টাঙ্গাইলের ৮ আসনে কোন দলের অবস্থান কেমন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

২০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৫ PM , আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৫ PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন © টিডিসি সম্পাদিত

রাজধানীর নিকটবর্তী রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা টাঙ্গাইল। জেলায় মোট সংসদীয় আসন ৮টি। শিক্ষা-সংস্কৃতি ও রাজনীতির তীর্থভূমি হিসেবে খ্যাত টাঙ্গাইলে জন্মেছেন অসংখ্য গুণীজ্ঞানী ও কৃতিমান মানুষ। যাদের জন্য দেশ-বিদেশে গর্বিত বাংলাদেশীরা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এরই মধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রায় আসনেই নিজেদের একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তারা নিজ দলের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ। 

টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ৮টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩২ লাখ ৯৭ হাজার ৮২২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ লাখ ৫২ হাজার ৬৯৮, মহিলা ভোটার ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ৯৮ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৬ জন।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দলটির প্রতাপবিস্তারী নেতারা আত্মগোপনে চলে গেছেন। সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা) ফ্যাসিস্ট সরকারের তল্পিবাহী ও দোসর ও সুবিধাবাদীতাসহ নানা অভিযোগে রাজনৈতিক ময়দানে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও তারা বর্তমানে রাজনীতির মাঠে নিষ্ক্রিয়। ফলে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বর্তমানে রাজনীতির মাঠে রয়েছে জামায়াত, নতুন গড়ে উঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ও অন্যান্য ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলো। জেলার প্রায় প্রতিটি আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। একাধিক আসনে রয়েছে গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল। অন্যান্য দলের মধ্যে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, খেলাফতে মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন, জাকের পার্টি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন থেকে টাঙ্গাইলে রাজনৈতিক-সামাজিক অঙ্গণে আমূল পরিবর্তন এসেছে। নির্বাচনী মাঠের হিসাব-নিকেশ অনেকটাই পাল্টে গেছে। তবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবেন বলে আশা রাজনৈতিক দলগুলোর। 

টাঙ্গাইল-১: মধুপুর-ধনবাড়ী উপজেলা মিলে সংসদীয় আসনটি গঠিত। সদর আসনের মতো জেলার রাজনীতিতে আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি-জামায়াত ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীরা প্রচারণায় রয়েছেন। ইতিমধ্যে এ আসনে আওয়ামী লীগ ৮ বার, বিএনপি ৩ বার ও জাসদ ১ বার নির্বাচিত হয়েছেন।

এ আসনের বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এরমধ্যে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহম্মদ আলী, লে. কর্নেল (অব.) আসাছুল ইসলাম আজাদ, টাঙ্গাইল জজ কোর্টের পিপি শাহজাহান কবীর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান সুজা ও ধনবাড়ী নওয়াব এস্টেট মতোয়াল্লি আফিফ উদ্দিন আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে। 

এছাড়া, জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন জেলা শাখার পেশাজীবী সম্পাদক ও মধুপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোন্তাজ আলী। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুন অর রশীদ, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) অলিক মৃ, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জেলার সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক মাওলানা কেএম আনছার আলী রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন সাবেক এমপি ও ডাকসুর সাবেক সদস্য খন্দকার আনোয়ারুল হক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন এডভোকেট ইলিয়াস হোসেন মনি।  

এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে মাঠে দেখা যায়নি। এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের আমলে প্রভাবশালী কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। বর্তমানে তিনি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। 

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিগত সময়ে আমি আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছি। মধুপুর-ধনবাড়ীতে উন্নয়নের নামে অনেক লুটপাট হয়েছে। আমাদের নামে মিথ্যা মামলা ও নির্যাতন করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্র করে আমি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।

জামায়াতের প্রার্থী মোন্তাজ আলী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিগত সময়ে এ আসন থেকে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে, তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। আর বর্তমানে মধুপুর ও ধনবাড়ীতে ব্যাপকহারে চাঁদাবাজি চলছে। এসব থেকে সাধারণ মানুষ মুক্ত হতে চায়।

