এমপি পদপ্রার্থী মো. খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল © টিডিসি ফটো
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ও গাজীপুর-৫ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মো. খায়রুল হাসান বলেছেন, ‘জুলাই সনদকে আইনী ভিত্তি না দিলে জুলাই বিপ্লব অকার্যকর হয়ে পড়বে। বিপ্লবীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসবে।’
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে সরকারি কালিগঞ্জ শ্রমিক কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং প্রায় দশ সহস্রাধিক ছাত্রজনতা অংশগ্রহণ করেন।
উপজেলা আমীর মো. আফতাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো. তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নরসিংদী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মকবুল আহমেদ, গাজীপুর জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও আইন বিষয়ক সম্পাদক মাস্টার মোখলেছুর রহমান, সাবেক উপজেলা আমীর মাওলানা মাহমুদুল হাসান, উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা বদিউজ্জামাল এবং কালিগঞ্জ পৌরসভার আমীর মাওলানা আমিমুল এহসান।
আরও পড়ুন: জুলাই বিক্ষোভে ভাঙচুরের পর এখনও তালাবদ্ধ তিতুমীরের আঁখি হল
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খায়রুল হাসান বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ আধিপত্যবাদ মুক্ত হয়েছে, জনগণ রাজনৈতিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সভা-সমাবেশের অধিকার ফিরে পেয়েছে। তবে এই অর্জন টিকিয়ে রাখতে হলে জুলাই জাতীয় সনদকে আইনী স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।
তিনি দাবি করেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এখনো সমতল মাঠ তৈরি হয়নি। আওয়ামী লীগপন্থীরা ধানের শীষে ভোট না দিলে কেন্দ্র থেকে নিরাপদে ফিরতে দেওয়া হবে না—এমন হুমকি দিচ্ছে, যাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটবে এবং ছোট রাজনৈতিক দলগুলো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। কিন্তু এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করছে তারা-ই যারা একদলীয় কর্তৃত্ববাদ কায়েম করতে চায়।
বিগত আওয়ামী সরকারের সময় সংঘটিত ‘জুলাই-আগস্ট গণহত্যা’ ও জুলুম-নির্যাতনের বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান করার দাবি জানিয়ে তিনি জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান। তার মতে, এ শক্তিগুলোই ছিল গণতন্ত্র ধ্বংসের প্রধান সহায়ক।
গাজীপুর-৫ আসনকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে খায়রুল হাসান বলেন, ‘সকল ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী-পেশার মানুষকে নিয়ে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও মানবিক জনপদ গড়ে তুলতে চাই। এজন্য দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’