ঢাকা-৬ আসন
কনসেন্সাস ডায়লগ অন পলিটিক্যাল হারমনি শীর্ষক সংলাপ © টিডিসি ফটো
একই টেবিলে পাশাপাশি বসে আছেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণ অধিকার পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রতিনিধি। তাদের সামনে বসেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও গণমাধ্যম কর্মীরা। এসময় প্রার্থীরা প্রতিজ্ঞা করেন রাজনৈতিক সহাবস্থান ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে একসাথে কাজ করবেন বলে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিযোগিতা ও মুখোমুখি অবস্থানের মাঝেও রাজনৈতিক সম্প্রীতির এমন এক অনন্য চিত্র দেখা গেছে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংলাপে।
এফসিডিও'র আর্থিক সহায়তায় 'বি-স্পেস' প্রজেক্টের আওতায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরামের (এমএএফ) আয়োজনে আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে 'কনসেন্সাস ডায়লগ অন পলিটিক্যাল হারমনি' শীর্ষক এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, 'আমি যদি নির্বাচনী জয়ী হই, প্রথমেই বিজিত প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপ করবো। তাদের উন্নয়ন ভাবনাগুলো শুনবো এবং একই লক্ষ্যে কাজ করবো। আর যদি পরাজিত হই, তবে নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী জয়ী প্রার্থীকে সহযোগিতা করবো।'
নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমার নির্বাচনী আসনে সাইবার টিম গঠন করে যেকোনো ধরনের অনলাইন সহিংসতা বন্ধের জন্য আমরা কাজ করবো। আমার দলের কোনো নেতাকর্মী যদি নারীদের হয়রানির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাই, তবে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।'
গণ অধিকার পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থী ফখরুল ইসলামও একই অঙ্গিকার করে বলেন, আমাদের রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে দেশ গঠনে আমরা সবাই একসাথে কাজ করতে চাই।
এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মুহাম্মদ মুরসালিন তার বক্তব্যে দুর্নীতি বন্ধ, পরিবেশ দূষণ রোধ ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের বিষয়ে জোর দেন। তিনি বলেন, ২০২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছিল নারীরা। কিন্তু আমরা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নারীদের জন্য একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে পারিনি। ফলে দেশ গঠনের জন্য নারীদের প্রত্যাশিত অংশগ্রহণ অনেকাংশে কমে যাচ্ছে।
দেশকে এগিয়ে নিতে হলে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণের বৃদ্ধি করতে হলে অনলাইন ও অফলাইনে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। সেজন্য যেমন রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করা প্রয়োজন, তেমনই একটি সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা আবশ্যক।
সংলাপে প্রার্থীরা নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ, অনলাইন ও অফলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থী ও দলের মধ্যে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত ও যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে একসাথে কাজ করবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আশরুপা হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় সংলাপে প্রার্থীদের কাছে নাগরিক প্রত্যাশা তুলে ধরেন এবং অনলাইন হয়রানি বন্ধে ও রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিতে সুপারিশ তুলে ধরেন ঢাকা এমএএফের প্রতিনিধি মো. আলমগীর হোসাইন লাবু, শাহীনুর নার্গিস, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, সাবরিনা রহিম প্রিয়া, রোকেয়া জাবেদ মায়া, ইনজামুল হক, দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী, হাওয়া আক্তার তোহা, সায়রা চন্দ্রা চাকমা ও আরমানুল হক। সংলাপে সমাপনী বক্তব্য দেন এমএএফের সহ-সভাপতি ও বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টু।
এর আগে সংলাপের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান। তিনি নির্বাচনে ভোটারদের অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন। এসময় নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে একটি উপস্থাপনা করেন প্রতিষ্ঠানটির মুখ্য পরিচালক ড. আব্দুল আলীম।
সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজনের প্রশংসা করেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি একটি অভূতপূর্ব ঘটনা যে নির্বাচনের আগে সবগুলো দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা একই টেবিলে বসে সংলাপ করছেন এবং সবাই একই উদ্দেশ্যে কাজ করবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হচ্ছেন। রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য এ ধরনের আলোচনার বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য, মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এমএএফ) একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে নাগরিক, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে এবং জনগণের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোকে সামনে রেখে কাজ করেন।