টাঙ্গাইল-২: গোপালপর-ভূঞাপুর দুটি উপজেলা নিয়ে টাঙ্গাইল-২ আসন গঠিত। এ আসনে আওয়ামী লীগ ৬ বার, বিএনপি ৪ বার, জাসদ ও জাতীয় পার্টি (এরশাদ) একবার করে জয়লাভ করে। সর্বশেষ দুইবারের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির হাসিনা সরকার পতনের পর গা ঢাকা দিয়েছেন।

এবার এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু। তিনি প্রায় ১৭ বছর পর কারাভোগ শেষে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। তিনি এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী। আব্দুস সালাম পিন্টু এ আসন থেকে তিনবার এমপি হয়েছিলেন। সে হিসেবে তার রয়েছে ‘ক্লিন ইমেজ’। 

অন্যদিকে একক প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হুমায়ুন কবির মনোনয়ন পেয়ে প্রচারণায় নেমেছেন। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে দলটির দপ্তর সম্পাদক ও উচ্চতর সদস্য শাকিল উজ্জামান গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এছাড়া খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি আব্দুল মালেক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফজলে বারি ভুয়াপুরী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে মাঠে দেখা যায়নি। 

স্থানীয়রা বলেন, বিগত সময়ে এ আসনে উন্নয়ন হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিলো ব্যাপক। এবার শুধু কথায় নয়, কথার সাথে কাজের মিল থাকবে এমন প্রার্থীকেই আমরা ভোট দিব। যাকে আমরা সার্বক্ষণিক পাশে পাবো ও জনগণের খোঁজখবর যিনি রাখবেন-আমরা এমন একজনকে প্রত্যাশা করছি। 

জামায়াতের প্রার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, রাজনৈতিক সহনশীলতা, দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি মুক্ত সমাজ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত হতে হবে। উন্নয়নের প্রথম শর্ত হচ্ছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দরকার। সহনশীল মনোভাব দরকার। জাতি নতুন কিছু ও পরিবর্তন চাচ্ছে। 

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাকিলউজ্জামান বলেন, দেশের মানুষ এখন প্রচলিত রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে তরুণদের দিকেই তাকিয়ে আছে। মানুষের সেই আস্থা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

টাঙ্গাইল-৩: সমতল আর পাহাড়ের সমন্বয়ে ঘাটাইল উপজেলা নিয়ে টাঙ্গাইল-৩ সংসদীয় আসন গঠিত। জেলার ৮টি আসনের মধ্যে এ আসনটিও গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক, কর্মীসভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিএনপিতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক গ্রুপিং। ইতঃপূর্বে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৫ বার, বিএনপি ৫ বার, জাতীয় পার্টি ১ বার ও ২ বার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। দীর্ঘদিন এ আসনটিতে রাজত্ব করেছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। এবারের প্রেক্ষাপট আলাদা।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এ আসনের চিত্র পাল্টে গেছে। ভোটও বিভক্ত হয়ে যাবে- জাতীয়তাবাদী ও ইসলামপন্থি এ দুই ধারায়। এ আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি। তবে জামায়াত জোর চেষ্টা চালাচ্ছে এ আসনটি নিজেদের ঝুলিতে নিতে। 

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির। কিন্তু দীর্ঘদিনের ওই এলাকায় প্রতিনিধিত্বকারী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ মাঠ ছাড়েননি। তিনি ও তার সমর্থক নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই মাঠ গরম রাখছেন। এমনকি কয়েক হাজার নারী ও সাধারণ মানুষ গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন এলাকায় এসে মনোনয়ন বদলের বিক্ষোভও করেছে। এই দুইজনের বাইরে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলামও প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এদিকে, জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হোসনী মোবারক বাবুল। চমক দেখাতে তিনি বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া প্রচারণায় রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাইফুল্লাহ হায়দার, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ঘাটাইল উপজেলার শাখার সভাপতি মুফতি বছির উদ্দিন বিল্পবী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মওলানা রেজাউল করিম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী মোফাখ্খারুল ইসলাম, জাকের পার্টির প্রার্থী আব্দুল আজিজ খান অটল। 

