স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পার হলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি: তারেক রহমান 

১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৩ PM , আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:০৪ PM
তারেক রহমান

তারেক রহমান © সংগৃহীত

মহান স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পার হলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ ছিল যাদের অভিষ্ট লক্ষ্য। কিন্তু অর্ধশতাব্দি পার হলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র বারবার মৃত্যুকুপে পতিত হয়েছে। একদলীয় দু:শাসনের বাতাবরণ তৈরী করে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ প্রতিহত করা হয়েছে। অনেক রক্ত ঝরলেও মত প্রকাশ, লেখা ও বলার স্বাধীনতা সংকটের দুর্বিপাক থেকে আজও মুক্ত হতে পারেনি। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং বহু পথ ও মতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ বাস্তবায়িত হবে।

তিনি বলেন, ১৪ ডিসেম্বর মূলত: জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন, স্বাধীনতার পক্ষে কলম ধরেছিলেন। তাদের জীবন ও কর্ম আজও আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে।

তারেক বলেন, দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা দেশকে মেধাশুন্য করার গভীর চক্রান্ত। কারণ স্বাধীনতার বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করা। বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা আজও সারা জাতিকে বেদনাবিধুর করে। তবে তাদের রেখে যাওয়া আদর্শ অর্থাৎ জ্ঞান বিজ্ঞান, মুক্ত চিন্তা, ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সম্প্রীতির চেতনা উন্নত ও প্রগতিশীল দেশ গড়ার প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নিহত শিক্ষক, চিকিৎসক, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পীসহ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তারেক রহমান। পাশাপাশি আজকের এই শোকাবহ দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। 

অপর এক বাণীতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্তক্ষণে জাতির মুক্তির জন্য জীবন দানকারি বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর সকল বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। জীবন উৎসর্গকারি বুদ্ধিজীবীদের ত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বাধীনতা ও জ্ঞানচর্চার জন্য তাদের ত্যাগ কখনও জনমন থেকে মুছে যাবে না।

দেশের সকল শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ ও সৃষ্টিশীল মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক-শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা জাতির মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যবোধের স্ফুরণ ঘটিয়ে ছিলেন। তাদের কলম ও মেধা আমাদের আত্মপরিচয়ের সন্ধান দেয়। তাদের রক্তে ভেজা বাংলায় যেকোন চক্রান্তকারি অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করার প্রেরণা দেয়। দেশের জন্য তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ আজও আমাদের পথ প্রদর্শক। হানাদার বাহিনী ভেবেছিল দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করলেই এই দেশ নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু তাদের সেই অমানবিক পরিকল্পনা সফল হয়নি।

ফখরুল বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা স্বপ্ন দেখেছিলেন গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। কিন্তু তাদের স্বপ্নকে ব্যর্থ করা হয়েছে বারবার একদলীয় দু:শাসন কায়েম করে। জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খাকে স্টিমরোলার চালিয়ে স্তব্ধ করা হয়েছে। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্টদের পতনের পর থেকে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমে নানা ঝড়ঝাপ্টার আঘাত এখনও সহ্য করতে হচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার সর্বজনীন অধিকার, সেটির সম্পূর্ণ পুনরুজ্জীবন ঘটাতে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে। তাহলেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

আনসার ব্যাটালিয়ন অফিস কমপাউন্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
সরকারের ঋণ নিয়ে ঢাবি অধ্যাপকের ছড়ানো তথ্য সঠিক নয়
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
‘নির্ধারিত সময়ের আগে সরকারি বাসা ছেড়েও মিডিয়া ট্রায়ালের শিক…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
শেরপুরে সেই জামায়াত নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
‘শহীদের মায়ের আবেগকে অবমাননা অমানবিক ও নিন্দনীয়’
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
জুলাইয়ে শহীদ সাংবাদিক মেহেদির বাবাকে মারধর, অভিযোগ বিএনপির …
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