বললেন জামায়াত আমির

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বিদেশে গিয়ে আসছেন না, আমরা মেধাগুলো দেশে ফেরানোর পক্ষে 

২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১৪ PM
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের দেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা নিজের মেধা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজে লাগিয়েছে। কিন্তু দেশে তারা পরিবেশ পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করতে বিদেশে গিয়ে আর আসছেন না। তারা বলছেন, দেশ তো আমাকে চাই না, আমাদের সম্মানের জায়গা তৈরি করে দেন, আমরা আসব।’

আজ রাজধানীতে চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫-এ ‘অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ সেশনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘আমাদের সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তাহলে তারা দেশে এসে আমাদের নেতৃত্ব দিতে পারবে। আমরা এই মেধাগুলো দেশে ফেরানোর পক্ষে। সমাজ নিরাপত্তা দিতে পারেনি তাদের, সবাইকে নিরাপত্তা দিতে হবে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই দেশের অর্থনীতিতে গরীব-ধনী সবাই কন্ট্রিবিউট করছেন। দেশের শিল্পপতি ও ভিক্ষুক সবাই ট্যাক্স দেয়। ভিক্ষুক পণ্য কিণতে গেলে ভ্যাট ট্যাক্স দিতে হয়। ছোট বাচ্চার জন্য যখন মা-বাবা আত্মীয় স্বজন জিনিসপত্র কেনে, সেখানেও ট্যাক্স দেয়। তাই বলা যায়, ওই শিশুও ট্যাক্স পে করে।’

দেশে এত ছোট জায়গায় বেশি মানুষের বাস পৃথিবীর কোথাও নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব, যদি পরিকল্পনা থাকে। ২৫ ভাগ মানুষ জনসম্পদে পরিণত হওয়া থেকে ঝরে যায়। প্রান্তিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক সক্ষমতা না থাকায় তারা ড্রপ আউট হচ্ছে। তাদের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নেয়া উচিত, কিন্তু তা হচ্ছে না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তারা কোনো কাজ শুরু করতে গেলে নানা জটিলতায় আটকে যাচ্ছে। ৫ বছরে সফলতার কথা থাকলেও এসব জটিলতায় তা ১০ বছর লেগে যাচ্ছে। সমাজে চাঁদা, দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের মনে শঙ্কা তৈরি হয়, নতুন করে কাজ শুরু করতে চায় না তারা।’

আরও পড়ুন: খেলাপী ঋণ কমাতে সময় লাগবে ৫ থেকে ১০ বছর: গভর্নর

বিদেশিদের বিনিয়োগের কথা বললে তারা বলে, ‘তোমার দেশে স্থিতিশীলতা নেই, সেটা নিশ্চিত করলে আমরা আসব’, এমন তথ্য জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এটা শুধু বিদেশিদের কথা না, দেশের মানুষেরও কথা। অনেকে বলেন ব্যবসায়ীরা সুবিধাবাদী। এর দায় রাজনীতিবিদদের। আমরা দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য কনফোর্ট জোন তৈরি করতে পারিনি। কিন্তু সেটা তৈরি করতে হবে, একটা কাউকে না কাউজে এগিয়ে আসতে হবে। 

তিন জায়গা ঠিক হলে সব ঠিক হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষা হবে প্রফেশনাল, স্কিলড হবে, কৃষক হলেও সে হবে স্কিলড। দুর্নীতি সব জায়গায়। মসজিদে ইমাম মুয়াজ্জিন নিয়োগেও কিছু লেনদেন করতে হবে। এটা আামকে বিস্মিত করে। দুর্নীতি যারা করেন, তারা নিজেও অন্য জায়গায় দুর্নিতির শিকার হতে পছন্দ করেন না। তার মানে, সবাই দুর্নীতিকে ঘৃণা করে। হয়তো বাধ্য হয়ে বা সিস্টেমের কারণে বাধ্য হচ্ছে।

জাস্টিস ফর এভরিওয়ান, এই তিনটি নিশ্চিত করলে সমাজ ভালোর দিকে আগাবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এটি না হলে অর্থনীতিসহ নীতিবোধ নষ্ট হবে। রাজনৈতিক স্বদিচ্ছাই মূল। তবে একদিনে হবে না, আস্তে আস্তে হবে। বিপ্লবী পরিবর্তন নয়, যৌক্তিক পরিবর্তনের দিকে এগোনো আমরা।’

মাধ্যমিকে নির্মাণ হচ্ছে ৪ হাজার অ্যাকাডেমিক ভবন
  • ১১ জুন ২০২৬
বাজেট গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা: প…
  • ১১ জুন ২০২৬
সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীর সমন্বয়ে প্রতি উপজেলায় ‘এমপ্লয়মেন…
  • ১১ জুন ২০২৬
খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাতা বাড়ছে
  • ১১ জুন ২০২৬
নতুন অর্থবছরে স্কুল ড্রেস পাবে যেসব এলাকার শিক্ষার্থীরা
  • ১১ জুন ২০২৬
‘গণবিরোধী-লুটপাটের বাজেট’: প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ
  • ১১ জুন ২০২৬
×