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ২০২১ সালে আমি ঘাটাইলে দলের দায়িত্বে রয়েছি। বিগত সময়ে আমার নামে একাধিক মামলা, নির্যাতন করা হয়েছে। কারা নির্যাতন সয়েছি। আমাকে দল মনোনয়ন দিয়েছে। বিজয়ের বিষয়ে আমি আশাবাদী।  

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মাইনুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দীর্ঘদিন আমি নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থেকে বিএনপির রাজনীতিকে সংগঠিত রেখেছি। তাই ধানের শীষের মনোনয়ন চাই। আমি ছাড়াও বিএনপির আরো দুই প্রার্থী রয়েছেন। কিন্তু দল আমাদের মনোনয়ন না দিয়ে একজন বহিরাগতকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু জনগণ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, তবে আমি আশাবাদী দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। ঘাটাইলের প্রধান সমস্যা হচ্ছে মাদক ও সন্ত্রাস। আমি নির্বাচিত হলে ঘাটাইলকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করবো। 

জামায়াতের প্রার্থী হোসনী মোবারক বাবুল বলেন, ঘাটাইলে জনগণের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। ঘাটাইলের অনেক রাস্তা বেহাল। আমি যদি নির্বাচনে নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে ঘাটাইলকে প্রত্যাশা অনুযায়ী গড়ে তুলবো। সেখানে যা প্রয়োজন তা গড়ে তুলবো। 

টাঙ্গাইল-৪: মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার খ্যাত কালিহাতী উপজেলা নিয়ে টাঙ্গাইল-৪ আসনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক কারণে সারাদেশে প্রায় সময়ই কালিহাতীর আসনটি ছিলো আলোচনায়। এ আসন থেকে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ও হেভিওয়েট ব্যক্তি সংসদ সদস্য হয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও জামায়াতের রয়েছে একক প্রার্থী। বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ ৬ বার, জাসদ (সিরাজ) ২ বার, জাসদ ১ বার, বিএনপি ২ বার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ২ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

এ আসনে এবার বিএনপির একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও দল থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান মতিন। যদিও বিএনপির দুঃসময়ে তিনি (২০১৮ সাল) দলীয় প্যাডে লিখিতভাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। 

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো ছাড়াও রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম মিয়া, ড্যাব নেতা ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শাখার উপদেষ্টা ডা. শাহ আলম, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির প্রেসিডিয়াম সদস্য একেএম আব্দুল আউয়াল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শুকুর মাহমুদ, মালয়েশিয়া প্রবাসী বাদলুর রহমান খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো। 

জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া প্রচারণায় রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলী আমজাদ হোসেন ও খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মুফতি আবদুর রহমান মাদানী। এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রয়াত শাহজাহান সিরাজের কন্যা ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা প্রার্থী হতে পারেন। 

নির্বাচনের বিষয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে ব্যারিস্টার শুক্লা জানান, এখনও আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ আছে। স্থানীয় জনগণ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে আমি সিদ্ধান্ত নেব।  

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বেনজির আহমেদ টিটো দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিগত সময়ে অনেক জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছি। দল যদি মনে করে আমাকে নমিনেশন দিবে তাহলে আমি নির্বাচন করবো।

জামায়াতের প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কালিহাতীতে বিগত ৫৪ বছরে আমাদের মুখ খুলতে দেয়া হয়নি। আমাদের মাঠে-ময়দানে কাজ করতে দেয়া হয়নি। এবার নির্বাচনে নেমেছি। আমি আশাবাদী অনেক ও সম্ভাবনা দেখছি।

টাঙ্গাইল-৫: রাজনৈতিক জেলা হিসেবে খ্যাত টাঙ্গাইল সদর আসনটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষানগরী হিসেবে খ্যাত এখানে শহরের পাশাপাশি রয়েছে নদী তীরবর্তী বিশাল চরাঞ্চল। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন ও অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই টাঙ্গাইল জেলার রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। এরপর থেকে টাঙ্গাইলে রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়ে আসছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। 

