক রহমান) একটা জিনিসকে বলেছেন যে, ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পরেই আমি বক্তব্যে যেটা বলছি যে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না। কাজেই সেটা ৯০’র গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪’র গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা সেগুলোকে ধরেই আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উনি যেটা বলেছেন উনার কথা যে, আমাদের এখানে বিশ্বাসী থাকবে, অবিশ্বাসী থাকবে, সংশয়বাদী থাকবে….সবাইকে নিয়েই আমাদেরকে এখানে চলতে হবে। আমরা একটা উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণমূলক যে রাষ্ট্র সেই রাষ্ট্রের পরিকল্পনা আমাদের আছে। আমরা সেইভাবেই কাজ করতে চাই এবং অতীত থেকে আমরা শিক্ষা নিতে চাই এবং জনগণ আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মানুষের যাতে সুবিধা হয়, সুযোগ সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারে সেটা শুধু পরিকল্পনা না সেটা ইমপ্লিমেন্টেশনের দিকেও আমরা যেতে চাই।
বজলুর রশীদ বলেন, উনি বলেছেন, আমাদের বিরোধী দল থাকবে অপোজিশন থাকবে। আপনাদের সাথে হয়তো অনেক বিষয় আমাদের মতপার্থক্য আছে, থাকবে কিন্তু আবার বিভিন্ন দেশের প্রশ্নে জনগণের প্রশ্নে সেগুলো আমরা নিশ্চয়ই বিনিময় করব। মাঝে মাঝে আপনাদের পরামর্শ থাকলে আমাদেরকে দিবেন…আমরা যেটা গ্রহণ করার, সেটা আমরা গ্রহণ করব। এরকম বললেন যে, একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে উঠুক।
বজলুর বলেন, আমরা বলছি যে, একটা পলিটিক্যাল কালচার এখানে গড়ে তোলা দরকার যে, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা, ফিলোসফিক্যাল টলারেন্স যেটা গণতন্ত্রের একটা পূর্ব শর্ত এবং সেখানে একটা নির্বাচন সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সেগুলোর কথা আমরা বললাম।
বজলুর রশীদ বলেন, আমরা বলছি যে একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি স্বাধীনতা বিরোধী তারা যাতে বাংলাদেশের মধ্যে রাজনীতিতে সেই ভাবে ইয়ে না করতে পারে এবং আমরা যেটা বলছিলাম যে জামায়াতে ইসলামী তারা এসে বললো যে জাতীয় সরকারের থাকবে...।