অন্যান্য আসনের মতোই টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী জোরেশোরে প্রচার প্রচারণা করে যাচ্ছেন। বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন পেতে কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। আলাদাভাবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নির্বাচনী বার্তা দিচ্ছেন ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক, যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাইদুল হক ছাদু, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক শাতিল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য ও সাবেক এমপি খালেদা পান্নার ছেলে ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান প্লেটো। এছাড়া, উপজেলা বিএনপির সদস্য সৈয়দ খালেদা মোস্তফা সদরের প্রতি হাটে-ঘাটে একা একা ঘুরে নিজেকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। 

সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে আছেন। বিগত ১৬ বছরের নির্যাতনের অবসানের পর নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন তারা। তবে, এখনও আসনটিতে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা না করা এদের পক্ষে পুরো নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে গণসংযোগে অংশ নিতে দেখা যায়। তবে জাতীয় ও দলীয় কর্মসূচিগুলো সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করছেন।  

কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিগত সময়ে সাধারণ মানুষ অনেক অবহেলিত ছিলো। আমি সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আন্দোলন, সংগ্রামে আমার ভূমিকা ছিলো। আশা করছি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তবে টাঙ্গাইল সদরে উন্নয়নের মডেল হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। সদরের জনগণ আমাকে আস্থায় নিয়েছেন। জনগণ যদি আমার উপর তাদের আস্থা রাখেন, তাহলে আমি অবশ্যই উন্নয়নের মাধ্যমে এর প্রতিদান রাখবো, ইনশাল্লাহ।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি এ আসনের ছেলে। আমি প্রায় ৩ যুগ ধরে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। আন্দোলন সংগ্রামে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছি। কারা-নির্যাতন ভোগ করেছি। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে দলকে সংগঠিত রেখেছি। আশা করছি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।

বিএনপি থেকে ধানের শীষে মনোনয়ন চান ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান প্লেটো। তার মা এ্যাডভোকেট খালেদা পান্না বিএনপি থেকে দুই দুইবার সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ছিলেন। আর নানা আব্দুর রহমান ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রীসভার ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। 

জিয়া দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না বরং মানুষের সুখ-দুঃখকে নিজের দায়িত্ব মনে করি। পারিবারিক নির্যাতনের মধ্য দিয়েও জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি অনড় অবস্থানই আমাকে মানবিক ও সাহসী নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে।

তিনি বলেন, যদি আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান আমাকে ধানের শীষের প্রতীক দেন, তবে আমি টাঙ্গাইলকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাব যেখানে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুযোগ সবার জন্য সমান হবে। শান্তি, উন্নয়ন, ন্যায়, আধুনিকতা ও সম্মান সংবলিত একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন জিয়া।

এদিকে, জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে দলের জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদ নিয়মিত গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিগত সময়ে জেলা শহরে কোন উন্নয়ন হয়নি। কেউই সততার সাথে দায়িত্ব পালন না করায় জনগণের অধিকার বাস্তবায়িত হয়নি। যে কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি।

এ আসনে এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মাওলানা ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সভাপতি আকরাম আলী, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ছানোয়ার হোসেন সরকার ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ প্রার্থী মুফতি শরিফুল ইসলাম কাসেমী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

অপরদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্বাচন উপলক্ষে সক্রিয় হয়ে উঠলেও পলাতক রয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর থেকেই তারা পলাতক রয়েছেন। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের কোনোনো নেতার ভোটের মাঠে নামার কোনো প্রস্তুতি দেখা যায়নি। এছাড়া, জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থীকেও নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে কোন প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না।

এ আসনের ভোটাররা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও জুলুম করা হয়েছে। যে দলের নেতাকর্মীর দ্বারা সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষতি হবে না আমরা তাদেরকেই ভোট দিবো।  

টাঙ্গাইল-৬: নাগরপুর ও দেলদুয়ার দুই উপজেলা নিয়ে টাঙ্গাইল-৬ আসন গঠিত। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৮ জন। তারা সবাই মাঠ পর্যায়ে বিএনপির ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি গণসংযোগ করছেন। সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দুজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী। অনেকেই বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদেরকে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এখানে আওয়ামী লীগ ৪ বার, বিএনপি ৫ বার, জাতীয় পার্টি ২ বার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ১ বার জয়লাভ করেছেন। সর্বশেষ দুইবারের এমপি সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু সরকার পতনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। 

স্থানীয় রাজনীতিবিদরা জানান, ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তিনি পরলোকগমন করায় এবার তার স্ত্রী দিপালী চক্রবর্তী বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এ আসন থেকে বিএনপির আরও ১৭ প্রার্থী মনোনয়ন চান। 

কিন্তু বিএনপি প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে রবিউল আওয়াল লাভলুকে। অন্য প্রত্যাশীরা হলেন-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নূর মুহাম্মদ খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, ঢাকা মহানগর উত্তরের জাসাসের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম স্বপন, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন, নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সদস্য মীর আবুল কালাম আজাদ রতন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন আরজু, উপজেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন খান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল ইসলাম রেজা, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা রাজীব আহমেদ, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শামীম চৌধুরী ওরফে বাবু চৌধুরী, দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপি নেতা জুয়েল সরকার, যুক্তরাজ্যের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সমাজসেবক মোহাম্মদ মাইনুল আলম খান কনক, দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম ফেরদৌস হোসেন। এছাড়া নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ ছালাম ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হবিও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা জানান, সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর অনেকেই বিএনপি দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সবাই বিএনপির হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে আছে। যদিও বিএনপি প্রাথমিক তালিকায় এ আসনের মনোনীত’র নাম ঘোষণা করেছে। তবে, বিএনপি সিদ্ধান্ত পরিবর্ন করবে বলে অন্যরা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান।  

এখনও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা প্রতিদিন সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। প্রার্থীরা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিকতা বাড়িয়ে দিয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ভোটের আমেজ সৃষ্টি করেছেন। প্রার্থীরা পাড়া-মহল্লার চায়ের আড্ডা, হাট-বাজার ও জনবহুল স্থানে ঘুরে ঘুরে ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট বিলি করেছেন। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন টাঙিয়ে নিজেদের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন।

এদিকে, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. একেএম আব্দুল হামিদ। এ আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় তিনি নিজেকে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে জানিয়েছেন। 

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আখিঁনুর মিয়া, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী দলের অঙ্গ সংগঠন শ্রমিক মজলিসের জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মান্নান শেখ, এনসিপির প্রার্থী মেজর (অব.) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কবীর হোসেন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ প্রার্থী মুফতি মাহফুজুর রহমান নিজ নিজ দলের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল-৭: রাজধানী ঢাকার সীমান্তবর্তী ও জেলার প্রবেশ দ্বার হওয়ায় টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) নির্বাচনী আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রথম উন্নীত উপজেলা মির্জাপুর উপজেলা নিয়ে টাঙ্গাইল-৭ নির্বাচনী আসন গঠিত। গোড়াইতে রয়েছে বিশাল শিল্পাঞ্চল, মহেড়াতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, কয়েক ইউনিয়নজুড়ে রয়েছে পাহাড়ী বনাঞ্চল, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা প্রতিষ্ঠিত উপমহাদেশের প্রখ্যাত কুমুদিনী হাসপাতাল, ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ ও মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ। রাজধানী ঢাকার পাশে শিল্পাঞ্চল সমৃদ্ধ মির্জাপুর আসনটি ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এখানে আওয়ামী লীগ ৬ বার, বিএনপি ৪ বার, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র ১ বার করে জয়লাভ করেছে। সর্বশেষ এমপি খান আহমেদ শুভ হাসিনা সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে গেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘোষণা করার পর থেকে নির্বাচনী মাঠে মির্জাপুরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েই চলেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা সভা-সমাবেশ ছাড়াও নানাভাবে শোডাউন করে যাচ্ছেন। বিএনপি দলের নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। 

এর বাইরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ঢাবির মহসীন হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক দিপু হায়দার খান, ডুয়েট ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সস্পাদক ও বহির্বিশ্ব বিএনপির সিনিয়র নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম খান, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা ছাড়েননি।

এদিকে, জামায়াতের টাঙ্গাইল জেলা শাখার কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ তালুকদার। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জেলার সভাপতি মুফতি আবু তাহের তালুকদার ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এটিএম রেজাউল করিম আল রাজি। 

বিএনপির দুই কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ও সাঈদুর রহমান সাঈদ সোহরাব পৃথকভাবে স্ব স্ব সমর্থক ও নেতাকর্মী নিয়ে নির্বাচনী মাঠে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী প্রতিনিয়তই সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। অপরদিকে জামায়াত থেকে এককভাবে মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ তালুকদার নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ইউনিয়নগুলোতে চষে বেড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক কাজে অংশ নিচ্ছেন। 

এছাড়া কৃষকদল নেতা দিপু হায়দার খান, গণঅধিকার পরিষদের তোফাজ্জল হোসেন ও বহির্বিশ্ব বিএনপির সিনিয়র নেতা আব্দুস সালাম খান এলাকায় ব্যানার, বিলবোর্ড ও পোস্টার সাঁটিয়ে নিজেদের জানান দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। 

টাঙ্গাইল-৮: সখীপুর ও বাসাইল উপজেলা নিয়ে টাঙ্গাইল-৮ আসন গঠিত। আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর জন্য আসনটি সবসময়ই আলোচিত। বিগত নির্বাচনগুলোতে এই আসনে আওয়ামী লীগ ৭ বার, বিএনপি ৩ বার, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১ বার ও জাতীয় পার্টি ১ বার জয়লাভ করেছে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রার্থী গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এ আসনে মূল লড়াই হবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর সাথে বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এ আসন থেকে এবার নির্বাচন করবেন। অপরদিকে এই আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান। 

এছাড়া লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সিআইপি সালাহ উদ্দিন আলমগীর রাসেল, উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ হাবিব, এশিয়াটিক গ্রুপের এমডি মনির আহমেদ মনা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ শফী শাওন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম তালুকদার, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাছিম এম খান রুনু বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এখনও হাল ছাড়েননি। গণসংযোগের পাশাপাশি ব্যানার, পোস্টার ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনসম্পৃক্তরা বাড়িয়ে চলেছেন। 

এদিকে, জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল জেলার সহকারী সেক্রেটারি ও বাসাইল উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম খান গণসংযোগ শুরু করেছেন। এছাড়া এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাজী মাওলানা আব্দুল লতিফ মিয়া, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শহীদুল ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর প্রার্থী মুফতি রুহুল আমিন নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আজম খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিগত সময়ের আন্দোলনে আমার অনেক ভূমিকা রয়েছে। আমি অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। আমাকে মনোনয়ন দিয়ে দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করছি নির্বাচনে বিজয়ী হবো। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করবো। বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আলমগীর রাসেল বলেন, আমি ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। অনেক আগে থেকেই এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করছি। তবে এবার বিএনপি থেকে যদি মনোনয়ন পাই, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য আরও কাজ করতে পারবো। উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি শেখ মুহাম্মদ হাবিব বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছরের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে আমাকে মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে আসনটি উপহার দেব।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সখীপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন সজিব বলেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী যতগুলো নির্বাচন করেছেন তার মধ্যে ৯৯ সালে মানুষের বেশি সাপোর্ট ছিল। আমরা মনে করছি এবার উনার প্রতি মানুষের আস্থা সবচেয়ে বেশি। কাদের সিদ্দিকী এবার গামছা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দুই উপজেলা অনেকটা উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। আমি সুযোগ পেলে নতুন মুখ হিসেবে এসব অবহেলিত অনেক এলাকায় কাজ করবো। একইসঙ্গে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত উপজেলা গড়ে তুলবো।

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ নিয়ে যা বলছে মন্ত্রণালয়
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
সিলেটের ছয়টি আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রতীক পেলেন যারা
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
এনএসইউর শিক্ষার্থীদের জন্য তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
রাবির ‘বি’ ইউনিটের প্রবেশপত্র ফের ডাউনলোডের সুযোগ
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
ধামরাইয়ে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ অভিযোগের সত্যতা মেলেনি, সরে…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিষ্ঠানপ্রধানসহ ৬ বিষয় নিয়ে এনটিআরসিএর সভা শুরু
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9